কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ‘রাজ সিনেমা হলে ঈদে ‘আপগ্রেড’ সার্ভার এর মাধ্যমে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ দেখানো হচ্ছে
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ‘রাজ সিনেমা হলে ঈদে ‘আপগ্রেড’ সার্ভার এর মাধ্যমে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ দেখানো হচ্ছে

সিনেমার সার্ভার নিয়ে আলোচনা, এটি কীভাবে কাজ করে

পবিত্র ঈদুল ফিতরে সিঙ্গেল স্ক্রিনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনে নতুন সার্ভার নিয়ে এসেছে প্রযোজনা ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। ‘জাজ এক্সট্রিম ডিজিটাল মিডিয়া সার্ভার’ কীভাবে কাজ করে?

একসময় ফিল্ম রিলের মাধ্যমে সিনেমা প্রদর্শিত হতো। ৩৫ মিমি ফিল্ম রিলে সিনেমাটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হতো। পরিবেশকেরা এই ফিল্ম রিল সরাসরি সিনেমা হলে পৌঁছে দিতেন।

২০১২ সালের পর এই চিত্রে পরিবর্তন আসে। তখন সিনেমা ডিজিটাল হতে থাকে। জাজ মাল্টিমিডিয়া সিনেমা হলে ডিজিটাল সার্ভার বসাতে শুরু করে। এর পর থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিন হলগুলোতে সার্ভারের মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রায় ১৪ বছর পর প্রতিষ্ঠানটি পুরোনো সার্ভারটি ‘আপগ্রেড’ করেছে। মাস তিনেক ধরে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ঈদুল ফিতরে ‘প্রিন্স’ সিনেমার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাজ এক্সট্রিম ডিজিটাল মিডিয়া সার্ভারের যাত্রা শুরু করে।

কীভাবে কাজ করে এই সার্ভার
এই সিস্টেমে সিনেমাটি আগে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে প্রস্তুত করে এনক্রিপ্ট করা হয়, অর্থাৎ বিশেষ কোডের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়, যাতে অনুমতি ছাড়া কেউ কপি বা ব্যবহার করতে না পারে। এরপর সেই ফাইল জাজের মূল সার্ভারে আপলোড করা হয়।
প্রতিটি হলেও আলাদা সার্ভার থাকে। মেইন সার্ভার থেকে সিনেমাটি নির্দিষ্ট সিনেমা হলগুলোর সার্ভারে পাঠানো হয়। প্রতিটি হলের জন্য আলাদা ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে; এই তথ্য ব্যবহার করে হলগুলো সিনেমাটি ডাউনলোড করে চালাতে পারে। এ জন্য প্রতিটি হলে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন।

কোন সিনেমা কতদিন চলবে, প্রতিদিন কয়টি শো হবে—সবই নির্ধারণ করা হয় লাইসেন্সের মাধ্যমে। প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে শোর লাইসেন্স দেওয়া হয়। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে আর শো চালাতে পারবেন না হল মালিকরা। পরবর্তী সময়ে প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে আবার লাইসেন্স নিতে হয়।
প্রযোজকেরাও সার্ভারে সিনেমার তথ্য দেখতে পারেন—কোন কোন হলে চলছে, কয়টি শো হচ্ছে এবং লাইসেন্সের মেয়াদ কতদিন—সবই জানতে পারবেন প্রযোজক।

হলেও সার্ভার থাকে
দেশের প্রায় সব সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হলই জাজ মাল্টিমিডিয়ার সার্ভারের আওতায় রয়েছে। প্রতিটি সিনেমা হলে একটি করে সার্ভার থাকে, সেখান থেকে নির্ধারিত সিনেমা ডাউনলোড করা যায়। সেটিকে ডিজিটাল প্লেয়ার বলা হয়, এটির সঙ্গে প্রজেক্টরের সংযোগ থাকে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রধান সার্ভার থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিনেমার প্রদর্শনী করা হয়। পুরো ব্যবস্থাটি জাজের প্রধান কার্যালয় থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

পাইরেসি ঠেকাতে এই সিস্টেমে উন্নত এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক থাকে, যাতে কেউ রেকর্ড করলে তা কোন হল থেকে করা হয়েছে—সেটি শনাক্ত করা যায়।

‘প্রিন্স’ নিয়ে জটিলতা কেন
নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তির তিন দিন আগে পরিবেশককে সিনেমা সরবরাহ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সিনেমাটি পাওয়া যায়নি। ঈদের আগের দিন মধ্য রাতে সিনেমাটি পেয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ফলে হলে ডাউনলোডের কাজটি নির্ধারিত সময়ে হয়নি।
সিনেমাটি সার্ভারের আপলোডের পর প্রতিটি সিনেমা হলের জন্য আলাদাভাবে লাইসেন্স অ্যাসাইন করতে হয়। এরপরই হলগুলো তাদের সার্ভারে সিনেমা ডাউনলোড করে প্রদর্শন করতে পারে। ১২৫টির বেশি হলে একসঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। ফলে নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে সিনেমাটি ডাউনলোড করা যায়নি।

এ ছাড়া অনেক হলের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কোথাও ইন্টারনেটের সমস্যা, কোথাও প্রজেক্টর বা সার্ভারের ত্রুটি—এসব কারণে ডাউনলোড ও প্রদর্শনে দেরি হয়।