ফারুকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘শনিবার বিকেল’ কেন মুক্তি দিচ্ছেন না
ফারুকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘শনিবার বিকেল’ কেন মুক্তি দিচ্ছেন না

ফারুকী জানালেন, ক্ষমতায় থাকার পরও কেন হলে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দেননি

দুই বছর আগেও ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির জন্য সোচ্চার ছিলেন নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের বেশ জলঘোলা হয়। তারপরও সিনেমাটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মুক্তির অনুমতি পায়নি। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর এই নির্মাতা নিজেই সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে কেন সিনেমাটি মুক্তি পায়নি, এ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ফারুকীকে। এসব প্রশ্নের উত্তর এবার ফেসবুক পোস্টে জানালেন তিনি।

‘শনিবার বিকেল’ ছবির দৃশ্যে তিশা

ফারুকী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘“শনিবার বিকেল” কেন মুক্তি দিচ্ছেন না? অনেকেই মাঝেমধ্যেই আমার উদ্দেশ্যে এই হাওয়াই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন গত দেড় বছর। প্রশ্নের মধ্যে এমন একটা ভাব লুকাইয়া রাখা আছে অ্যাজ ইফ আমি এখন উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই। বিষয়টি তেমন নয়। হাহা হা।’

এই সময় ফারুকী পোস্টে জানান, তাঁর সিনেমাটি দেশে মুক্তি না পেলেও ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পায়। সেখানে থেকে পাইরেসি হওয়ায় সিনেমাটি দেশে মুক্তির উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ান।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

তিনি লিখেছেন, ‘বাস্তবতা হলো, ছবিটা সনি লিভে মুক্তি পাওয়ার পর হাজার হাজার অনলাইন লিংক ছড়িয়ে পড়ে। যার দেখার সে দেখে ফেলছে। আর কারও দেখা বাকি থাকলে সে এক সেকেন্ডেই দেখতে পারবে।’

যাঁরা সিনেমা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার কথা বলেন, তাঁদের উদ্দেশে ফারুকী লিখেছেন, ‘অনলাইনে অ‍্যাভেইলেবল একটা ছবি সিনেমা হলে কেন মুক্তি দিচ্ছেন না—এই দাবি একমাত্র তারাই করতে পারেন, যারা সিনেমা ব‍্যবসার সঙ্গে জড়িত না। বাংলাদেশের বাজারে একটা সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিলে কত টাকা আয় করে, এটা অন্দরমহলের লোক জানে। যেমন আমাকে কিন্তু তারা কেউ বলবেন না, “ব‍্যাচেলর” সিনেমা হলে এখন মুক্তি দিচ্ছেন না কেন? কারণ, দেয়ার ইজ নো বিজনেস লেফট।’

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার একটি দৃশ্যে

ফারুকী আরও লিখেছেন, ‘যারা কল্পনায় অনেক কিছু ভাবতে আনন্দ পাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমার ছোট মন্তব্য—আমি আমার বানানো সকল ছবিই ওউন করি। আগের মতোই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক (জ্বী ওটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ) যে কোনো উগ্রবাদ নিয়ে ছবিও করব। শিল্পীর ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে যেমন সংকট থাকার কথা না, তেমনি চেতনার নামে শত শত মানুষ গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলতেও সংকট থাকার কথা না।’