নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানী। পর্দার ব্যস্ততা শেষে ব্যক্তিজীবনে বরাবরই তাঁরা দুজন সন্তানদের ভবিষৎ নিয়ে সিরিয়াস। তবে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতি নন। ২৯ অক্টোবর ছিল এই দম্পতির মেয়ে ফাইজা আবিহা মৌসুমীর জন্মদিন। বিশেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মেয়েকে নিয়ে ভালোবাসা ও দোয়ার কথা লিখেছেন মা মৌসুমী। বাংলাদেশে থেকে ভিডিও কলে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাবা ওমর সানী।
মেয়ের জন্মদিনে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মৌসুমী লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, আমার রাজকন্যা! আমার চঞ্চল হরিণী, নয়নের মণি। হাঁটি হাঁটি পা করে কবে যে এত বড় হয়ে গেলে, সত্যি খুব অবাক লাগে! এই তো সেদিনের কথা, আমার কোলজুড়ে ছোট্ট একটা পুতুলের মতো দেখতে মিষ্টি একটা মেয়েকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম। আল্লাহ–তায়ালার কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাদের ঘর আলো করেছেন। আল্লাহ যেন তোমাকে নেক হায়াত দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী করেন। আমিন।’
মেয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এই পোস্টে মৌসুমী আরও লিখেছেন, ‘তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার, আমার হাসি, আমার গর্ব, আমার পৃথিবী। আল্লাহ যেন তোমার জীবন সুখ, শান্তি, ভালোবাসা আর সাফল্যে ভরিয়ে দেন। তোমার প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ হোক, তোমার মুখের হাসি যেন কখনো ম্লান না হয়। সব সময় ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, আর জীবনে অনেক বড় হও।’
মা হিসেবে মেয়েকে নিয়ে নিজের চাওয়ার কথাও জানিয়েছেন মৌসুমী। লিখেছেন, ‘মা হিসেবে আমার একটাই চাওয়া—তোমার জীবনের প্রতিটি দিন যেন আনন্দে ভরে থাকে। পৃথিবীর সব ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে আগলে রাখতে চাই আজীবন। তুমি আমার মেয়ে, আমার ভালোবাসা, আমার চিরদিনের সুখ। শুভ জন্মদিন, আমার রাজকন্যা! ফাইজা মণি, মায়ের ভালোবাসা আর দোয়া সব সময় তোমার সঙ্গে আছে, থাকবে ইনশা আল্লাহ।’
এদিকে দেশের বাইরে থাকলেও মেয়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি ওমর সানী। ভিডিও কলে ফাইজার সঙ্গে কথা বলার মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তিনি। একাধিক পোস্টে মেয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমার মা, আমার চোখের মণি ফাইজা। শুভ জন্মদিন, দোয়া ও শুভকামনা।’
মৌসুমী ও ওমর সানীর দুই সন্তানের মধ্যে ফাইজা ছোট। বাংলাদেশে ও লেভেল এবং এ লেভেল শেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কসমেটোলজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁদের বড় ছেলে ফারদীন এহসান স্বাধীন যুক্ত আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিষ্ঠিত আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। যদিও শুরুর দিকে ফারদীন পড়াশোনার পাশাপাশি নির্মাণ আর প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই ব্যবসায় নেই তিনি। অভিনয়শিল্পী বাবা-মায়ের পরিচয়ের বাইরে দুই সন্তানই নিজেদের মতো করে এগিয়ে নিচ্ছেন জীবন।
ওমর সানী শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বললেন, ‘মৌসুমী ও আমার দুজনেই কোনো কিছু ওদের ওপর চাপিয়ে দিইনি। দুজনের এ লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনা নিয়ে আমরা সিরিয়াস ছিলাম। এরপর দুজনে নিজেদের পছন্দমতো ফিল্ডে কাজ করতে চেয়েছে। পছন্দসই বিষয়ে পড়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাবা–মা হিসেবে আমরা দুজনে সন্তানদের ব্যাপারে রিজিট মনোভাব রাখিনি। ফারদীন এখন পড়াশোনা শেষ করে দুবাইয়ে খুব ভালো আছে। রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে আছে। অন্যদিকে আমাদের মেয়ে ফাইজা, কসমোটলজি নিয়ে পড়ছে, এটা নিয়ে তার আগামী জীবন সাজাতে চায়। বাবা–মা হিসেবে আমাদের দুজনের সমর্থন ওদের প্রতি আছে। আমাদের একটা কথা ওদের প্রতি, তোমরা তোমাদের মতো করে বেড়ে ওঠো। প্রতিষ্ঠিত হও। তোমাদের জীবন যেন মানুষের উপকারে আসে, এটাই শুধু চাওয়া।’