
বনলতা এক্সপ্রেস-এর সাফল্যের পর জীবন অপেরাসহ তিনটি সিনেমায় কাজ করেছেন। নিচ্ছেন ঈদের সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি। এক দশকের ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায় নিয়ে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন শরীফুল রাজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম
ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না
শরীফুল রাজ: ঘুরতে আর ফটোশুটের কাজে ঢাকার বাইরে এখন। যখন ফোন করেন, তখন আমি দেবতাখুমে বোট চালাচ্ছিলাম। এমন একটা লোকেশনে ছিলাম, কথা বলার মতো অবস্থাই ছিল না, নেটওয়ার্কও ছিল না।
১০ বছর পর ‘আইসক্রিম’ চরকিতে মুক্তি পেল, দেখলাম সেই রাতে আড্ডাও জমেছিল...
শরীফুল রাজ: একই সঙ্গে সেদিন (পরিচালক রেদওয়ান) রনি ভাইয়ের জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষেই সিনেমাটি ঘিরে আড্ডা হলো। ১০ বছর আগে কত কী করেছি! তখন তো ভাবিই নাই, আজকের মতো সিনেমাই করে যাব। সেই সময়ে শুটিংয়ে আমরা অনেক মজা করতাম। অনেক দৃশ্যের শুটিং নিয়ে মজার ঘটনা ঘটত। আড্ডায় এ টি এম শামসুজ্জামান ভাই, দিতি আপাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমাদের সিনেমার ৪ জন শিল্পী মারা গিয়েছেন। তাঁদের মিস করলাম।
প্রথম সিনেমা থেকে কোন শিক্ষাটা এখনো কাজে লাগছে?
শরীফুল রাজ: বলা যায়, আমার সবটাই প্রথম সিনেমা থেকে শেখা। রনি ভাই হাত ধরে ধরে শিখিয়েছেন। শুটিংয়ে গিয়েই অনেক কিছু জানলাম, বুঝলাম, শিখলাম। সিনেমার শুটিং, অভিনয়—সবকিছুর মধ্যে ভালো লাগা শুরু করল। তখন মনে হয়েছিল, আরও অনেক সিনেমা করা দরকার। সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।
পেশা হিসেবে অভিনয়কে নেওয়ার পরিকল্পনা তখন ছিল?
শরীফুল রাজ: অভিনয় করার তো ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কী হবে, না-হবে—এটা বুঝে উঠতে সময় লেগেছে। যেকোনো কিছুকে পেশা হিসেবে নেওয়া কঠিন। এখন অভিনয় এনজয় করছি। সেটাই ছিল আমার জীবনের সুন্দর সিদ্ধান্ত। এমনিতেই কম সিনেমা করি। সেই তুলনায় অনেক ভালো ভালো চিত্রনাট্য পাচ্ছি। এখন অনেক ভালো সিনেমা হচ্ছে। অনেকের কাছে আমার কাজের সংখ্যা কম মনে হতে পারে; তবে সব মিলিয়ে সিনেমা নিয়ে আমি ভালো আছি।
সিনেপ্লেক্স ছাড়া তো সিনেমা দেখার মাধ্যম এখন নেই...
শরীফুল রাজ: এ সময়ে সিঙ্গেল স্ক্রিনের সেই উপযোগিতা আর নেই। এখন সময় বদলেছে। এখন পরিবেশের দিক থেকে একটা হলকে গোছানো হতে হবে। ধুলাবালু, জরাজীর্ণ, এসি নেই—এমন পরিবেশে দর্শক সিনেমা দেখবে না, স্বাভাবিক। হলের পরিবেশ ঠিক হলে দর্শক অবশ্যই সিনেমা হলে যাবে। তবে হল ঠিক হলেই হবে না, সেই সঙ্গে ভালো সিনেমা দিতে হবে।
হল, দর্শক চাঙা রাখার জন্য বছরে কতটা ভালো সিনেমা দরকার?
শরীফুল রাজ: মিনিমাম ১২টা সিনেমা দরকার। এটা প্ল্যানিং করে মুক্তি দিতে হবে। এখন ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তির চর্চাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা ভালো উদাহরণ হতে পারে না। আমি নিজেও চাই ঈদ ছাড়া আমার সিনেমা মুক্তি পাক। বরং ঈদে একসঙ্গে অনেক সিনেমা মুক্তি পেলে আরও প্রেশার তৈরি হয়।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে হংকংয়ে গেলেন, কী অভিজ্ঞতা হলো?
শরীফুল রাজ: বিদেশে উৎসবে তো খুব বেশি যাওয়ার সুযোগ হয় না। সেখানে আমাদের সিনেমাটিকে বিভিন্ন দেশের দর্শক কানেক্ট করতে পারল, গল্প, প্রেক্ষাপট বিভিন্ন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করল। আমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে তাদের জানার আগ্রহ বুঝতে পারলাম। একটি সিনেমা কত গভীর থেকে তারা দেখে, সেটা নতুন অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া হংকং তো আমার পছন্দের পরিচালক ওং কার-ওয়াইয়ের দেশ। কিছু শপিং করলাম, ঘুরলাম, ভালোই সময় কাটল।
ফেসবুকে সিনেমা–সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোতে দর্শক বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেন, শাকিব খানের সঙ্গে আপনার সিনেমা হোক।
শরীফুল রাজ: শাকিব ভাই তো গুণী শিল্পী। আমাদের নিয়ে প্রযোজক পরিচালক ভাবলে তো আমার আপত্তি নেই। আমার কাজ অভিনয় করা। আমার জায়গা থেকে শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয়ে রাজি আছি। আমার সমস্যা নেই। সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই। অনেকেই আমাকে এটাও বলেন, নাজিফা তুষির সঙ্গে প্রথম সিনেমা, কিন্তু ১০ বছরে আর কোনো সিনেমা করলাম না কেন? আমার তো ইচ্ছা আছে। আমরা বন্ধু। আমাদের নিয়ে প্রযোজক, পরিচালকদের ভাবতে হবে।
সর্বশেষ কোনো সিনেমা ভালো লেগেছে?
শরীফুল রাজ: টানা ব্যস্ততায় অনেক সিনেমা দেখা হয়নি। এর মধ্যে মুসাফির ক্যাফে বেশ ভালো লাগল। আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতুর ডিগার দেখার তালিকায় রেখেছি।
ঈদের সিনেমার শুটিং কবে থেকে?
শরীফুল রাজ: সিনেমাটি সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে সব ঠিক থাকলে শিগগির শুটিং শুরু করব।