ট্রেইলার প্রকাশের আয়োজনে চঞ্চল চৌধুরী ও বাঁধন
ট্রেইলার প্রকাশের আয়োজনে চঞ্চল চৌধুরী ও বাঁধন

‘তাই বলে কবিতা লেখার জন্য মন্ত্রিত্ব চলে যাবে?’

ট্রেনের কামরায় শুরু হয় গল্প। সেখানে মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী আবুল খায়ের খান ও খামখেয়ালি পর্যটক রশীদ উদ্দিন। কথার লড়াই, ব্যঙ্গ আর অদ্ভুত পরিস্থিতির ভেতরেই এগোয় কাহিনি। ‘তাই বলে কবিতা লেখার জন্য তোমার মন্ত্রিত্ব চলে যাবে?’—বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার ট্রেলারে শিক্ষামন্ত্রী চরিত্রে অভিনয় করা চঞ্চল চৌধুরীকে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন বাঁধন, যিনি অভিনয় করেছেন সুরমা চরিত্রে। ট্রেনযাত্রার এই নাটকীয় মুহূর্তের মধ্য দিয়েই দর্শকের সামনে আসে ছবিটির গল্পের আভাস। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার আগারগাঁওয়ের এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে নির্মাতা ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে ট্রেলারটি দেখানো হয়।

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস কিছুক্ষণ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা তানিম নূর। এর আগে উৎসব নির্মাণ করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাবে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বুড়িগঙ্গা টকিজ; সহপ্রযোজনায় রয়েছে হইচই স্টুডিওজ, সার্বিক সহযোগিতা করেছে ডোপ প্রোডাকশনস।

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস কিছুক্ষণ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা তানিম নূর


সিনেমায় শিক্ষামন্ত্রী আবুল খায়ের খান ও খামখেয়ালি পর্যটক রশীদ উদ্দিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিম। ট্রেলারে দেখা যায়, আবুল খায়ের খানকে তাচ্ছিল্য করেন রশীদ উদ্দিন। দৃশ্যটি উপস্থিত নির্মাতা, শিল্পী ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে সাড়া ফেলে।

বড় পর্দার সামনে পাশাপাশি বসে ছিলেন মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী, দৃশ্যটির পর খুনসুটিতে মেতে ওঠেন দুই বন্ধু। সঙ্গে খুনসুটিতে যোগ দেন বাঁধন। দর্শকসারিতে আরও ছিলেন নির্মাতা তানিম নূর, শরীফুল রাজ, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর, এ কে আজাদ সেতু, সাবরিন আজাদ, লাবণ্য চৌধুরীসহ অনেকে।

নির্মাতা ও শিল্পীদের নিয়ে ‘হইচই আড্ডা’ ও বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার ট্রেলার প্রদর্শনীর আয়োজন করে হইচই। রাত পৌনে আটটায় ট্রেলার প্রদর্শনীর পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন নির্মাতা ও শিল্পীরা।

বেজক্যাম্পে তেঁতুলগাছের তলায় মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাতা তানিম নূরকে মাঝখানে রেখে দুই পাশে বসেছেন শরীফুল রাজ, ইন্তেখাব দিনার, জাকিয়া বারী মম, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর ও হইচই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব আর খান।
মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর আলোচিত দৃশ্যটির সূত্র ধরে এক সংবাদিক দুজনের কাছে সিনেমাটিতে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চান। মাইক্রোফোনটা নিয়ে মোশাররফ করিম বললেন, ‘আমরা দুজন অনেক আগে থেকে একসঙ্গে কাজ করছি। একসঙ্গে অনেক নাটক করেছি। একসঙ্গে সিনেমাটা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সিকোয়েন্সগুলো খুব এনজয় করেছি।’


পেশাগত জীবনের বাইরে মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মধ্যে সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। প্রায় দুই দশক ধরে একসঙ্গে কাজ করছেন তাঁরা। সাকিন সারিসুরিসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত নাটকে দুই বন্ধুকে দেখা গেছে।

চঞ্চল চৌধুরী বললেন, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টেলিভিশন সিনেমায় শেষবার মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এক যুগের বেশি সময় ধরে দুজনকে একসঙ্গে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। বনলতা এক্সপ্রেস দিয়ে আবার বড় পর্দায় ফিরছেন দুজন।

একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমার মধ্যে একধরনের এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল। তানিম নূরকে ধন্যবাদ জানাই।’

হইচই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব আর খান জানান, ঈদে বাংলাদেশে মুক্তির পর ৩ এপ্রিল উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে একযোগে ছবিটি মুক্তি পাবে।

সাংবাদিকদের সামনে আসেন নির্মাতা ও শিল্পীরা

‘হুমায়ূন স্যার বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন’

সিনেমা নির্মাণের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কিছুক্ষণ উপন্যাসটিকে কেন বেছে নিলেন? জানতে চাইলে নির্মাতা তানিম নূর বলেন, ‘সিনেমায় ট্রেনের আলাদা একটা স্পেস আছে। ট্রেন নিয়ে বহু সিনেমা আছে। সিনেমার ইতিহাসে প্রথম যে ছবি, সেখানেও ট্রেন আছে।

নানাভাবে সিনেমায় ট্রেনের ব্যবহার এসেছে। মূলত স্পেস, গল্প ও থিমের কারণে এটি আমার পছন্দ ছিল।’গত বছরের আগস্টে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কাছ থেকে উপন্যাসের কপিরাইট নিয়েছেন তানিম নূর।

উপন্যাসের সঙ্গে সিনেমার কতটা মিল কিংবা অমিল থাকবে, তা খোলাসা করেননি নির্মাতা।সিনেমাটি নিয়ে তানিম নূর বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ স্যার, আইয়ুব বাচ্চু ভাইকে স্মরণ করছি। যেকোনো সিনেমা একা করা যায় না, সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অত্যন্ত গুণী অভিনয়শিল্পীরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘এত অর্গানাইজড টিম আগে কখনো দেখিনি। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি, চেষ্টাটা পর্দায় আপনারা দেখতে পাবেন।’

শরীফুল রাজের ভাষ্য, ‘আমি হুমায়ূন স্যারের ভক্ত। স্যার বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। আমাদের সবার জন্য দোয়া করবেন।’

সাবিলা নূর বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বেশি দৃশ্য ছিল মোশাররফ করিম ভাইয়া ও রাজ ভাইয়ার সঙ্গে। দুজনের কাছে একটু ক্ষমা চেয়ে নিতে চাই, দুজনকে অনেক জ্বালিয়েছি, বিরক্ত করেছি। পুরো টিম ভীষণ গ্রেটফুল।’

আয়োজনে ইন্তেখাব দিনার, শ্যামল মাওলাসহ অনেকে কথা বলেছেন। আয়োজনটি সঞ্চালনা করেছেন হইচই বাংলাদেশের জনসংযোগ ব্যবস্থাপক তানজিনা রহমান।