
একজন মুক্তিযোদ্ধা এখনো আত্মযন্ত্রণায় ভুগছেন। কারণ, যুদ্ধাপরাধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছে। ওই মুক্তিযোদ্ধা সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মাঠে নামেন। একসময় নিজের ছেলের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পিতা-পুত্রের বিতর্কের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বেরিয়ে আসে। এমনই ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটক ‘কথা ৭১’। ঢাকা পদাতিকের এই নাটকের ৪৮তম প্রদর্শনী হবে আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে।
‘কথা ৭১’ নাটকের মূল ভাবনা গোলাম মোস্তফার। লিখেছেন কুমার প্রীতীশ বল আর নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ। ঢাকা পদাতিক থেকে জানানো হয়, ‘কথা ৭১’ নাটকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা বারবার ইতিহাসের সত্যের মুখোমুখি হন। মুক্তিযোদ্ধাদের এই সত্য ইতিহাস যথার্থভাবে উপস্থাপন হয়নি বলেই তরুণদের একটি অংশ আজও বিভ্রান্ত। ‘কথা ৭১’ ইতিহাসের সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি উদ্যোগ মাত্র।
‘কথা ৭১’ নাটকে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই অপারেশন সার্চলাইট নিয়ে পাকিস্তানি আর্মিরা পর্যালোচনার মাধ্যমে গণহত্যার রূপরেখা চূড়ান্ত করে। এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বর্বর হামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। শুরু হয় গণহত্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সেই গণহত্যা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) অধ্যাপক নূরুউল্লা নিজের ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করার মধ্যমে ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রামাণ্য দলিল তৈরি করেন। জগন্নাথ হলের নিহত ছাত্রদের লাশ সরায় ডোমরা। এরই মধ্যে চুন্নু ডোম এবং পরদেশি ডোম কথা বলে ঢাকা শহরের নির্মম গণহত্যা নিয়ে। জানা যায় সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং মর্মান্তিক ধর্মান্তরের কথা।
অধ্যাপক যতীন সরকারের স্ত্রী কানন সরকারের ধর্মান্তরের প্রতিবাদ করায় মাওলানা সাহেবকে মসজিদে খুন করে পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী। স্বাধীনতাবিরোধীদের শান্তি কমিটি রাজাকার-আলবদর বাহিনী গঠন, তাদের এবং পাকিস্তানি আর্মিদের অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ, গণহত্যায় দিশেহারা বাঙালি রুখে দাঁড়ায়। গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী, মুজিবনগর সরকার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পরিবেশিত অনুষ্ঠান সেদিনের বিধ্বস্ত বাঙালি জাতির মনে বিরাট আশার সঞ্চার করে।
‘কথা ৭১’ নাটকে অভিনয় করেছেন ফিরোজ হোসাইন, কাজী চপল, সিফাত বিন আজিজ, শেখ শান-এ-মাওলা, এইচ এম মোতালেব, জোসেফ পরিমল রোজারিও, আবুল হাসনাত, কিরণ জাকারিয়া, খন্দকার আতিকুর রহমান, সম্রাট আহমেদ, শ্যামল হাসান, মিল্টন আহমেদ, আরেক আলী মিলন, জে এ বৎস, শরিফুল ইসলাম মামুন, সালাউদ্দিন রাহাত, আখতার হোসেন, বিজন কান্তি ধর, কাজী আমিনুর, বর্ণালি আক্তার সেতু, সিরাজুম মুনিরা ইকরা, মারজিয়া জাবীন তন্বী, মীর ফারজানা আক্তার নীপা, আরিফ হোসেন প্রত্যয়, আবু বকর দাউদ তুহিন, মামুন উর রশিদ, মহফুজা আক্তার মিরা। নাটকটির মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন মঞ্জুর আহমেদ, আবহসংগীত করেছেন সাইদুর রহমান লিপন, আলোক নির্দেশনা দিয়েছেন ঠান্ডু রায়হান।