ভেবেছিলাম আমার আর দেশে ফেরা হবে না

অর্থহীন ব্যান্ডের সাবেক এক সদস্যের বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও ফেসবুকে ঘুরছে। সেখানে গাইতে দেখা গেছে বেজবাবা সুমনকে। তিনি দেশে ফিরেছেন। চিকিৎসা কি তবে শেষ? সুমন কথা বললেন প্রথম আলোর সঙ্গে।

বেজবাবা সুমন
প্রথম আলো
প্রশ্ন

বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে গান গাইছেন। ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, তিন বছর পরে স্টুডিওতে...

তিন বছর পরে স্টুডিওতে ঢুকেছি। তবে এই স্টুডিও আগেরটার চেয়ে ছোট। এখানে পুরো সেটআপ আনতে পারিনি। শুধু গিটার ও কি-বোর্ড সেট করেছি, যাতে রেকর্ড চালিয়ে যেতে পারি। এগুলো অবশ্য আগেই প্রস্তুত করে রেখেছিলাম। তখন আমি বসতে পারতাম না, শুয়ে থাকতে হতো। এবার স্টুডিওতে এসে তাই একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গেলাম।

প্রশ্ন

স্টুডিওতে রান্নাবান্না শুরু করেছেন?

(হাসি) ওই যে গ্যাসের লাইন।

প্রশ্ন

নতুন গান কবে পাচ্ছি?

গানের কাজ শুরু করেছি। এখনো অফিশিয়ালি কাউকে জানাইনি। প্রথম আলোর মাধ্যমে সবাই জানল। এই মাসের শেষে আমার কণ্ঠে নতুন গান আসবে। একটা একক গান।

বেজবাবা সুমন
প্রশ্ন

অর্থহীন ভক্তদের জন্য কোনো খবর আছে?

অর্থহীনের গান করার ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল স্ট্রেন্থের দরকার। কণ্ঠে হাই পিচ রাখতে হয়। একটু প্রেশার দিয়ে গান করতে হয়। বেজ গিটারেও অনেক ক্যারিকেচার দেখাতে হয়। আমি তিন বছর বেজ বাজাইনি। তাই অর্থহীনের হয়ে গাইতে হলে শারীরিক প্রস্তুতির সময় লাগবে। আমার একক গানগুলো সফট। তাই একক গান দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছি।

প্রশ্ন

নতুন গান নিয়ে জানতে চাই।

নতুন গানের নাম ‘বয়স হলো আমার’। লেখা–সুরসহ গানের কো–প্রডিউসারও আমি। আরেক কো–প্রডিউসার আমাদের ব্যান্ডের মোহান। অ্যাকুয়াস্টিকে গানটি করছি, মোহান আবার অ্যাকুয়াস্টিকে ভালো। আমি নিজেই প্রডিউস করতে পারতাম, কিন্তু একজন ব্যান্ড মেম্বারকেও সঙ্গে রাখলাম। যখন মিউজিক ভিডিও বের হবে, তখন আমার সঙ্গে একজন ব্যান্ড মেম্বারকেও দেখা যাবে। এতে ভক্তরা অর্থহীনের একটা আমেজ পাবেন। এই গানে একটা মজার ব্যাপারও আছে।

বেজবাবা সুমন
প্রশ্ন

কী সেটা?

গানের অর্ধেকটা আমি আট বছর আগে লিখেছিলাম। কয়েক দিন আগে যখন সুর বদল করি, তখন মাথায় আরও নতুন কিছু সুর ও লিরিক চলে আসে। কয়েক মাস আগে আবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। গানের মধ্যে ওই মুহূর্তের কিছু বিষয় রূপক আকারে ঢুকিয়ে দিয়েছি। ১০ বছর পর একক কোনো গান পাবেন শ্রোতারা। যদিও এর মধ্যে চলচ্চিত্রে গেয়েছি। দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছি। তবে সব কটি গানেই তিন বছর আগে কণ্ঠ দেওয়া।

প্রশ্ন

জীবনের ওপর দিয়ে অনেক বড় ঝড় বয়ে গেল। গানে ফেরার প্রাণশক্তি পেলেন কীভাবে?

আমি কখনোই ভেঙে পড়ি না। ভেঙে পড়লেও প্রকাশ করি না, কিন্তু এই প্রথম ভেঙে পড়ি। মার্চে আমাকে যখন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন ভেবেছিলাম আমার আর দেশে ফেরা হবে না। ১০ থেকে ১২ দিন চিকিৎসার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। আমার মনের জোর অনেক। ১ মাস ১৭ দিনের মাথায় আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই।