
ঈদে তাঁর ৩০টির মতো নাটক প্রচারিত হবে। পুবাইলে শুটিং ইউনিট থেকে ঈদ নাটক ও ক্যারিয়ারের নানা প্রসঙ্গে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম
আজ শুটিংয়ে সহশিল্পী কে?
হিমি: ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের এক অভিনেতাই আজ আমার সহশিল্পী, তিনি মোশাররফ করিম ভাইয়া।
সহশিল্পী হিসেবে মোশাররফ করিমকে কেন পছন্দ?
হিমি: (মোশাররফ করিম) ভাইয়ার সঙ্গে শুটিং থাকলে অনেক কিছুই শিখতে পারি। চরিত্রকে কীভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হয়, এটা ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা। চরিত্রের সঙ্গে মিশে গেলে চিত্রনাট্যের বাইরেও অনেক কিছু গল্পে যুক্ত হয়। সংলাপসহ অনেক কিছুর ইম্প্রোভাইজেশন হয়, যেটা গল্পকে আরও ভালো করে।
শুনলাম, ঈদে আপনার অনেক নাটক প্রচারিত হবে। অনেকে বলছেন, সর্বোচ্চ নাটক আপনার!
হিমি: আমি তো জানি না (হাসি)। কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত শুটিং। মনে হচ্ছে ৩০–এর কাছাকাছি সংখ্যা হতে পারে।
আলাদা করে কোন কোন নাটকের কথা বলবেন?
হিমি: এবার বাছবিচার করে নাম লেখানো হয়েছে। কারণ, এখন গল্প ভালো না লাগলে শুধু সংখ্যা বাড়াতে চাই না। ঈদ ও গরু ঘিরে প্রাসঙ্গিক একটি ইমোশনাল নাটক রয়েছে। তবে বিশেষ করে আমি ‘রুপার সংসার’, নাটকের কথা বলব। বেশির ভাগ রোমান্টিক বা কমেডি নাটকের ভিড়ে এই গল্প নারীদের হয়ে কথা বলে। নারী হয়ে যে চরিত্র আমি সব সময় করতে চেয়েছ;। নারীর বেঁচে থাকার গল্প, সংগ্রামের গল্প আমাকে টানে। কাজটি অনেক কঠিন ছিল।
কেন কঠিন?
হিমি: এখানে আমি তিনটা বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছি। তরুণী, মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক। গল্পে নায়ক থাকলে তো আলাদা একটা সময় পাওয়া যায়। এখানে আমাকে ঘিরেই সব। মেকআপ ছিল কঠিন। চার ঘণ্টা গেছে বয়স্ক চরিত্রের মেকআপের পেছনে। আবার মেকআপে দেখতে যেন মেকি মনে না হয়, সে চেষ্টা করেছি। এখানে আমি সার্থক।
কীভাবে সার্থক?
হিমি: আমার বয়স্ক অংশের দৃশ্যধারণ হবে আউটডোরে। সেখানে বহু মানুষ। আমি বসে আছি। তখন অনেকেই বলছিলেন, ‘অভিনেত্রী হিমি আপু আসার কথা। তিনি নাকি এই নাটকে আছেন। কই তাঁকে তো দেখছি না।’ আমি পাশ থেকে শুনছি। তখন বেশ মজা পেয়েছি। দর্শক বয়স্ক লুকে চিনতে পারেননি।
চরিত্র পছন্দে স্বাধীনতা কতটা থাকে?
হিমি: শিল্পী হিসেবে পুরো স্বাধীনতাই থাকে। গল্প পছন্দ না হলে তো কাজ করা হয় না। এখন দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেখা যায়, কোনো গল্পে প্রি–প্রোডাকশনের কাজও করে দিতে হয়। গল্প, সংলাপ গুছিয়ে দেওয়া, কোনো দৃশ্যে আইডিয়া পরিবর্তন করা—এসব ইনপুট বেশ ভালো লাগে।
নিজের ও অন্যদের কাজ দেখার মধ্যে পার্থক্য কী?
হিমি: আমার অভিনীত কাজগুলো দেখে সারাক্ষণ নিজের ভুল ধরার চেষ্টা করি। মনে হয়, এখানে অভিনয়, সংলাপ বলা, চরিত্রের সঙ্গে গেটআপ ভালো হয়নি। গল্পে সামনে কী হবে, সেটা জানা থাকে, যে কারণে সব মিলিয়ে নাটকগুলো উপভোগ করতে পারি না। কিন্তু মা খুব এক্সাইটেড থাকে। অন্যদিকে সহকর্মীদের কাজগুলো দেখে উপভোগ করি। গল্প জানা থাকে না। তাঁরা কোথায় ভালো করলেন, সেখানে আমি কী করতাম, সেটাও ভাবি।
সহকর্মীদের কার কাজ বেশি দেখেন?
হিমি: সবার কাজই কমবেশি দেখা হয়। মোশাররফ করিম, (ফারহান আহমেদ) জোভান, (মুশফিক আর) ফারহান, নিলয় (আলমগীর) তো আছেই। আরও অনেকের। এ ছাড়া যেসব নাটক আলোচনায় থাকে, যেসব গল্প নিয়ে কথা হয়, সেগুলো দেখার চেষ্টা করি।
এখন তো নিয়মিত নাটক প্রচারিত হয়, আগের মতো ঈদ নাটকের শুটিং ঘিরে আলাদা উত্তেজনা বা আগ্রহ থাকে?
হিমি: আমার মনে হয়, আগ্রহ কমেনি। এখনো অনেক এক্সাইটেড থাকি। কারণ, ঈদের নাটকগুলো আলাদাভাবে দর্শকদের নজর কাড়ে। দর্শকেরা অপেক্ষা করেন। এখনো পরিবার নিয়ে বহু মানুষ নাটক দেখেন। এ কারণেই কিন্তু আমরা এখনো ঈদের আগের রাত পর্যন্ত শুটিং করি।
ঈদ নাটক ঘিরে সবাইকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে, এমন প্রতিযোগিতার কথা ভাবেন?
হিমি: আমার অভিনীত কাজগুলো কোন পরিচালকেরটা কেমন হলো, কোথায় কী দুর্বলতা ছিল, সেগুলো জানার চেষ্টা করি। আমার প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গে। নিজেরটা নিয়েই থাকতে চাই। এখানে কে কী করল, এগুলো দেখে সময় নষ্ট করার সময় নেই। আমি অন্যদের সঙ্গে কোনো প্রতিযোগিতায় থাকতে চাই না। নিজের ভালো কীভাবে করা যাবে, তাঁর দিকে লক্ষ রাখি।