নীল হুরেজাহান
নীল হুরেজাহান

‘পানিতে চিত হয়ে ভেসে থাকা আমার খুবই পছন্দ’

শিরোনামহীনের নতুন গান ‘এই অবেলায় ২’-এ মডেল হয়েছেন নীল হুরেজাহান। অ্যাভয়েড রাফার সর্বশেষ অ্যালবামের সব গানও তাঁর লেখা। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে এই অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপিকার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।

প্রশ্ন

‘এই অবেলায়’ তো বেশ আলোচিত গান। সেটির সিকুয়েলে মডেল। চাপ অনুভব করছেন?

নীল হুরেজাহান : অনেকবার শুনতে হয়েছে ‘এই অবেলায় ২’ কবে আসবে? কারণ, দুই বছর আগে শুটিং হয়েছে, টিজারও ছাড়া হয় এক বছরের বেশি হয়ে গেছে। ‘এই অবেলায়’ যেহেতু অনেক জনপ্রিয় গান, তাই মানুষের প্রত্যাশা ছিল। প্রথমটির সঙ্গে সিকুয়েলের তুলনা চলে আসবে, এটা খুব স্বাভাবিক। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা স্বতন্ত্র গান। চাপের চেয়ে ভালো লাগাটা বেশি কাজ করেছে।

‘এই অবেলায় ২’ মিউজিক ভিডিওর পোস্টারে নীল হুরেজাহান
প্রশ্ন

গানটির সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

নীল হুরেজাহান : শিরোনামহীন ব্যান্ডের শেখ ইশতিয়াক একদিন ফোনে অ্যালবামের পরিকল্পনার কথা জানান। অ্যালবামের শেষ গান হবে ‘এই অবেলায় ২’। থাইল্যান্ডে শুটিং। শুনেই জানাই, এটার সঙ্গে যদি থাকতে পারি, ভালো লাগবে। শিরোনামহীন এমনিতে পছন্দের একটা ব্যান্ড, ‘এই অবেলায়’ আমারও পছন্দের একটা গান। সব মিলিয়ে ‘এই অবেলায় ২’ গানের মডেল হওয়ার প্রস্তাব যেদিন আসে, সেদিন থেকেই আমি রোমাঞ্চিত। থাইল্যান্ডের একটা দ্বীপে গানটার শুটিং করেছি।

প্রশ্ন

গানের একটা দৃশ্যে আপনাকে পানিতে ভেসে থাকতে দেখা গেছে...

নীল হুরেজাহান : পানিতে ভেসে থাকার দৃশ্যটার পেছনে মজার একটা গল্প আছে। শিরোনামহীনের জিয়া (উর রহমান) ভাইয়ের সঙ্গে যখন দেখা, তিনি জানতে চান, সাঁতার কাটতে পারি কি না? বললাম, ছোটবেলা থেকেই পানিতে ভেসে থাকতে পারি। পানিতে চিত হয়ে ভেসে থাকা আমার খুবই পছন্দ (হাসি)। তিনিও বলছিলেন, ‘সমুদ্রের মাঝখানে তোমাকে নৌকা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেব, তৈরি হও (হাসি)। ভেসে থাকার ব্যাপারটা নির্বিঘ্নেই হয়েছে, মনেই হয়নি শুটিং করছি।

নীল হুরেজাহান
প্রশ্ন

শিরোনামহীনের কোন গানগুলো আপনার পছন্দ? কেন?

নীল হুরেজাহান : গান শুনতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। বাংলাদেশের ব্যান্ডের মধ্যে শিরোনামহীন ব্যান্ডের নাম আমার তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে। অনেক আগে থেকেই শুনছি। ‘বন্ধ জানালা’ হোক কিংবা ‘হাসিমুখ’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, তারপর ‘এই অবেলায়’ এখন তো ‘এই অবেলায় ২’। ‘এই অবেলায় ২’ কারণ, এটার সঙ্গে আমি মিশে আছি।

প্রশ্ন

ইদানীং তো গানের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ বেশি, অ্যাফোয়েড রাফার জন্য গান লিখলেন, এই ব্যাপারটা আপনার জন্য কেমন ছিল?

নীল হুরেজাহান : ইদানীং কিনা জানি না, গানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ বরাবরই ছিল। যোগাযোগের কারণে এই কাজগুলো হয়েছে। উপস্থাপক হিসেবে অনেক অনুষ্ঠানে ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীর নাম অ্যানাউন্স করি। সেই জায়গা থেকে অনেক ব্যান্ডের ও শিল্পীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে জানাশোনাও আছে। রাফা আমার ভালো বন্ধুও। আমার লেখা একটা কবিতার বই আছে ‘হারিয়ে যাবার শুরু’—কয়েক বছর আগে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। রাফা সেই বই পড়ে পরিকল্পনা করল, কয়েকটা কবিতা থেকে গান বানাবে। আমার কাছ থেকে আনুমতিও নিয়ে রাখে। তারপরে রাফার সঙ্গে ‘হারিয়ে যাওয়ার শুরু’ অ্যালবামের কাজ করা। আমরা দুজনে এই টপিক নিয়ে অনেক ভেবেছি। আমাদের জার্নিটাও ছিল বেশ মজার। পাঁচটি গান নিয়ে অ্যালবাম, একটি গানের মিউজিক ভিডিও হয়েছে। ‘জোছনামাখা গন্ধ’ শিরোনামে গানটি প্রকাশের পর অনেকে পছন্দ করেছে। আরেকটা মিউজিক ভিডিও করা আছে, খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হবে। রাফার জন্য গান লেখাটা আমার জন্য সম্মানের এবং আনন্দের। গায়ক হিসেবে সে তো খুবই প্রতিভাবান, জনপ্রিয়—আমার লেখা গান সে করেছে, মানুষ শুনেছে, পুরো ব্যাপারটা আমার জন্য দারুণ প্রাপ্তির।

নীল হুরেজাহান
প্রশ্ন

সাধারণত নিজের লেখা গানে কোন বিষয় তুলে ধরতে চান?

নীল হুরেজাহান : ও রকম পরিকল্পনা তো করিনি। আমি হয়তো আবেগটাই তুলে ধরতে চাই। যখন আমি লিখি, তখন নিজের আবেগ, মানুষের আবেগ, প্রকৃতি, গাছ, আকাশ—সবকিছুই ওঠে আসে। কারও যদি গানটা শুনে মনে হয়, এটা আমার কথা, নিজের সময়টার সঙ্গে মেলাতে পারে, অনুভূতি মিলে যায়, সেখানেই হয়তো একটা সার্থকতা মনে হয়।

প্রশ্ন

সঞ্চালনা, অভিনয় নাকি লেখালেখি—কোনটা বেশি উপভোগ করেন?

নীল হুরেজাহান : সঞ্চালনা তো আমার পেশাই বলা যায়, উপভোগ করি। অভিনয় সব সময় অল্প করেই করেছি; ভালোবেসেই করি। লেখালেখি আরও ছোটবেলা থেকে করছি, মনের আনন্দ থেকে। তিনটাই আলাদাভাবে উপভোগ করি।

নীল হুরেজাহান
প্রশ্ন

ইদানীং আপনাকে অভিনয়ে কম দেখা যাচ্ছে, এটা কি একান্তই নিজের ইচ্ছা নাকি অভিনয় নিয়ে ভিন্ন কোনো পরিকল্পনা আছে?

নীল হুরেজাহান : একান্ত নিজের ইচ্ছা কিনা সেটা বলছি না, তবে আমাকে অভিনয়ে বরাবরই কম দেখা গেছে। শুরুর দিকে নিজের ইচ্ছায় অনেক কাজ না করে দিয়েছি। তবে একটা সময় পরে গিয়ে করেছি। একটা সময় যখন পুরোদমে বিনোদন অঙ্গনে কাজ শুরু করলাম, তখন ভালো কোনো কাজ, সময় আর ধরন মিলে যায়, আমাকে পছন্দ হয়, আমারও পছন্দ হয়, তখন করেছি। আবার অবসরে থাকলে কোনো কাজ করতে ভালো লাগলে করেছি। কোনো কাজের জন্য আমার কাছে যখন প্রস্তাব আসে, আমি সে চরিত্রকে ভালোবাসতে পারি, সময়-সুযোগও মিলে যায়—করতে চাই।

প্রশ্ন

‘এই অবেলায় ২’ গানে আপনাকে দেখা গেছে মনের মানুষের জন্য অনেক বেশি কষ্ট পেতে। বাস্তব জীবনে এমন কোনো একটি ঘটনার মুখোমুখি আপনাকে হতে হয়েছে কি?

নীল হুরেজাহান : ব্যক্তিজীবনে আমি খুব কাছের মানুষদের হারিয়েছি। অনেকবারই আমাকে খুব কাছের মানুষদের হারাতে হয়েছে। এমন সময় আমারও গেছে, আমি ভেবেছি, তারা যদি আমার সঙ্গে থাকত! বর্তমানেও সেই অতীতটা খুব নাড়া দিয়েছে।