কয়েক দিন আগেই জানা গিয়েছিল, ১৫ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামডেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৯ অক্টোবর কানাডার ভ্যানকুভার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে কামার আহমাদ সাইমন পরিচালিত অন্যদিন...। ক্যামডেনের মাত্র ১০ দিন পরেই ভ্যানকুভার, তারপরও কানাডা যাওয়া হচ্ছে না এই পরিচালকের। এ নিয়ে ফেসবুকে একটা মধুর সমস্যার কথা লিখেছিলেন তিনি। এদিকে আজ সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎসবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়ছেন এই পরিচালক। উৎসব ও মধুর সমস্যা নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

মধুর সমস্যার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সমস্যাটা আসলে কী, তা বলা যাবে?
কানাডার ভ্যানকুভার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘোষণার এক দিন পর আরেকটা ঘোষণা হয়। জানতে পারি, ইউরোপের অন্যতম প্রধান চলচ্চিত্র উৎসব জুরিখ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এ বছর সেরা ছবির বিভাগে গোল্ডেন আই পুরস্কারের জন্য লড়বে অন্যদিন...। ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। ইচ্ছা থাকলেও তাই যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডা না গিয়ে সুইজারল্যান্ডে যেতে হচ্ছে। এইটাই মধুর সমস্যা। উৎসব শেষে ৪ অক্টোবর দেশে ফিরব।
‘অন্যদিন...’ ছবির গল্পটা কী?
অন্যদিন...একটা হাইব্রিড ফিকশন ‘আমার জলত্রয়ী’ বা ‘ওয়াটার ট্রিলজি’র দ্বিতীয় ছবি। একটা লাইভ সেটে গ্রুমিং করা একদল নন-অ্যাক্টর নিয়ে সত্যিকারের কিছু ঘটনার সঙ্গে স্ক্রিপ্টেড সিকোয়েন্স শুটিং করেছি। আমি এটাকে ‘হাইব্রিড ফিকশন ব্লেন্ডেড উউথ রিয়েলিটি’ বা ‘সত্য গল্প’ বলছি।
সত্যগল্প বলতে কী বোঝাচ্ছেন?
খুব সহজ। মনে করেন, সুনীলের সেই সময় বা প্রথম আলোর কথা বা নোবেল বিজয়ী বেলারুশ বংশোদ্ভূত রুশ লেখক সেতলিনা আলেক্সিভিচের সাহিত্যের কথা—তাঁরা সবাই বাস্তবতাকে ফিকশনালাইজ করেছেন। একভাবে দেখলে এটা বহু আগেও করেছেন তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে অদ্বৈত মল্লবর্মণ আর হালে একজন কমলালেবুতে শাহাদুজ্জামান। চলচ্চিত্রে আব্বাস কিয়ারোস্তামির ‘কোকার ট্রিলজি’ দেখেন, একই ব্যাপার। গত ১০ বছরের প্রথম সারির চলচ্চিত্র উৎসবের দিকে তাকালে দেখব, ভেনিস-বার্লিন-লোকার্নোতে একের পর এক এমন সব ছবিকে শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো একই সঙ্গে ঘটনা আবার গল্পও। ক্যামডেনের ছবিগুলোকে ভ্যারাইটি যেভাবে লিখেছে, ‘সেই সব ছবি ও নির্মাতা, যাঁরা বদলে ফেলছেন সিনেমার ভাষা।’
কিন্তু ‘অন্যদিন…’তো ডকুমেন্টারি উৎসব ইডফার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছিল…
ইডফাকে আর সব ডকুমেন্টারি উৎসবের মতো ভাবলে ভুল হবে। আপনি যদি লন্ডন ফিল্ম উইকের টপ টেন ফেস্টিভ্যাল রেটিং দেখেন, দেখবেন যে কান-বার্লিনের-ভেনিসের মতো বাকি সব চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে এক কাতারেই আছে ইডফা। আর অন্যদিন...যেহেতু শতভাগ ফিকশন এবং একই সঙ্গে শতভাগ নন-ফিকশন, আমাদের সুযোগ ছিল ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই ধরনের উৎসবেই ছবিটা দেখানোর। তাই ইডফার মতো একটা প্রথম সারির উৎসবের মূল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিষেকের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর আমি আর অন্য কোনো উৎসবের জন্য অপেক্ষা করিনি।
‘অন্যদিন…’ কোনো ফিকশন উৎসবে গিয়েছে?
২০১৭ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে অন্যদিন…-এর চিত্রনাট্য যখন সিনেফঁদেশিওতে এক্সক্লুসিভ আমন্ত্রণ পেয়েছিল, সেটা তো ফিকশন ছবির সঙ্গে ফিকশন উৎসবেই ছিল। তারও আগে ২০১৬ সালের লোকার্নোতে ওপেন ডোর্স হাবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার বা আর্তে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পেয়েছিল। আবার এখন সিডনি কিংবা জুরিখে—যেখানেই ছবিটা যাচ্ছে, এগুলো ফিকশন ও নন-ফিকশন দুই রকম ছবিরই উৎসব। মার্চে নিউইয়র্কের মমিতে অন্যদিন…এই বছরের সেরা ১৮টি নির্বাচিত ফিচারের মধ্যে ছিল, যার মধ্যে কান বা লোকার্নোতে পুরস্কৃত ছবিও আছে। অনেকেই হয়তো জানেন না, এ বছর এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড অন্যদিন...কে ফিকশন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার জন্য অন্তর্ভুক্ত করেছে। সামনেই ফ্রান্সে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফিকশন উৎসবেও নির্বাচিত ছবি এটি। অফিশিয়াল ঘোষণা এখনো হয়নি বলে নামটা বলতে পারছি না।
বাংলাদেশের দর্শক তাহলে কবে দেখতে পাবেন ‘অন্যদিন...’?
সেন্সরে জমা দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি। আসলে সেন্সর বোর্ড নিয়ে নির্মাতা হিসেবে একটা টেনশন কাজ করে। আগে কখনো বলিনি, আমার ‘জলত্রয়ী’র প্রথম ছবি শুনতে কি পাও! সেন্সরে আটকে ছিল বহুদিন। তাই এইবার চেষ্টা করছি একটু গুছিয়ে নিয়ে জমা দিতে, সে জন্যই একটু সময় লাগছে।