
ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’—যা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্র—উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সূচনা করতে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার মুক্তির পর প্রাথমিক আয়ের হিসাব অনুযায়ী ছবিটি ৮ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি আয় করতে পারে। মজার ব্যাপার হলো, মুক্তির আগেই অনেকে ছবিটিকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে গত রাতের প্রিমিয়ারের পর—যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন—ছবিটির বক্স অফিস গতি আরও জোরালো হয়েছে।
এই পূর্বাভাস সত্যি হলে, ‘মেলানিয়া’ বক্স অফিসে চমক দেখিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। শীর্ষে থাকবে নতুন দুটি ছবি—‘সেন্ড হেল্প’ ও ইউটিউবার মার্ক ফিশবাখের ‘আয়রন লাং’। এতে পিছিয়ে পড়তে পারে জেসন স্ট্যাথামের নতুন অ্যাকশন ছবি ‘শেল্টার’। এমন ফলাফল খুব কম লোকই আগে থেকে কল্পনা করেছিলেন।
তবে ‘মেলানিয়া’ নিয়ে তুলনা-সমালোচনা করতে গেলে প্রেক্ষাপটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিতর্কিত নির্মাতা ব্রেট র্যাটনার, যিনি এই ছবির মাধ্যমে হলিউডে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছেন। আরও বড় বিষয় হলো, অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস স্বত্বের জন্য ছবিটির পেছনে ৪০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে—যা অনেকের চোখে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যে কারণেই হোক, এই ব্যয় ‘মেলানিয়া’কে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্র বানিয়েছে।
এর পাশাপাশি, ছবিটির জন্য অ্যামাজন ব্যয় করেছে আরও ৩৫ মিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক বিপণন ও প্রচারণায়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে ও ১০ মিলিয়ন ডলার বিদেশে ব্যয় করা হয়েছে। সাধারণত এমনকি বড় তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রেও ঘরোয়া প্রচারণার বাজেট থাকে ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। তবে ব্যতিক্রম ছিল আল গোরের ‘অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ’ ও মাইকেল মুরের ‘ফারেনহাইট ৯/১১’। সূত্র জানায়, পুরস্কারের দৌড়ে থাকার কারণে সেই ছবিগুলোর ক্ষেত্রেও ঘরোয়া বিপণনে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার করে খরচ হয়েছিল (মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় ছাড়া)। দুটিই অস্কারে সেরা ছবির পুরস্কার জিতেছিল।
প্রায় দুই দশক পরও মাইকেল মুরের অস্কারজয়ী ‘ফারেনহাইট ৯/১১’ এখনো সব ঘরানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করা তথ্যচিত্র হিসেবে রয়ে গেছে। ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ৮৬৮টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ২৩.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় মোট আয় দাঁড়ায় ১১৯.২ মিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাপী ২২২ মিলিয়ন ডলার (মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় ছাড়া)।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, ১ হাজার ৭৭৮টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ‘মেলানিয়া’ প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। সেটিও হলে ২০২৩ সালে অ্যাঞ্জেল স্টুডিওসের ‘আফটার ডেথ’ ছবির ৫ মিলিয়ন ডলারের উদ্বোধনী আয়কে ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু অনেক প্রদর্শক তখন টিকিট বিক্রির ধীরগতির কারণে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়—হলগুলোতে হাতে গোনা কয়েকটি টিকিটই বিক্রি হয়েছে। ফলে কিছু সিনেমা হলের মালিক তাদের পূর্বাভাস নামিয়ে আনেন ২ থেকে ৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।
কিন্তু শুক্রবার বিকেলের দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। আয়ের সাম্প্রতিক তথ্য ও প্রদর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় সব বড় হলিউড স্টুডিওই দেখাচ্ছে, ‘মেলানিয়া’ এখন ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার আয়ের পথে।
ছবিটি যে রাজনৈতিক প্রচারণার সুবিধা পাচ্ছে, তাতেও সন্দেহ নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তাঁর সমর্থকদের ছবি দেখতে আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারণা লাল-ঘেঁষা অঙ্গরাজ্য ও বাজারগুলোতে (যেমন ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি) দর্শক টানতে সহায়তা করছে।
তবে সমালোচকদের কাছ থেকে ছবিটি কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। বড় বড় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক রিভিউগুলো বেশ কঠোর ও নেতিবাচক। তবে বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প–সমর্থকেরা এসব নেতিবাচক সমালোচনাকে বামঘেঁষা মিডিয়ার পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখবেন।
বিদেশের বাজারেও ছবিটির মুক্তি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, যেখানে প্রাইম ভিডিওর উপস্থিতি শক্তিশালী। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ভাবমূর্তির কারণে কিছু জায়গায় সমস্যাও দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সম্প্রতি এক পরিবেশক ছবিটি মুক্তির তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। ইউরোপ থেকেও ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহের খবর আসছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রয়েছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে