
হালে সুপারহিরো সিনেমাগুলো সেভাবে দাপট দেখাতে পারছে না। তবে ২০১০ থেকে ২০২০—এই এক দশকে অনেক সুপারহিরো সিনেমাই বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনয়শিল্পীর তালিকায় তাই বেশির ভাগই সুপারহিরো সিনেমায় অভিনয় করা তারকা। কারা রয়েছেন এই তালিকায়? চলুন জেনে নেওয়া যাক—
গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘দ্য স্মাশিং মেশিন’ ডাহা ফ্লপ, তবে সবচেয়ে ব্যবসাসফল তারকার তালিকায় এখনো রয়েছে ডোয়াইন জনসনের নাম। ‘দ্য রক’ নামেই বিশ্বজোড়া পরিচিত এই সাবেক রেসলার বড় পর্দায়ও তৈরি করেছেন নিজের শক্ত অবস্থান। ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে লুক হোবস, ‘মোয়ানা’তে মাওয়ি এবং ‘জুমানজি’তে ড. স্মোল্ডার চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মন জয় করেছে। তাঁর সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ‘ফিউরিয়াস ৭’।
মার্ভেল সিনেমার ক্যাপ্টেন আমেরিকা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ক্রিস ইভানস। এ ছাড়া তিনি ২০০৫ ও ২০০৭ সালের ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমায় হিউম্যান টর্চ চরিত্রে অভিনয় করেন এবং সম্প্রতি ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ ছবিতে একই চরিত্রে ফিরে আসেন। সুপারহিরো চরিত্র ছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন বং জুন হো, রিয়ান জনসনের ছবিতে। তাঁর শীর্ষ আয় করা ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ছবির মধ্যে আছে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’, ‘নাইভস আউট’।
ভিন ডিজেলের নাম উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ডমিনিক টরেটোর ছবি। তাঁর আরেকটি পরিচিত ভূমিকা হলো ‘গ্রুট’—মার্ভেলের অতি জনপ্রিয় চরিত্র, যেটির জন্য তিনিই কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে নিজের লেখা ও পরিচালিত ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ ও ‘দ্য আয়রন জায়ান্ট’ সিনেমায় অভিনয় করে মূলধারার হলিউডে জায়গা করে নেন। এই তারকার শীর্ষ আয় করা ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
মার্ভেলের ‘থর’ চরিত্রে চারটি স্বতন্ত্র সিনেমায় অভিনয় করে রেকর্ড গড়েছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ। এ ছাড়া তিনি ছিলেন সব কটি ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ছবিতেও। মার্ভেল ছাড়াও তাঁকে দেখা গেছে ‘স্টার ট্রেক’, ‘ম্যাড ম্যাক্স’ ও ‘এক্সট্র্যাকশন’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। চলতি বছর তিনি ফিরছেন ‘অ্যাভেঞ্জার্স’–এর নতুন কিস্তি দিয়ে। তাঁর শীর্ষ আয় করা ছবি: ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
হলিউডের অ্যাকশন নায়কদের মধ্যে টম ক্রুজ এক অনন্য নাম। সুপারহিরো না হয়েও তিনি এই তালিকায় উঠে এসেছেন শুধু নিজের অভিনয় আর স্টান্ট-দক্ষতার জোরে। ‘মিশন: ইমপসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নিজের স্টান্ট নিজেই করার জন্য তিনি বিখ্যাত। তবে তাঁর অভিনয়ের ব্যাপ্তি শুধু অ্যাকশনেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘ম্যাগনোলিয়া’, ‘জেরি ম্যাগুইয়ার’, ‘ব্রন অন দ্য ফোর্থ অব জুলাই’—এই তিন ছবির জন্য তিনি অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন। বক্স অফিসে টমের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’।
একসময় টেলিভিশনের কমেডি চরিত্র দিয়ে পরিচিত ছিলেন ক্রিস প্র্যাট। ২০১৪ সালে হঠাৎ তিনি হয়ে ওঠেন অ্যাকশন হিরো—একই বছরে মুক্তি পায় ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ ও অ্যানিমেশন সিনেমা ‘দ্য লেগো মুভি’। এরপরই বক্স অফিসে রাজত্ব করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর শীর্ষ আয় করা ছবি: ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
২০০৮ সালে ‘আয়রনম্যান’ দিয়ে মার্ভেল ইউনিভার্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের হাত ধরেই। এরপর একে একে ১০টির বেশি মার্ভেল ছবিতে টনি স্টার্কের চরিত্রে অভিনয় করে এই তারকা রীতিমতো আইকনে পরিণত হন। শেষবার তাঁকে দেখা গেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এ। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘ওপেনহেইমার’-এ, যার জন্য প্রথমবারের মতো অস্কার জেতেন। চলতি বছর ‘অ্যাভেঞ্জার্স’–এর নতুন ছবিতে ভিক্টর ভন ডুম চরিত্রে তিনি ফিরছেন খলনায়ক হিসেবে। রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের শীর্ষ আয় করা ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ছবির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। মার্ভেল ইউনিভার্সে নিক ফিউরি চরিত্রে তিনি ১১টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া ‘স্টার ওয়ার্স’–এর প্রিকুয়েল ট্রিলজিতে ছিলেন মেস উইন্ডুর চরিত্রে, আর ‘জুরাসিক পার্ক’-এর প্রথম কিস্তিতেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি। তবু অনেকের কাছে তিনি অমর হয়ে আছেন কুয়েন্টিন টারান্টিনোর ‘পাল্প ফিকশন’-এর জুলস উইনফিল্ড চরিত্রে, যে চরিত্রের জন্য তিনি অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা শীর্ষ আয় করা ছবি: ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
১৯৯০-এর দশকে টিনএজ বয়সে অভিনয় শুরু করেন স্কারলেট জোহানসন। তবে তাঁকে আজকের প্রজন্ম মনে রাখে মার্ভেল ইউনিভার্সের ‘ব্ল্যাক উইডো’ হিসেবে। আটটি মার্ভেল ছবিতে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে তিনি দুটি অস্কার মনোনয়ন পান ‘ম্যারেজ স্টোরি’র জন্য সেরা অভিনেত্রী এবং ‘জোজো র্যাবিট’–এর জন্য পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে। গত বছর তিনি বক্স অফিসে দাপট দেখান ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ’ সিনেমা দিয়ে। তাঁর সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
স্বপ্নের মতো সময় কাটছে অভিনেত্রী জোয়ি সালডানার। একের পর এক পুরস্কার পাচ্ছেন, তাঁর সিনেমা মুক্তি পেলেই হচ্ছে সুপারহিট। সবশেষ জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন জোয়ি। তিনিই এখন দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনয়শিল্পী। জোয়ি সালডানা অভিনীত সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় এখন ১৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
জোয়ি সালডানার নামের পাশে আছে একের পর এক রেকর্ড। তিনি অভিনয় করেছেন সর্বকালের তিনটি সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায়—২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’।
এ ছাড়া জোয়ি সালডানা হলেন প্রথম অভিনেত্রী, যিনি চারটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যেগুলোর প্রতিটির বৈশ্বিক আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। এই তালিকায় রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ও।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে