সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ তথ্যচিত্র কোনগুলো। কোলাজ
সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ তথ্যচিত্র কোনগুলো। কোলাজ

সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ তথ্যচিত্র কোনগুলো

এখন আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’। বলা হচ্ছে ৩৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত তথ্যচিত্রটি সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্র। ‘মেলানিয়া’ নিয়ে আলোচনার মধ্যে জেনে নেওয়া যাক আয়ের বিচারে শীর্ষ ১০ তথ্যচিত্র কোনগুলো? ‘মেলানিয়া’ সে রেকর্ড ছুঁতে পারবে কি না, তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।

‘ওশানস’

‘ওশানস’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

ফারাসি এই তথ্যচিত্র মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। জ্যাক পেরিনের তথ্যচিত্রটিতে উঠে এসেছে পৃথিবীর পাঁচটি মহাসাগরের জীববৈচিত্র্য। একই সঙ্গে এটি মানুষের কার্যক্রমের কারণে পরিবেশে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা তুলে ধরে। তথ্যচিত্রটির ফরাসি সংস্করণে ধারা বর্ণনা করেছেনজ্যাক পারিন আর ইংরেজি সংস্করণে পিয়ার্স ব্রসনান। চলচ্চিত্রটির বাজেট প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। এটি ৫০টির বেশি ভিন্ন স্থানে শুট করা হয়। পুরো শুটিং প্রক্রিয়ায় সময় লেগেছে চার বছর। এটি বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ৮ কোটি ৬৭ লাখ ডালারের বেশি।

‘ডিপ সি থ্রি–ডি’

‘ডিপ সি থ্রি–ডি’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

তালিকার দুইয়ে আছে ‘ডিপ সি থ্রি–ডি’। এটা আয় করেছে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলারে বেশি। এ সিনেমাও সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে তৈরি। এটি নির্মাণ করেছেন হাওয়ার্ড হল, যিনি আগেও সমুদ্রের ওপর ভিত্তি করে ‘ইন টু দ্য ডিপ’ ও ‘আইল্যান্ড অব দ্য শার্কস’–এর মতো চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। এই তথ্যচিত্রে ধারাবর্ণনা দিয়েছেন জনি ডেপ ও কেট উইন্সলেট; সংগীত পরিচালনা করেছেন ড্যানি এলফম্যান।

‘আর্থ’

‘আর্থ’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

১০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার আয় করে তালিকার ৮–এ আছে বিবিসি ও ডিসকভারির আলোচিত তথ্যচিত্র ‘আর্থ’। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই তথ্যচিত্র আমাদের গ্রহের বিভিন্ন বন্য পরিবেশ এবং প্রাণীর বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছে। এটি শুরু হয় আর্টিক অঞ্চল থেকে; শেষ হয় অ্যান্টার্কটিকায়। এতে ধারাবর্ণনা দিয়েছেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট।

‘টু ফ্লাই!’

‘টু ফ্লাই!’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

তালিকায় এর পরে আছে ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘টু ফ্লাই!’ এটি মূলত বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার ওপর নির্মিত। এটি বানিয়েছেন গ্রেগ ম্যাকগিলিভ্রে ও জিম ফ্রিম্যান। মুক্তির পর এটি আয় করেছে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি।

‘এভারেস্ট’

‘এভারেস্ট’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণের রুদ্ধশ্বাস সংগ্রাম, যা নেপাল ও তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে আইম্যাক্স থিয়েটারে মুক্তির পর এটি দ্রুতই ইতিহাস গড়ে তোলে—আইম্যাক্স ফরম্যাটে নির্মিত সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে পরিণত হয়। ৪৫ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে ধারা বর্ণনা দিয়েছেন লিয়াম নিসন। এটি আয় করেছে ১২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।

‘স্পেস স্টেশন থ্রি–ডি’

‘স্পেস স্টেশন থ্রিডি’র পোস্টার। আইএমডিবি

শীর্ষ আয় করা ১০ তথ্যচিত্রের মধ্যে তালিকার ৫–এ অবস্থান ‘স্পেস স্টেশন থ্রিডি’র। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া তথ্যচিত্রটি এ পর্যন্ত আয় করেছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। ত্রিমাত্রিক এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মিতি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নিয়ে। এটি প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন টনি মায়ার্স। তথ্যচিত্রটির ধারাভাষ্য দিয়েছেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ। এটি ছিল মহাকাশে গিয়ে ধারণ করা প্রথম আইম্যাক্স থ্রি–ডি চলচ্চিত্র।

‘মার্চ টু দ্য পেঙ্গুইনস’

‘মার্চ টু দ্য পেঙ্গুইনস’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

২০০৫ সালে মুক্তি পায় পাওয়া তথ্যচিত্রটির আয় ১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। এটিকে এককথায় বলা যায়—বরফের রাজ্যে পেঙ্গুইনের বেঁচে থাকার মহাকাব্য। ফরাসি এই তথ্যচিত্র পরিচালনা ও চিত্রনাট্য করেছেন লুক জাকে। এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ‘অ্যান্টার্কটিকার সম্রাট’ পেঙ্গুইনদের জীবনসংগ্রাম; অ্যান্টার্কটিকার তীব্র শীতল পরিবেশে পেঙ্গুইনদের প্রজননযাত্রা ও পরিবার গঠন কতটা চ্যালেঞ্জিং, সেটাই দেখানো হয়েছে এখানে।

‘ফারেনহাইট ৯/১১’

‘ফারেনহাইট ৯/১১’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

মাইলের মুরের বহুল আলোচিত, বিতর্কিত তথ্যচিত্রটি কান উৎসবে স্বর্ণপাম জিতেছিল। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই তথ্যচিত্র মূল বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনকাল, ইরাক যুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধ নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা। বাণিজ্যিক দিক থেকেও ছবিটি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে ইতিহাসের সর্বাধিক আয় করা তথ্যচিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এ পর্যন্ত তথ্যচিত্রটি আয় করেছে ২২ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন: দ্য হিডেন সিক্রেট’

‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন: দ্য হিডেন সিক্রেট’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন কিথ মেরিল। এখানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ইউরোপীয় অভিযাত্রী ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বিকাশ তুলে ধরা হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা শ্বাসরুদ্ধকর আকাশপথের দৃশ্য ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ। শেষ অংশে একটি কমলা রঙের আল্ট্রালাইট বিমানের সঙ্গে ক্যানিয়নের ওপর দিয়ে উড়াল দর্শকদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এটি এ পর্যন্ত আয় করেছে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

‘মাইকেল জ্যাকসনস দিস ইজ ইট’

‘মাইকেল জ্যাকসনস দিস ইজ ইট’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

২৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার আয় নিয়ে সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল তথ্যচিত্র এটি। ২০০৯ সালে তথ্যচিত্রটিতে প্রয়াত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের কনসার্ট সিরিজ ‘দিস ইজ ইট’-এর প্রস্তুতি ও প্রাকৃতিক মুহূর্তগুলোকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে। তবে এই কনসার্ট শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। কারণ, ২০০৯ সালে জ্যাকসনের মৃত্যু হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কেনি ওর্টেগা। যেহেতু মূলত রিহার্সাল ফুটেজগুলো জ্যাকসনের মৃত্যুর আগে কোনো চলচ্চিত্রের জন্য পরিকল্পিত ছিল না, তাই তাঁর মৃত্যুর পরই এই ডকুমেন্টারি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছবিটি ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়। প্রথমে দুই সপ্তাহের সীমিত প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হলেও, প্রেক্ষাগৃহের চাহিদা এবং দর্শকের সাড়া দেখে এটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়—দেশি ও আন্তর্জাতিক মার্কেটে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত।

আইএমডিবি অবলম্বনে