ব্রিটনি স্পিয়ার্স। রয়টার্স
ব্রিটনি স্পিয়ার্স। রয়টার্স

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ব্রিটনির বিরুদ্ধে মামলা

মার্কিন পপসংগীতের অন্যতম আলোচিত তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স আবারও আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে—যা নতুন করে তাঁকে শিরোনামে এনে দিয়েছে।

কী অভিযোগ আনা হয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকার বিরুদ্ধে একটি মিসডিমিনর (অল্প গুরুতর অপরাধ) অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

তবে অভিযোগপত্রে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি—কোন ধরনের মাদক বা কত পরিমাণ অ্যালকোহল তাঁর শরীরে ছিল।

কীভাবে ঘটেছিল ঘটনাটি?
গত ৪ মার্চ, নিজের বাড়ির কাছাকাছি ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস ১০১ মহাসড়কে দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ তাঁকে থামায়। তিনি একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল জানায়, তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। এরপর মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ‘সোব্রাইটি টেস্ট’ নেওয়া হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন জামিনে মুক্তি পান তিনি।

ব্রিটনি স্পিয়ার্স

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ ২৩ মার্চ তদন্ত শেষ করে মামলাটি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠায়। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ পর স্বেচ্ছায় একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হন ব্রিটনি স্পিয়ার্স—যা তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, ‘জীবনে পরিবর্তনের একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।’

আদালতে কী হতে পারে?
এই মামলার শুনানি আগামী সোমবার নির্ধারিত। তবে এটি যেহেতু মিসডিমিনর অভিযোগ, তাই তাঁর আদালতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ব্রিটনি দোষ স্বীকার করলে এক বছরের প্রবেশন, বাধ্যতামূলক ডিইউআই শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং জরিমানা করা হতে পারে।
এই ধরনের প্রস্তাব সাধারণত তাঁদের জন্য দেওয়া হয়, যাঁদের আগে এ ধরনের অপরাধের ইতিহাস নেই এবং যাঁরা নিজেরাই চিকিৎসা বা সংশোধনের উদ্যোগ নেন।

উত্থান-পতনে ভরা এক ক্যারিয়ার
১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে বিশ্বসংগীতে ঝড় তোলা নাম ব্রিটনি স্পিয়ার্স। ‘টক্সিক’, ‘আই অ্যাম আ স্লেভ ফর ইউ’ এমন অসংখ্য হিট গান তাঁকে করে তুলেছিল এক প্রজন্মের আইকন।

তাঁর অ্যালবাম ‘...বেবি ওয়ান মোর টাইম’ ও ‘উপস!...আই ডিড ইট এগেইন’ পেয়েছে ‘ডায়মন্ড’ স্বীকৃতি—যা বাণিজ্যিক সাফল্যের এক বিরল নজির।

ব্যক্তিজীবনের লড়াই
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকাকালেই ব্যক্তিজীবনে নানা সংকটে পড়েন ব্রিটনি। ২০০৮ সালে তাঁকে আদালতের নির্দেশে একটি কনজারভেটরশিপের আওতায় রাখা হয়, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতেন তাঁর বাবা ও আইনজীবীরা।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২১ সালে সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পান তিনি—যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তী সময়ে তিনি বিয়ে করেন, আবার বিচ্ছেদও ঘটে। একই সময়ে প্রকাশ করেন নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য ওম্যান ইন মি’, যা বেস্টসেলার হয়।

বর্তমান অবস্থা
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তিনি কার্যত সংগীত থেকে দূরে রয়েছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে পূর্ণাঙ্গ কোনো অ্যালবাম প্রকাশ করেননি, মাঝেমধ্যে কিছু যৌথ গান করেছেন।
এই নতুন আইনি জটিলতা তাঁর জীবনের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয়—পরিবর্তনের পথে হাঁটার চেষ্টা অন্তত শুরু করেছেন তিনি।

এপি ও বিবিসি অবলম্বনে