কেট বেকিনসেল। রয়টার্স
কেট বেকিনসেল। রয়টার্স

ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী

হলিউড অভিনেত্রী কেট বেকিনসেল পর্দায় বহুবার ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু বাস্তব জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা তাঁকে যে কতটা গভীরভাবে তাড়া করে বেড়ায়, এবার সে কথাই প্রকাশ্যে জানালেন তিনি। পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি, শোক এবং প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, কিছু মানুষের জীবন সত্যিই ‘নরকের মতো’ হয়ে উঠতে পারে।

ইনস্টাগ্রামে গত বুধবার প্রকাশ করা এক ভিডিওতে ৫৩ বছর বয়সী বেকিনসেল জানান, গত আড়াই বছরে তিনি তাঁর মা ও সৎবাবা—দুজনকেই হারিয়েছেন। সেই ব্যক্তিগত শোক ও মানসিক আঘাতের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি পিটিএসডিতে আক্রান্ত মানুষদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ তারকা বলেন, যাঁরা জীবনে ভয়াবহ সহিংসতা, আতঙ্ক কিংবা বিভীষিকার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরা সেই স্মৃতি থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না। তাঁর মতে, এমন মানুষদের দুর্বল হিসেবে নয়, বরং ‘নায়ক’ হিসেবেই দেখা উচিত।

সিনেমার দৃশ্যে কেট বেকিনসেল। আইএমডিবি

বেকিনসেল বলেন, অনেকেই নিজেদের কষ্ট এত ভালোভাবে আড়াল করতে শেখেন যে বাইরে থেকে তাঁদের স্বাভাবিক মনে হয়। আর সেখানেই তৈরি হয় আরেক সমস্যা—মানুষ তখন তাঁদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজনই অনুভব করেন না।
পিটিএসডির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেকিনসেল বলেন, আক্রান্ত অনেক মানুষ এক ঘণ্টার বেশি ঘুমাতেও পারেন না। কারণ, ঘুমালেই তাঁদের তাড়া করে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। কোনো গন্ধ, শব্দ, চিন্তা বা অনুভূতিও হঠাৎ তাঁদের আবার সেই ভয়াবহ স্মৃতির মধ্যে ফিরিয়ে নিতে পারে।

বেকিনসেলের ভাষায়, সেই অভিজ্ঞতা ‘আসলেই নরকের মতো’।
মানসিক এই লড়াই বাইরে থেকে দেখা যায় না বলেই মানুষের প্রতি আরও দয়ালু ও কোমল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অভিনেত্রীর মতে, কারও বাহ্যিক জীবন যতই আকর্ষণীয় বা বিলাসবহুল মনে হোক না কেন, তাঁর ভেতরে কী ধরনের যুদ্ধ চলছে, তা অন্যের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

আরেকটি ভিডিওতে জাতীয় শোক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে কথা বলেন বেকিনসেল। সেখানে তিনি বলেন, কাউকে বারবার ‘খুব শক্ত মানুষ’ বলারও একটি বিপদ আছে। কারণ, সেই শক্তিকেই অনেক সময় ভুলভাবে এমন ধারণা করা হয় যে ওই মানুষটির আর কারও কোমলতা বা সহানুভূতির প্রয়োজন নেই।

বেকিনসেল বিশেষভাবে তাঁদের কথা উল্লেখ করেন, যাঁরা নীরবে প্রিয়জনের সেবা করছেন এবং তাঁদের চোখের সামনে প্রিয় মানুষকে ধীরে ধীরে অসুস্থতায় ভেঙে পড়তে দেখছেন। অনেক সময় চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের এই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয় এবং সেই অভিজ্ঞতা তাঁদেরও ভেঙে দিতে পারে।

সব শেষে বেকিনসেলের আবেদন, মানুষের জীবনে এমন একজন হওয়ার চেষ্টা করা উচিত, যার কাছে অন্য কেউ নিরাপদ বোধ করেন। কারণ, সামান্য সহানুভূতি কিংবা পাশে দাঁড়ানোও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
কেট বেকিনসেলের ব্যক্তিজীবনও গত কয়েক বছর ছিল গভীর শোকে ভরা। তাঁর সৎবাবা রয় ব্যাটার্সবি মারা যান ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে মারা যান তাঁর মা অভিনেত্রী জুডি লো। প্রিয় দুই মানুষকে হারানোর পর নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে এবার তাই অন্যদের প্রতিও সহমর্মিতার বার্তা দিলেন এই হলিউড তারকা।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে