মার্টিন স্করসেজি। রয়টার্স
মার্টিন স্করসেজি। রয়টার্স

এআই নিয়ে হলিউডে তুমুল বিতর্ক, এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমতার পক্ষে দাঁড়ালেন স্করসেজি

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনয়শিল্পী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, এমিলি ব্লান্ট ও পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। তবে এবার কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করলেন প্রভাবশালী আরেক নির্মাতা মার্টিন স্করসেজি। প্রকাশ্যে এআই প্রযুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ট্যাক্সি ড্রাইভার, রেজিং বুল, গুডফেলাজ, দ্য ডিপার্টেড নির্মাতা। শুধু সমর্থনই নয়, জার্মানির এআই প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক ফরেস্ট ল্যাবসের উপদেষ্টা হিসেবেও যোগ দিয়েছেন তিনি। এ ঘোষণার পর চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা—সিনেমার ভবিষ্যৎ কি সত্যিই এআইনির্ভর হতে যাচ্ছে?

‘সিনেমা এখনো নতুন একটি মাধ্যম’
স্করসেজির মতে, সিনেমার ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। মাত্র ১২৫ বছরের এই শিল্পমাধ্যম এখনো বিকশিত হচ্ছে। তাই নতুন প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সিনেমা এখনো একটি নতুন মাধ্যম। তাই এটি কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের খোলা মন রাখতে হবে।’ এআই নিয়ে তাঁর আগ্রহ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; বরং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা–নিরীক্ষার ইতিহাস তাঁর ক্যারিয়ারে অনেক পুরোনো। ২০১১ সালের ‘হুগো’ ছবিতে তিনি ব্যাপকভাবে থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন। আবার ২০১৯ সালের দ্য আইরিশম্যান-এ অভিনেতাদের বয়স কমিয়ে দেখানোর জন্য অত্যাধুনিক ডি-এজিং (বিবয়সীকরণ) প্রযুক্তির ব্যবহারও করেছিলেন। স্করসেজির মতে, এআই সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায়।

মার্টিন স্করসেজি। রয়টার্স

মার্টিন স্করসেজি। রয়টার্সস্টোরিবোর্ড তৈরিতে এআই
স্করসেজি জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে নিজের নতুন একটি চলচ্চিত্রের প্রস্তুতির সময় এআই ব্যবহার করে দৃশ্যের স্টোরিবোর্ড তৈরি করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে স্টোরিবোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পরিচালক কল্পনায় যে দৃশ্য দেখেন, চিত্রগ্রাহক, প্রোডাকশন ডিজাইনার বা আর্ট ডিরেক্টরের কাছে তা পৌঁছে দিতে এটি সাহায্য করে। স্করসেজির ভাষায়, ‘এই প্রযুক্তি আমাকে আমার মাথার ভেতরের ছবিটা আরও স্পষ্টভাবে সহকর্মীদের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করেছে।’ তাঁর মতে, প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে সময়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ। এআই সেই সময় কমিয়ে আনতে পারে এবং নির্মাণ ব্যয়ও কমাতে পারে।

মার্টিন স্করসেজি। রয়টার্স

‘গুডফেলাজ’-এর বিখ্যাত দৃশ্যের উদাহরণ
ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে স্করসেজিকে এআই টুল ব্যবহার করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্র ‘গুডফেলাজ’-এর বিখ্যাত ‘কোপাকাবানা শট’-এর কথা উল্লেখ করেন। সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা লং টেক। ক্যামেরা নায়ক হেনরি হিলকে অনুসরণ করে নাইটক্লাবের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যায়। দৃশ্যটির প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে ধারণ করা হয়েছিল। স্করসেজির মতে, এখন যদি তাঁর হাতে এমন এআই টুল থাকত, তাহলে দৃশ্যটির পরিকল্পনা আরও দ্রুত করা সম্ভব হতো। ‘এ ধরনের টুল থাকলে অনেক কিছু অনেক দ্রুত বের করা যায়। এতে সময় বাঁচে, একই সঙ্গে পুরো ইউনিটের ওপর চাপও কমে,’ বলেন তিনি।

হলিউডে এআই গ্রহণের নতুন ঢেউ
স্করসেজি একা নন। সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকজন নির্মাতা এআই নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। জেমস ক্যামেরনও স্ট্যাবিলিটি এআইয়ের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে পিটার জ্যাকসন সম্প্রতি বলেছেন, তিনি এআইকে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের আরেকটি রূপ হিসেবেই দেখেন। তবে সবাই যে একই মত পোষণ করছেন, তা নয়। এআই নিয়ে সবচেয়ে কড়া সমালোচকদের একজন গুয়ের্মো দেল তোরো। এই মেক্সিকান নির্মাতা প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘শিল্পকে কোনো অ্যাপ দিয়ে তৈরি করা যায়—এমন ধারণা আমি মানি না।’ এর আগেও দেল তোরো মন্তব্য করেছিলেন, এআই ব্যবহার করার চেয়ে মরতেও রাজি তিনি।

এদিকে চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতেও এআইয়ের উপস্থিতি বাড়ছে। ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে চলতি বছর প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে ‘ড্রিমস অব ভায়োলেটস’ নামের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুড্রামা, যা সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে।

ভ্যারইটি অবলম্বনে