
ফুটবল মাঠেই হয়তো তাঁর ভবিষ্যৎ লেখা ছিল। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলেছেন ফুটবল। পড়াশোনা করেছেন মার্কেটিংয়ে। অভিনয় ছিল তাঁর কাছে তখন নিছক আগ্রহ। কিন্তু থিয়েটারে পা রাখার পর বদলে যায় পরিকল্পনা। মাত্র এক বছর আগে টেলিভিশনে অভিষেক, আর এখন নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘আ ডিফারেন্ট ওয়ার্ল্ড’–এর অন্যতম আলোচিত মুখ কর্নেল ইয়াং। আইএমডিবিতে তিনি আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সিরিজটির নতুন প্রজন্মের গল্পে শ্যাকিল জনসন চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন এই তরুণ অভিনেতা। ২৪ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে সিরিজটির নতুন সংস্করণ মুক্তির পর তাঁর অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
কে এই কর্নেল
কর্নেল ইয়াংয়ের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে। সাত ভাই–বোনের একজন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর জীবনে খেলাধুলার বড় ভূমিকা ছিল। স্কুলে ফুটবল খেলেছেন; পরে ম্যাককেন্ড্রি ইউনিভার্সিটিতে ওয়াইড রিসিভার হিসেবে খেলেন। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও তখন সেটিকে পেশা হিসেবে ভাবেননি। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং পড়ার সময় একঘেয়েমি কাটাতে থিয়েটারে যুক্ত হন। ফুটবল অনুশীলন শেষে নাটকের মহড়ায় যেতেন তিনি। এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে ‘হাই স্কুল মিউজিক্যাল’-এর ট্রয় বোল্টনের উদাহরণও দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি অনেকটা বাস্তব জীবনের ট্রয় বোল্টন—একদিকে ফুটবল, অন্যদিকে থিয়েটার।’
অভিনয়ে আসার পথ
মিডল স্কুলে মাঝেমধ্যে নাটকে অভিনয় করলেও তখনো ভাবেননি অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেবেন। ইয়াংয়ের নিজের কথায়, সিনেমা ভালো লাগত, নাটকেও অভিনয় করতেন, কিন্তু সেখানেই থেমে গিয়েছিলেন। ফুটবল তখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটারই তাঁকে নতুনভাবে অভিনয়ের দিকে টেনে আনে। এরপর কলেজ শেষ করে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর প্রথম পর্দার কাজ ‘বিয়ন্ড দ্য গেটস’-এ। ২০২৫ সালে ওই সিরিজের দুটি পর্বে ফটোগ্রাফার চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর নেটফ্লিক্সের ‘ফরএভার’-এ টড চরিত্রে অভিনয় করেন। আইএমডিবির তথ্যনুযায়ী, এটিই ছিল তাঁর প্রথম টিভি শো।
যে চরিত্র বদলে দিল পরিচিতি
কর্নেল ইয়াংয়ের ক্যারিয়ারে বড় সুযোগ আসে ‘আ ডিফারেন্ট ওয়ার্ল্ড’ দিয়ে। মূল সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র রন জনসনের ছেলে শ্যাকিল জনসনের ভূমিকায় তিনি সাড়া ফেলেছেন। চরিত্রটি একজন তারকা কোয়ার্টারব্যাক, যিনি মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে এইচবিসিইউতে পড়তে আসেন। একই সঙ্গে বাবার প্রত্যাশা, নিজের পরিচয়, প্রেম ও ব্যক্তিগত শোক—সবকিছুর সঙ্গে তাঁকে লড়তে হয়। মজার বিষয় হলো, বাস্তব জীবনেও কর্নেল ছিলেন কলেজ ফুটবলার। তাই শ্যাকিল চরিত্রটির সঙ্গে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। অডিশনের কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘স্ক্রিপ্ট পড়েই তাঁর মনে হয়েছিল, আমার এই চরিত্রটি চাই। আমি জানি, এটা আমার।’
ছোটবেলার প্রিয় সিরিজেই অভিনয়ের সুযোগ
‘আ ডিফারেন্ট ওয়ার্ল্ড’ কর্নেলের কাছে শৈশবের আবেগের নাম। তাঁর বোন ছিলেন সিরিজটির বড় ভক্ত। বোনের সঙ্গে বসে ছোটবেলায় তিনি সিরিজটি দেখতেন। ২০২৪ সালের শুরুতে তিনি সিরিজটি আবার দেখছিলেন। তখনই তাঁর মনে হয়েছিল, এমন একটি সিরিজ আবার দরকার। কয়েক মাস পর যখন নতুন করে সিরিজটি ফেরার খবর আসে, তিনি নিজের এজেন্টকে অডিশনের জন্য যোগাযোগ করতে বলেন। শ্যাকিল চরিত্রের জন্য অডিশনের সুযোগ পেয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল একেবারে পরিষ্কার—অন্য কোনো চরিত্র নয়, তিনি শ্যাকিলই করতে চান।
কঠিন সময়ও এসেছে
অভিনয়জীবন খুব ছোট হওয়ায় কর্নেল ইয়াংয়ের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প তেমন নেই। বলা হয় হলিউডে এসেই যেন রাতারাতি খ্যাতি পেলেন। বরং তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ফুটবল থেকে অভিনয়ে ক্যারিয়ার বদলের সিদ্ধান্ত। খেলাধুলার পরিচিত জগৎ ছেড়ে নতুন পেশায় এসে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বড় একটি সিরিজে নিয়মিত চরিত্র পেয়েছেন। আর ‘আ ডিফারেন্ট ওয়ার্ল্ড’-এ কিংবদন্তি অভিনেতা-নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার চাপও ছিল। তবে পিপলডটকম–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘ডেবি অ্যালেনসহ পুরোনো ও নতুন অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে পারিবারিক পরিবেশ পেয়েছেন, যা তাঁর উদ্বেগ কমিয়ে দেয়।’
তাঁর বয়স ২৫ বছর। ক্যারিয়ারের বয়স মাত্র কয়েক বছর। কিন্তু ফুটবল মাঠ থেকে থিয়েটার, সেখান থেকে নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ—কর্নেল ইয়াংয়ের পথচলা এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে, কখনো কখনো জীবনের প্রথম পরিকল্পনা বদলে ফেলাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার পরে এখন বুঝেশুনেই পথ হাঁটতে চান তিনি। এর মধ্যে তিনি ‘ডুয়িং লাইফ’ নামের একটি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন।
নেটফ্লিক্স, পিপলডটকম ও আইএমডিবি অবলম্বনে