
একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও ছুটি পাওয়ার জন্য তাঁকে এমন কিছু করতে হয়, যার ফলে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া লাগে। কারণ, সহজে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার অনুমতি তিনি পান না। চাকরিতে তিনি পুলিশ, তবে সংসারে তিনি শুধু একজন স্ত্রী, পুত্রবধূ—সবার মন জয় করে চলা এক ‘বেবি’।
অম্বিকা পান্ডিতের ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ শুরু থেকেই এই বৈপরীত্যকে শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বাইরে থেকে এটি এক খুনের তদন্তের গল্প। কিন্তু গভীরে গেলে বোঝা যায়, ছবিটির আসল তদন্ত অন্যত্র। তদন্ত চলছে ববিতা সিংয়ের নিজের জীবনের—কেন তিনি সব সময় অন্যকে খুশি করতে চান, কেন নিজের ইচ্ছার কথা বলতে পারেন না, কেন তাঁকে সবাই ‘বেবি’ বলে ডাকলেও তিনি ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন।
একনজরে সিনেমা: ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ ধরন: ক্রাইম–ড্রামা পরিচালনা: অম্বিকা পণ্ডিত অভিনয়: নিমিশা সাজয়ন, অংশুমান পুষ্কর, বরুণ সবতি, সুনীতা রাজওয়ার, প্রিয়া যাদব স্ট্রিমিং: অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট
ববিতা ‘বেবি’ সিং (নিমিশা সাজয়ন) একজন সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা। মধ্যপ্রদেশে কর্মরত এই নারী আত্মবিশ্বাসী কোনো সিনেমার পরিচিত পুলিশ নন। তিনি বন্দুক হাতে দাপিয়ে বেড়ান না, সংলাপ ছুড়ে অপরাধীকে স্তম্ভিত করেন না। বরং তিনি দ্বিধায় ভোগেন, ভুল করেন, সহকর্মীদের ফোন করে পরামর্শ নেন, মাঝেমধ্যে হোঁচট খান, কখনো নিজেকে অনিশ্চিত মনে হয় তদন্তের সামনে।
ববিতার সবচেয়ে বড় সমস্যা সম্ভবত অপরাধী নয়—মানুষকে ‘না’ বলতে না পারা।
অফিসে বসের মন ভালো রাখতে তিনি রিল তৈরি করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খুশি রাখতে ছোট ছোট মিথ্যা বলেন। নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে সব সময় আগে রাখেন। এতটাই যে বহুদিনের ছুটি না পেয়ে তিনি এমন একটি সাজানো অভিযোগ নিজের ঘাড়ে নেন, যাতে তাঁকে দুই সপ্তাহের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কারণ, সামনে ননদের সাধের অনুষ্ঠান। বিয়ের পর এখনো শ্বশুরবাড়িতে ঠিকমতো যাওয়া হয়নি তাঁর।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়াকে ছুটি পাওয়ার উপায় হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘটনা ছবির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বিদ্রূপগুলোর একটি।
স্বামী শরদকে (অংশুমান পুষ্কর) নিয়ে ববিতা ফিরে যান নিজের শহর রেওয়ায়। আর সেখানেই দেখা হয় শৈশবের বন্ধু বানসির (বরুণ সবতি) সঙ্গে। বানসি ববিতার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তার চোখেমুখে জমে আছে অনেক না বলা কথা। ববিতার প্রতিও তার একধরনের গভীর টান আছে। কিন্তু শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে বসার চেয়ে সেদিন শ্বশুরবাড়ির দায়িত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ববিতা দেখা করতে পারেন না। পরদিন সকালে খবর আসে—বানসিকে হত্যা করা হয়েছে। এখান থেকেই শুরু হয় ছবির খুনের রহস্য। কিন্তু ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ প্রচলিত ‘খুনি কে’ ধরনের থ্রিলার হয়ে থাকতে চায় না। বানসির মৃত্যু আসলে একটি দরজা খুলে দেয়। সেই দরজা দিয়ে ববিতা ঢুকে পড়েন নিজের অতীত, নিজের সম্পর্ক, নিজের দাম্পত্য ও নিজের হারানো আত্মমর্যাদার ভেতরে।
বানসি তাঁর কাছে শুধু শৈশবের বন্ধু নন। ছোটবেলায় শরীরের ওজন নিয়ে অন্যরা যখন ববিতাকে নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল বানসি। ববিতার শরীরের বাইরে একজন মানুষকে দেখতে পেরেছিল সে। বহু বছর পর সেই মানুষটির মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে ববিতা যেন আবার খুঁজতে শুরু করেন নিজেকে।
সিনেমায় ববিতাকে ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। হত্যার তদন্ত, সন্দেহভাজনদের মুখোমুখি হওয়া, হামলার আশঙ্কা—সবই আছে। কিন্তু ছবির সবচেয়ে অস্বস্তিকর দৃশ্যগুলো খুনের তদন্তে নয়, ঘরের ভেতরে। কারণ, ববিতার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা সম্ভবত তাঁর নিজের সংসার।
সেখানে তাঁর শরীর নিয়ে মন্তব্য করা হয়। ওজন বেড়ে যাওয়ার খোঁটা দেওয়া হয়। থাইরয়েডের সমস্যা পারিবারিক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। সন্তান না হওয়া নিয়েও চাপ আছে। অন্যদের সামনে এমনভাবে খাবার দেওয়া হয়, যার ভেতরেও লুকিয়ে থাকে অপমান। একটি পরিবার কীভাবে প্রকাশ্যে কাউকে আঘাত না করেও প্রতিদিন একটু একটু করে তাকে ভেঙে দিতে পারে, ছবিটি সেই নির্মম বাস্তবতাই তুলে ধরে।
ববিতার শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে তাঁর পুলিশ পরিচয়ের বিশেষ কোনো মূল্য নেই। তাঁদের দরকার একজন আদর্শ পুত্রবধূ—যিনি অতিথিদের দেখবেন, রান্নাঘরের কাজ সামলাবেন, অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নেবেন ও পরিবারের প্রত্যেকের চাহিদা পূরণ করবেন। পুলিশের পোশাক খুললেই যেন তাঁর পেশাগত পরিচয়ও খুলে যায়।
শরদের চরিত্রটি ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি। শুরুতে তাঁকে দেখে খুব পরিচিত ধরনের কোনো অত্যাচারী স্বামী মনে হয় না। তিনি মারধর করেন না, স্ত্রীর প্রতি কখনো কখনো যত্নও দেখান। আর ঠিক এখানেই চরিত্রটির জটিলতা। কারণ, শরদ এমন একজন মানুষ, যিনি নিজেকে ভালো স্বামী বলে ভাবতে ভালোবাসেন।
শরদ ববিতাকে ভালোবাসেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সহজ নয়। কিন্তু তাঁকে সম্মান করেন কি না—সেই প্রশ্ন ছবিটি ক্রমবর্ধমানভাবে বড় করে তোলে।
ববিতা প্রতিবাদ করলে শরদ নিজেই কান্নাকাটি করে ভুক্তভোগীর ভূমিকায় চলে যান। স্ত্রীর জাত, শরীর কিংবা নিজের বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি এমন এক ঋণের অনুভূতি তৈরি করেন, যেন ববিতার তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
বাইরে থেকে ভালো মানুষ বলে মনে হওয়া এই পুরুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অধিকারবোধ ও পিতৃতন্ত্র ছবিটির অন্যতম শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ। ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ তাই শুধু সেই পুরুষদের গল্প নয়, যাঁরা প্রকাশ্যে অত্যাচারী। ছবিটি প্রশ্ন তোলে সেই মানুষদের নিয়েও, যাঁরা নিজেদের ভালো মনে করেন, কিন্তু স্ত্রীদের জীবনের ওপর অধিকারকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেন।
নির্বাহী প্রযোজক সুদীপ শর্মার নাম থাকায় ছবিটির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ‘পাতাল লোক’ ও ‘কোহরা’ র তুলনা আসে। সেই তুলনার কিছু কারণও আছে। এখানেও আছেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁকে কেউ খুব গুরুত্ব দেন না। সহকর্মীদের চোখে তিনি বড় কোনো নায়ক নন। তাঁর নিজের ভেতরেও আছে অনিশ্চয়তা। কিন্তু সেই দুর্বলতাই তাঁকে মানবিক করে তোলে।
‘পাতাল লোক’-এর হাতিরাম চৌধুরীর সঙ্গে ববিতার মিল এখানেই—দুজনই প্রচলিত অর্থে বীর নন। তাঁরা অসম্পূর্ণ। ভুল করেন। নিজের ভেতরের লড়াই নিয়ে চলেন। আর সেই মানবিক দুর্বলতাই তাঁদের দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তবে ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ শেষ পর্যন্ত আরেকটি অন্ধকার অপরাধকাহিনি হতে চায় না।
এখানে খুনের রহস্যের সমাধানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ববিতার নিজের ভেতরের পরিবর্তন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে বড় জয় হয়তো খুনি ধরা নয়। সবচেয়ে বড় জয়—নিজেকে নতুন করে দেখতে শেখা।
ছবির নির্মাতা অম্বিকা পান্ডিত ও চিত্রনাট্যকার অমিতা ব্যাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য ববিতার চারপাশের পৃথিবী তৈরি করা। শাড়ি কেনা নিয়ে খোঁচা, পারিবারিক অনুষ্ঠান নিয়ে চাপ, কথার আড়ালে অপমান, ববিতাকে গুরুত্ব না দেওয়া—আবার তিনি কিছু করতে শুরু করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া—এসব ছোট ছোট মুহূর্ত মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত এক বাস্তবতা। ঘরের সাজসজ্জা, অগোছালো মধ্যবিত্ত পরিবেশ, ভিড়, পারিবারিক অনুষ্ঠান—সবকিছুই গল্পের অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে।
পরিবারকে আমরা সাধারণত আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে ভাবি। ছবিটি দেখায়, সেই পরিবারই অনেক সময় মানুষের সবচেয়ে গভীর অস্থিরতার উৎস হয়ে উঠতে পারে। এই জায়গাতেই ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ সবচেয়ে শক্তিশালী। তবে দুর্বলতাও আছে। ছবিটি যে খুনের রহস্য দিয়ে শুরু হয়, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই অংশটি কিছুটা শক্তি হারায়। নির্মাতাদের মনোযোগ যত বেশি ববিতার মনস্তাত্ত্বিক যাত্রার দিকে যায়, রহস্যের সমাধান ততটাই তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়ে। সিনেমাটির শেষটাও হয় বড্ড তাড়াহুড়া করে।
ছবিটি একসঙ্গে নারীবাদী গল্প, ক্রাইম থ্রিলার, পারিবারিক নাটক ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রের গল্প হতে চেয়েছে। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সব সময় সমানভাবে সফল হয়নি। কোথাও কোথাও গল্পের গতি ধীর, কোথাও কিছু দৃশ্য পুনরাবৃত্তির অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু ছবির শক্তিশালী অংশগুলো এতটাই জীবন্ত যে দুর্বলতাগুলো পুরো অভিজ্ঞতাকে ভেঙে দিতে পারে না।
নিমিশা সাজয়নকে কেন্দ্র করেই দাঁড়িয়ে আছে ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’। তিনি ববিতাকে কোনো ‘সুপারকপ’ বানাননি। তাঁর ববিতা ভীত, ক্লান্ত, আহত, বিভ্রান্ত। কিন্তু ভেতরে–ভেতরে জমতে থাকে ক্ষোভ। নিমিশার মুখে সেই জমে থাকা অনুভূতিগুলো দারুণভাবে ধরা পড়ে। কখন রাগ করছেন, কখন অপমান গিলে ফেলছেন, কখন নিজেকে সামলে রাখছেন—অনেক সময় সংলাপের চেয়েও তাঁর চোখ ও নীরবতা বেশি কথা বলে।
দিনে ববিতা পুলিশ কর্মকর্তা, রাতে পুত্রবধূ। এই দুই পরিচয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা নারীর ধীরে ধীরে নিজের পক্ষে কথা বলতে শেখার যাত্রা নিমিশা অত্যন্ত সংযতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কিচেন’-এ যেমন তিনি নারীর দৈনন্দিন অপমানের অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে পর্দায় এনেছিলেন, এখানেও সেই ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।
বরুণ সোবতির উপস্থিতি কম, কিন্তু বানসি চরিত্রটি ছবিজুড়ে থেকে যায়। তাঁর চোখের ভাষা, ববিতার প্রতি মমতা ও চরিত্রটির না বলা সংকট গল্পে আবেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর তৈরি করেছে। অংশুমান পুষ্কর শরদের চরিত্রে যথেষ্ট সংযত। তাঁর চরিত্রটি যত এগোয়, ততই ‘ভালো স্বামী’র মুখোশের নিচের অস্বস্তিকর মানুষটিকে দেখা যায়।
সুনীতা রাজওয়ার শাশুড়ির চরিত্রে কার্যকর। তাঁর ছোট ছোট মন্তব্য ও আচরণ ববিতার ওপর পারিবারিক চাপকে আরও স্পষ্ট করে।
ছবির সবচেয়ে সুন্দর প্রতীক সম্ভবত ববিতার ডাকনাম-‘বেবি’। নামটি আপাতদৃষ্টিতে আদরের। কিন্তু সবাই যখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ‘বেবি’ বলে ডাকে, তখন সেই শব্দের ভেতর অন্য এক অর্থ তৈরি হয়। তাঁকে যেন ছোট করে রাখা হচ্ছে। তাঁর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ছবির যাত্রাপথে ‘বেবি’ ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে চান ববিতা। এই পরিবর্তন কোনো নাটকীয় সংলাপ বা এক মুহূর্তে ঘটে যাওয়া বিপ্লব নয়। তিনি রাতারাতি বদলে যান না। পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোনো বীরোচিত বক্তৃতাও দেন না। পরিবর্তন আসে ছোট ছোট পদক্ষেপে।
নিজের কথা শোনা দিয়ে। নিজের রাগকে স্বীকার করা দিয়ে। সেই অর্থে ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ একটি খুনের রহস্যের গল্প হলেও এর আসল রহস্য অন্য। একজন নারী কত দিন নিজেকে হারিয়ে বাঁচতে পারেন? আর একসময় যখন তিনি নিজেকে খুঁজতে শুরু করেন, তখন সেই খোঁজ কি অন্য সব তদন্তের চেয়েও কঠিন হয়ে ওঠে না?
অম্বিকা পান্ডিতের ছবিটি সব প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দেয় না। রহস্যের অংশে আরও গভীরতা থাকলে ছবিটি হয়তো আরও শক্তিশালী হতে পারত। কিন্তু পিতৃতন্ত্রের বড় বড় স্লোগানের বদলে প্রতিদিনের ছোট ছোট অপমান, নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক কৌশলকে যেভাবে ছবিটি তুলে ধরে, সেটিই এর সবচেয়ে বড় অর্জন।
শেষ পর্যন্ত ‘ববিতা সিং রিপোর্টিং’ খুনি খোঁজার গল্পের চেয়ে অনেক বেশি একজন নারীর নিজেকে ফিরে পাওয়ার গল্প।