
গতকাল রাতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’। হরর-কমেডি ঘরানার এ সিরিজের মধ্য দিয়ে প্রথমবার চরকির কোনো কনটেন্টে কাজ করলেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা আরশ খান। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। সিরিজটি ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকের কৌতূহল যেমন চোখে পড়ছে, তেমনি আলোচনায় এসেছে এই জুটির পর্দার বাইরের রসায়ন ও বন্ধুত্ব।
‘আঁতকা’য় আরশ-সুনেরাহ্কে দেখা গেছে এমন এক জুটিতে, যেখানে ভয় আর হাসির মিশেলে গল্প এগিয়েছে পারিবারিক আবহে। পর্দার এই বোঝাপড়ার পেছনে বাস্তব জীবনের বন্ধুত্ব বড় ভূমিকা রেখেছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেই বন্ধুত্ব কতটা গভীর, তারই ঝলক মিলেছে সম্প্রতি তাঁদের এক ভিডিও আলাপচারিতায়।
মজার ছলে শুরু হওয়া সেই আড্ডায় একে অপরকে চেনার ‘পরীক্ষা’ দেন দুজন। আরশের প্রিয় ফুটবল দল কোনটি—এ প্রশ্নে সুনেরাহ্ মুহূর্তেই বলেন, পর্তুগাল। ঠিক উত্তর পেয়ে হাসি থামাতে পারেননি আরশ।
পাল্টা প্রশ্নে সুনেরাহ্ জানতে চান নিজের রাশি। আরশের উত্তর—লিও (সিংহ রাশি)। সুনেরাহ্ যোগ করেন, তাঁর কন্যা রাশি। এখানেই থেমে থাকেননি তাঁরা। আরশের প্রিয় অভিনেতা হিসেবে সুনেরাহ্ বলেন প্রয়াত হুমায়ুন ফরীদির নাম, আরশ নীরবে সম্মতি জানান।
ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়েও উঠে আসে নানা কথা। সুনেরাহ্ সকালে ওঠেন নাকি রাত জাগেন? আরশের উত্তর, রাত জাগেন। সেটিও মিলে যায়। ফোন না টেক্সট—যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুনেরাহ্র পছন্দ ভিডিও কল, এটাও আরশ জানেন। এমনকি সুনেরাহ্র একটি কম পরিচিত গুণের কথাও প্রকাশ করেন আরশ—তিনি খুব ভালো রান্না করতে পারেন; যদিও বিষয়টি খুব একটা সামনে আসে না।
আলাপ গড়ায় আরও ব্যক্তিগত জায়গায়। একে অপরের ‘লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উঠে আসে মজার তথ্য। আরশের মতে, সুনেরাহ্ ভালোবাসা প্রকাশ করেন দামি উপহার দিয়ে। আর সুনেরাহ্ বলেন, আরশ যাঁকে ভালোবাসেন বা পছন্দ করেন, তাঁর জন্য কষ্ট করেও প্রাপ্য জিনিসটা এনে দেন। হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন, ‘অভিমান করাও আরশের আরেকটা লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ।’
ভয় আর স্বপ্নের কথাও আসে এই আড্ডায়। সুনেরাহ্ সবচেয়ে ভয় পান প্রতারণা আর অকারণ চিৎকার-চেঁচামেচিতে। আরশের সুপ্ত স্বপ্ন জানিয়ে সুনেরাহ্ বলেন, ভবিষ্যতে মেয়েসন্তান হলে তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কার রেসার হিসেবে দেখতে চান আরশ। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অভিনেতা বলেন, সন্তান রাজি থাকলে এবং সুযোগ পেলে এটাই তাঁর ইচ্ছা।
এ আলাপচারিতার ফাঁকেই আসে সিরিজের প্রসঙ্গ। সুনেরাহ্ যেখানে বলেন, আরশ হরর-কমেডি পছন্দ করেন, সেখানে আরশ নিজেই ভুল ভাঙান। তিনি জানান, কমেডি ভালো লাগলেও তিনি আদতে হরর সিনেমা দেখতে ভয় পান। তবে ‘আঁতকা’য় ভৌতিক উপাদানের সঙ্গে কমেডির মিশেল থাকায় কাজ করতে তেমন অসুবিধা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘আঁতকা’য় প্রথমবার সিরিজের গল্প লেখার পাশাপাশি প্রথমবার প্লেব্যাকেও কণ্ঠ দিয়েছেন রাবা খান। ১৩ জানুয়ারি রাতে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর গাওয়া ‘হায় মন’ গানটি। এই রোমান্টিক ঢঙের গানে রাবা খানের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নিলয় আহমেদ। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সিরিজের পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধি, আর কথায় তন্ময় পারভেজ। চরকির ইউটিউব চ্যানেলে গানটি ইতিমধ্যেই প্রশংসা পাচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রকাশিত ট্রেলারে হরর-কমেডির পাশাপাশি বড় করে উঠে এসেছে একটি পরিবারের গল্প। পারিবারিক টানাপোড়েন, নানা টুইস্ট আর ভিন্ন স্বাদের বর্ণনায় এগিয়েছে সিরিজটি। রাবা খান জানান, অনেক দিন এই গল্পের ওয়ার্কিং টাইটেল ছিল ‘নাপিত গল্প’। ট্রেলার থেকে বোঝা যায়, বিদেশফেরত এক তরুণ দেশে ফিরে সেলুন খুলতে চায়, কিন্তু পরিবার তাতে সমর্থন দেয় না।
‘আঁতকা’য় আরও অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, রোজী সিদ্দিকী, সাবেরী আলম, মৌসুমী নাগ, সোহেল মণ্ডল, ফারিহা রহমান, মুকুল সিরাজ, সুমন আনোয়ার, দুর্জয়, আলিফ খান, ফারদীন খান, ফাহাদ রিয়াজ খান, ডালিয়া ও আবু নায়েম।
সব মিলিয়ে মুক্তির পরদিনই ‘আঁতকা’ শুধু তার গল্প বা নির্মাণশৈলীর জন্য নয়, আরশ ও সুনেরাহ্র পর্দার বাইরের এই বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপের কারণেও দর্শকের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।