জীবনের প্রয়োজন মানুষকে কখন, কোথায় নিয়ে যায়, তার কোনো ঠিক নেই। আবার এই যাওয়ার পথেই ঘটতে পারে এমন কিছু মুহূর্ত, যা বদলে দিতে পারে পুরো জীবন। এমন কিছু অনিশ্চয়তার গল্প নিয়েই আসছে ‘পথের প্যাঁচাল’। গত বুধবার সন্ধ্যায় চরকি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্ল্যাশ ফিকশনটির পোস্টার প্রকাশ করেছে। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত কাজটি ৬ মে রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাবে।
নাম শুনে অনেকের মনে ভেসে উঠতে পারে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’র কথা। তবে নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘শব্দের মিল থাকলেও গল্প বা ভাবনায় এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের গল্প।’
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অটোরিকশাচালক বায়েজিদ (ইয়াশ রোহান), রোজকার সংগ্রামে ঘুরপাক খায় যার জীবন। সেই জীবনে হঠাৎ করেই জড়িয়ে পড়েন নবীন ঔপন্যাসিক ঊমা (বহ্নি হাসান), নিজের প্রথম বই প্রকাশের চেষ্টায় ব্যস্ত। ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের এই দুই চরিত্রের মধ্যকার সম্পর্ক এবং অদৃশ্য মানবিক সংযোগই গল্পের মূল উপজীব্য।
গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘জীবন মানেই এক দীর্ঘ পথ, আর সেই পথে তৈরি হয় অসংখ্য গল্প। এই ফিকশনে কিছু বিষয় অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করেছি। এখানে দুই শ্রেণির দুই মানুষের গল্প আছে। শ্রেণি ও অনুভূতির বয়ান মিলিয়ে এক মানবিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। কেউ এটিকে অসম ভাবতে পারেন, তবে আমি একে সহজ-সরল মানবিক সম্পর্ক হিসেবেই দেখেছি।’
ইয়াশ রোহান বলেন, ‘এটা আসলে ট্যালেন্টের গল্প। ট্যালেন্ট কোথায়, কীভাবে প্রকাশ পাবে, কেউ জানে না। এই গল্পেও তেমনই এক অপ্রত্যাশিত জায়গায় সেই প্রতিভার দেখা মেলে।’ অটোরিকশাচালকের চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। আজ থাক, পরে কখনো বলব।’
বহ্নি হাসান বলেন, ‘ঊমা একজন স্বাবলম্বী ও দৃঢ়চেতা নারী। তার জীবনে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে সংঘাত আছে। কিন্তু বায়েজিদের সঙ্গে তার সম্পর্কটা অন্য রকম—একটা মানবিক সংযোগ তৈরি হয়। এটা ঠিক প্রেম নয়, আবার প্রেমের বাইরেও নয়।’
শিপ্রা দেবনাথের গল্পে ‘পথের প্যাঁচাল’-এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। আলফা-আই ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ফ্ল্যাশ ফিকশনটিতে আরও অভিনয় করছেন মনির খান শিমুল, অশোক বেপারী, প্রণব ঘোষ ও সানজিদা স্নিগ্ধা।