আগামী ১৯ মার্চ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পাবে ‘জ্যাজ সিটি’। সিরিজটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি অভিনেতা আরিফিন শুভ। সম্প্রতি সিরিজটির প্রচারে কলকাতায় হাজির হন শুভ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজারের সঙ্গে কথা বলেন অভিনেতা। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে এই সিরিজে সুযোগ পাওয়াসহ নানা প্রসঙ্গ।
বদলে যাওয়া জীবনদর্শন
সাক্ষাৎকারে শুভ জানান ২০২৪ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। ‘আমার মা ওই বছর চিরবিদায় নিলেন। বুঝতে পারলাম, জীবন খুব ছোট। কে কী বলল, তুমি কী পেলে—কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। এই ভাবনাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি বা চেতনা ভাববেন না। এটাই বাস্তব। আর কোনো কিছুই যখন চিরস্থায়ী নয়, তাহলে আমরা কেন এত গুরুগম্ভীর থাকব? আরেফিন তাই জীবনকে সহজভাবে নিতে শিখছে। বাকি জীবন পুরোপুরি বাঁচতে চাইছে। ও কী ভাবছে, এ কী বলল—এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে। কারণ, আমি ভাবলেও লোকে আমায় বিচার করবে, না ভাবলেও,’ বলেন অভিনেতা।
প্রসঙ্গ ‘জ্যাজ সিটি’
মুক্তির আগে সিরিজটির গল্প নিয়ে কিছু বলেননি শুভ। তবে বললেন, কোনো ভারী বিষয়কে কঠিন করে দেখানো বা বলা অনেক সহজ। বরং তাকে বিনোদনের মোড়কে মুড়ে পরিবেশন করা কঠিন। ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজে পরিচালক সৌমিক সেন সেটাই করেছেন। কখনো কৌতুক, কখনো ব্যঙ্গ, কখনো বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করা ভীষণই কঠিন, পরিশ্রমের কাজ।
দুই বছর ধরে অডিশন
এই সিরিজের জন্য দুই বছর অডিশন দিতে হয়েছে আরিফিন শুভকে! এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমারও তখন হাতে কাজ ছিল না। কাজ করতে হবে...! (হা হা হেসে) রসিকতা করলাম। দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য পাঠানো হতো। মুম্বাইয়ে ডেকেছিল, গিয়েছিলাম। তার পরেও কিছু বলে না। ওই দুই বছরে একই চরিত্রের জন্য ওঁরা আরও অনেকের অডিশন নিয়েছেন। একটা দৃশ্য অন্যকে দিয়ে করানোর পর সেই দৃশ্যই হয়তো আমাকেও পাঠানো হয়েছে। আমি টেপ করে পাঠিয়েছি। হয়তো ভালো লেগেছে। হয়তো ভালো লাগেনি। এভাবে “ট্রায়াল অ্যান্ড এরর”-এর মধ্যে দিয়েই সম্ভবত আমাকে বাছা হয়েছে।’
এক কাজের জন্য এত অপেক্ষা? ইগোতে লাগেনি? এমন প্রশ্নের উত্তর উত্তরে শুভ বলেন, ‘মাইকেল জ্যাকসন একটা সময় “কিং অব পপ” ছিলেন। তিনি কি আর সেই জায়গায় আছেন? একই কথা স্টিভ জবসের ক্ষেত্রেও খাটে! তিনিও আর তাঁর জায়গায় নেই। এঁদের মতো তারকারা “অহং” ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন। আরিফিন শুভ সেই জায়গায় এমন কে, যে অডিশন দিতে পারবে না? শুরুতেই বলেছি, আরিফিন জীবনকে ওভাবে দেখে না। কোনো গল্প বা চিত্রনাট্য জেনে যদি সেই কাজের অংশ হতে চাই, তার জন্য যদি আমায় অডিশন দিতে হয়, দেব। এটা তো একজন অভিনেতার কাজ। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের মতো আন্তর্জাতিক তারকার যদি এই নিয়ে অস্বস্তি না থাকে, তাহলে আরিফিনের কেন থাকবে? বিশ্বে এভাবেই কাজ হয়। এখানে “অহং” আসবে কেন? এসব তো আমাদের বানানো!’
কেন শুভ
‘জ্যাজ সিটি’র টিজার দেখে স্পষ্ট, এটি নির্মিত হয়েছে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশি অভিনেতা বলেই কি গল্পের খাতিরে শুভকে নেওয়া হয়েছে? অভিনেতা বললেন, ‘সবার আগে নিজেকে বিশ্ববাসী বলতে ভালোবাসি। আমার মনে হয়, কোনো কাজের ক্ষেত্রেই আমি কোনো দেশের বা ভৌগোলিক কারণ জড়িত থাকে না। উদাহরণ হিসাবে এই কাজটিকেই দেখুন। সিরিজের অডিশন কখনো মুম্বাইয়ে হয়েছে, কখনো কলকাতায়। আবার বাংলাদেশ থেকেও আমার অডিশন হয়েছে। যেহেতু কলকাতায় অনেক দিন ধরে কাজ করছি, সেই জায়গা থেকেও আমার অডিশনের কথা ভাবা হতেই পারে। আর সিরিজের “জিমি রা” কিন্তু ভারতীয় চরিত্র। এখানে একাধিক ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে।’