
কোরীয় পপ তারকা, ব্ল্যাকপিংকের সদস্য জিসু এবার আলোচনায়। তবে গানের জন্য নয়, অভিনয় দিয়ে। জিসু অভিনীত নতুন সিরিজ ‘বয়ফ্রেন্ড অন ডিমান্ড’ নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই আলোচনায়। যদিও কিছু দর্শক এখনো তাঁর অভিনয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, তবে সিরিজের ব্যতিক্রমধর্মী গল্প ও ভিন্নধর্মী চরিত্র দর্শকদের ধরে রেখেছে।
সিরিজটি ৬ মার্চ ২০২৬ মুক্তি পেয়েছে। জিসু এখানে ওয়েবটুন প্রযোজকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাতে বাস্তব জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি ভার্চুয়াল ডেটিং সিমুলেশন সার্ভিসের সাহায্য নেন, যেখানে ব্যবহারকারীরা ‘সাবস্ক্রাইব’ করে কল্পিত প্রেমের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
এটি জিসুর প্রথম একক প্রধান নায়িকা হিসেবে সিরিজ। এর আগে তিনি ‘স্নোড্রপ’ (২০২১) ও ‘নিউটপিয়া’য় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া ‘ওমনিসিন্ট রিডার: দ্য প্রফেসি’ সিনেমাতেও দেখা গেছে তাঁকে। অভিনয় নিয়ে জিসু নিয়মিত সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রাথমিক ধারাবাহিকগুলোয় উচ্চারণ, কণ্ঠস্বর ও অভিব্যক্তি নিয়ে দর্শকরা আপত্তি তুলেছেন। তবে এই সিরিজে তাঁর চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। কেবল তারকা বলেই কি তাঁকে নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেক দর্শক। পরিচালক কিম জং-সিক বলেছেন, ‘জিসু এই চরিত্রের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে।’
জিসু নিজেও বলেছেন, ‘আমি চাই দর্শকেরা অনুভব করুন, চরিত্রটি যেন আমার জন্য ঠিকঠাক। আশা করি, তারা দেখবেন আমি সেই চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি।’
অবশ্য সব সমালোচনা নেই। বিশেষ করে প্রেম ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যে কিছু দর্শক বলছেন তার কণ্ঠের কম্পন বা উচ্চারণ স্পষ্ট নয়। তবে আগের সমালোচনার তুলনায় এখনকার প্রতিক্রিয়া অনেকটাই সংযমী।
সিরিজের আকর্ষণের অন্য একটি মূল দিক হলো ভার্চুয়াল প্রেমিকের জগৎ। এখানে ৯০১ জন চরিত্র রয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রী দ্বারা অভিনীত, যেমন সিও ইন-গুক। তাঁরা গোয়েন্দা, ডাক্তার, বিচারক এমনকি রহস্যময় অ্যাসাসিনের মতো ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দর্শকরা দ্রুত সিরিজের ভৌতিক কল্পনার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছেন। এর ফলাফলও দ্রুত এসেছে। প্রকাশের এক দিনের মধ্যেই ‘বয়ফ্রেন্ড অন ডিমান্ড’ নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল টিভি শো চার্টে সপ্তম স্থানে উঠে আসে। দুই দিন পর, ৮ মার্চ এটি পঞ্চম স্থানে পৌঁছায়। এ পর্যন্ত এটি এশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ৬৯টি দেশে টপ ১০-এ প্রবেশ করেছে।
কোরিয়া টাইমস অবলম্বনে