মুক্তির পর সমালোচকদের কাছে রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়েছিল সিনেমাটি। জনপ্রিয় রেটিং ওয়েবসাইট রোটেন টমাটোজে এর রেটিং ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। তবে সমালোচকদের মতামতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিয়েছেন সাধারণ দর্শক। ক্রিস ইভান্স ও আনা দে আরমাস অভিনীত রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার অ্যাকশন সিনেমা ‘ঘোস্টেড’ লুফে নিয়েছেন তাঁরা। ফলাফল? ২০২৩ সালে মুক্তির প্রথম দুই দিনেই এটি অ্যাপল টিভি প্লাসের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার রেকর্ড গড়ে। শুধু তা-ই নয়, নতুন বছরে ওটিটি কনটেন্ট র্যাঙ্কিং সাইট ‘ফ্লিক্স প্যাট্রল’–এর সেরা দশের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে সিনেমাটি।
একনজরেসিনেমা: ‘ঘোস্টেড’ধরন: রোমান্টিক অ্যাকশন কমেডিভাষা: ইংরেজিপরিচালনা: ডেক্সটার ফ্লেচারঅভিনয়: ক্রিস ইভান্স, আনা দে আরমাস, অ্যাড্রিয়েন ব্রডিস্ট্রিমিং: অ্যাপল টিভি প্লাসদৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট
‘ঘোস্টেড’-এর গল্প খুবই সাদামাটা। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে কোল টার্নার (ক্রিস ইভান্স), যে পেশায় একজন কৃষক এবং মনেপ্রাণে একজন স্বপ্নালু প্রেমিক। এক বাজারে তার সঙ্গে দেখা হয় রহস্যময়ী আর্ট কালেক্টর সেডি রোডসের (আনা দে আরমাস)। প্রথম দেখাতেই প্রেম এবং দারুণ একটি রাত কাটানোর পর সেডি হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। আধুনিক সম্পর্কের পরিভাষায় যাকে বলে, ‘ঘোস্টেড’ হয় কোল।
কাকতালীয়ভাবে কোলের ট্র্যাকার লাগানো ইনহেলারটি সেডির ব্যাগে রয়ে যায়। জিপিএসের মাধ্যমে কোল জানতে পারে, সেটি আছে লন্ডনে। ভালোবাসার টানে সে লন্ডনে পাড়ি জমায়। সেখানেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়। কোল আবিষ্কার করে, তার স্বপ্নের নারী কোনো সাধারণ মেয়ে নয়, সে সিআইএর দুর্ধর্ষ স্পাই। এরপরই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়ে সেডি ও কোল। শুরু হয় তাদের রোমান্স, কমেডি আর ধুন্ধুমার অ্যাকশন।
সমালোচকদের মতে, ছবির প্রধান দুর্বলতা এর চিত্রনাট্য। গল্পে নতুনত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। বহু দৃশ্য বিভিন্ন জনপ্রিয় স্পাই-মুভি থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে হয়। সরলরৈখিক এই গল্পে গভীরতা বা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার অভাব রয়েছে, যা মনোযোগী দর্শকদের হতাশ করেছে। অস্কারজয়ী অভিনেতা অ্যাড্রিয়েন ব্রডির মতো শক্তিশালী অভিনেতাকে একটি দুর্বল খলনায়কের চরিত্রে নষ্ট করা হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।
সমালোচকদের এমন সমালোচনার পরও ‘ঘোস্টেড’-এর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর প্রধান দুই তারকা ক্রিস ইভান্স ও আনা দে আরমাস। ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’র সুপরিচিত ইমেজ থেকে বেরিয়ে এসে ক্রিস ইভান্স এখানে এক সাধারণ, কিছুটা আনাড়ি প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে, আনা দে আরমাস আবারও প্রমাণ করেছেন যে অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি কতটা সাবলীল। পর্দায় তাঁদের রসায়ন এতটাই জমে যে তা ছবির দুর্বল গল্পকেও ছাপিয়ে গেছে।
তাদের খুনসুটি, ঝগড়া এবং বিপদের মুহূর্তে একে অপরের পাশে থাকার দৃশ্যগুলোই দর্শকদের মূল বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে। ‘নাইভস আউট’ এবং ‘দ্য গ্রে ম্যান’-এরপর এই জুটির তৃতীয় ছবিটিও তাঁদের রসায়নের কারণেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সিনেমার পরিচালক ডেক্সটার ফ্লেচার গল্পের গভীরতার চেয়ে নির্ভেজাল বিনোদনের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। দ্রুতগতির অ্যাকশন, হালকা কমেডি এবং তারকা-রসায়নকে পুঁজি করে তিনি একটি নিখাদ ‘পপকর্ন মুভি’ তৈরি করেছেন।
ছবির বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল বেশ কিছু চমকপ্রদ ক্যামিও। ক্রিস ইভান্সের মার্ভেল সহকর্মী অ্যান্থনি ম্যাকি, সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রায়ান রেনল্ডসের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য বড় চমক ছিল। এসব বিষয় সাধারণ দর্শকের ছবিটি উপভোগ করার জন্য বাড়তি কারণ জুগিয়েছে।
‘ঘোস্টেড’ হয়তো কোনো তাক লাগানো সিনেমা নয় এবং এর গল্প হয়তো দর্শকের বেশি দিন মনেও থাকবে না। কিন্তু যাঁরা ক্রিস ইভান্স ও আনা দে আরমাসের রসায়ন উপভোগ করতে চান এবং ধুন্ধুমার অ্যাকশনের সঙ্গে কমেডির মিশেলে একটি নির্ভেজাল বিনোদন খুঁজছেন, তাঁদের এই সিনেমা হতাশ করবে না।