ম্যাডোনা
ম্যাডোনা

‘মা হিসেবে তাদের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না’

গাজায় হত্যাযজ্ঞ থামাতে এবার সোচ্চার হলেন পপ তারকা ম্যাডোনা। ৬৬ বছর বয়সী বিশ্বসংগীতের প্রভাবশালী এই তারকা এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে পোপ চতুর্দশ লিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন আরও দেরি হওয়ার আগেই গাজা সফর করেন। ম্যাডোনা লিখেছেন, ‘বেশি দেরি হওয়ার আগেই আপনি দয়া করে গাজায় যান; শিশুদের কাছে আপনার আলো পৌঁছে দিন। একজন মা হিসেবে তাদের কষ্ট দেখে আমি সহ্য করতে পারছি না। শিশুদের প্রতি বিশ্বের সবারই দায়িত্ব আছে।’

পোপের উদ্দেশে এই পোস্টে ম্যাডোনা আরও লিখেছেন, ‘আমাদের মধ্যে আপনিই একমাত্র মানুষ, যাঁকে গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না। আমাদের মনের দরজা খুলতে হবে, যেন শিশুদের জীবন বাঁচানো যায়।’ পোস্টের শেষে আরও লিখেছেন, ‘আর সময় নেই। দয়া করে বলুন, আপনি যাবেন। ভালোবাসা, ম্যাডোনা।’
তাঁর এই পোস্টে ৩ লাখ ২৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া জমা হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত সাড়ে ১৫ হাজার মন্তব্য করা হয়েছে।

ম্যাডোনা

এমন এক সময়ে এই পোস্ট দিলেন ম্যাডোনা, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান যৌথ বিবৃতিতে গাজার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এবারই প্রথম না, গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি নিয়ে সোচ্চার ম্যাডোনা। ২০২৩ সালে লন্ডনে পারফর্ম করার সময় তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘শিশুদের কষ্ট, তরুণদের কষ্ট, বয়স্কদের কষ্ট; সবকিছু হৃদয়বিদারক। তবে আমাদের হৃদয় ভাঙলেও মনোবল ভাঙতে পারবে না।’ শক্তি ও ভালোবাসা জাগ্রত করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া কিছুদিন আগে ছেলের জন্মদিনে তিনি লিখেছিলেন, ‘গাজায় যদি নির্দোষ শিশুদের বাঁচানো যেত, তবে সেটাই হতো মা হিসেবে সন্তানকে দেওয়া আমার সবচেয়ে বড় উপহার।’

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকতে বিভিন্ন সংস্থায় অনুদান দিতেও ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাডোনা। তিনি লিখেছেন, ‘আমি কারও দিকে আঙুল তুলছি না, দোষারোপ করছি না বা পক্ষ নিচ্ছি না। সবাই কষ্ট পাচ্ছে। অপহৃতদের মায়েরাও। আমি প্রার্থনা করি তারা মুক্তি পাক।’

এই দফায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৫৯৯–এ। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
তথ্যসূত্র : বিবিসি