নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি
নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি

কোনো শিল্পী যদি দলীয় ব্যানারে সুযোগ নিতে চায়, তার ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত: ন্যান্‌সি

সংস্কৃতি বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের মানুষদের অনেক প্রত্যাশা। তাঁরা চান—স্বচ্ছ নীতি, স্বাধীন কর্মপরিবেশ আর যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন। বেতার-টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও শিল্পীদের রাজনীতি—বিভিন্ন বিষয়ে নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সির চাওয়া তুলে ধরেছেন মনজুর কাদের

গত দেড় বছরে তথ্য এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে আমি হতাশ। নতুন সরকারের এই দুই বিভাগে থেকে তাই আশাবাদী হতে চাই। প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও কোনো শিল্পীকে একঘরে করার চর্চাটা মোটেও ঠিক নয়। একজন সাধারণ মানুষ যদি রাজনীতির অংশ হন, তাহলে একজন শিল্পী কেন হতে পারবেন না। একজন শিল্পী বিএনপি পছন্দ করবেন, নাকি আওয়ামী লীগ পছন্দ করবেন, নাকি জাতীয় পার্টি—এটা একান্তই তাঁর ব্যাপার। শিল্পীর যোগ্যতা থাকলে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই সরকারের পথচলা উচিত। আর কিছু শিল্পী আছেন, সুযোগ পেলেই যাঁরা এর সঙ্গে ওর সঙ্গে ছবি টাঙিয়ে দেন—এ ধরনের যাঁরা, তাঁদের শিল্পী হিসেবে না দেখে অতিথি পাখি হিসেবে দেখা হোক। এঁদের ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। আর কোনো শিল্পী যদি দলীয় ব্যানারে সুযোগ নিতে চান, তাঁর ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত। শিল্পীকে তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।

নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি

বিটিভিতে তেমন একটা যাই না। কিন্তু গত দেড় বছরে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ করব, রাজনৈতিক পরিচয় যেন এখানে প্রাধান্য না পায়। বিটিভি ও বেতার যেন সব প্রকৃত শিল্পীর আঁতুড়ঘর হয়।

বাংলা সংস্কৃতির বাইরে বাংলা না। সংস্কৃতি ঠিক না থাকলে তো আর বাংলা হয় না। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কৃতিকে আগলে রাখতে চায়, এটা ভোটের মাধ্যমেই দেখিয়ে দিয়েছে। আমি বলব না, বিএনপিকে জিতিয়ে মানুষ দেখিয়েছে; বলব যে জামায়াতকে হারিয়ে তা মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে।

নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বলব, গতবার আমি বিচারক হিসেবে কাজ করেছি। নির্দিষ্ট সময়ে ফলাফল জমা দিয়েছি। এরপরও যখন এত দেরি করে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তখন সবার মনে প্রশ্ন জাগে, কোনো কারচুপি হচ্ছে কি না। ফলাফল যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কিন্তু জবাবদিহির মধ্যে থাকি, পুরস্কারের স্বচ্ছতাও থাকে।

নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি

দেখলাম, চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের মানুষও পদাধিকারবলে বিচারক। তাঁরাও নম্বর দেন। আমি বলব, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নম্বর প্রদানের কাজে না রেখে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখা হোক। মন্ত্রণালয়ের উচিত বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া। বিচারকেরা যে নম্বর দেন, সেটারই প্রতিফলন যেন প্রজ্ঞাপনে থাকে। না হলে বিচারক রাখারই–বা কী দরকার। স্বচ্ছতা দরকার, পুরো বিচারকাজে সৃজনশীল মানুষেরই থাকা উচিত।

নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি

আবার দেখলাম, পুরস্কারের জন্য তিনজনের নাম সুপারিশ করা হয়। আমরা দেখি, তিনজনের মধ্য থেকে একজনের নাম ঘোষণার এখতিয়ার রাখে মন্ত্রণালয়। কিন্তু যদি দেখি ১ নম্বরে যিনি আছেন, তাঁকে বাদ দিয়ে ২ নম্বর পজিশনে যিনি, তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছে, তখন খারাপ লাগে, বিচারক হিসেবে অসম্মানিত বোধ করি। ২ নম্বর পজিশনে যিনি, তাঁকে যদি দিতেই হয়; তাহলে ১ নম্বরে যিনি, তাঁর সঙ্গে যৌথ দিতে পারেন—বিগত সময়ে আমরা এমনটা দেখেছি। আবার এক-দুই পজিশন বাদ দিয়ে ৩ নম্বর পজিশনে যিনি, তাঁকে যদি পুরস্কার দিতে হয়—সেখানেও তিনজনকেই যুগ্মভাবে দেন। না হলে বিচারককে অসম্মান করা যেমন হয়, প্রকৃত শিল্পীকে তাঁর ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়।