সংস্কৃতি বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের মানুষদের অনেক প্রত্যাশা। তাঁরা চান—স্বচ্ছ নীতি, স্বাধীন কর্মপরিবেশ আর যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন। সংগীতাঙ্গনের পরিবেশ, শিল্পীদের রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাইলস ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য হামিন আহমেদ–এর চাওয়া তুলে ধরেছেন মনজুর কাদের
৫৪ বছরে দেশে অনেক কিছুই হয়েছে কিন্তু সংগীতের মানুষদের এই পেশাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আগামী সরকারের কাছে এই পেশার রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। দেশের যেকোনো অস্থিরতা ও সংকটের সময় সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ নিয়ে অহেতুক টানাটানি, ট্যাগিং ও গালাগালি করা হয়। এই সরকারের কাছ থেকে ঘোষণা দিতে হবে, তাদের সময়ে শিল্পীদের সঙ্গে এমনটা হবে না, সেটার পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা দেশের মানুষকে দেওয়া উচিত। আমাদেরও এমনটা দেওয়া উচিত। কারণ, আমরা জানি, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছর এই সরকারের অধীনে থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে কোনো শিল্পীকে কোনো কাজে ডাকা হলে এমন কেউ নেই যে বলবে, আমি কাজ করব না। এরপর সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দালাল বলা হবে, ট্যাগিং দেওয়া হবে—এসব মোটেও উচিত নয়। এ বিষয়ে সরকারকে বার্তা দিতে হবে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, শিল্পীদের শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এখন কোনো সরকারের আমলে কেউ কাজ করলে তাকে দালাল বলে দেওয়া হবে, তা তো হয় না। শিল্প ও সাহিত্যের সঙ্গে জড়িত সবাইকে সরকারের লালন করতে হবে।
আরেকটা কথা বলতে চাই, এখন পর্যন্ত কোনো শিল্পীকে সিআইপি মর্যাদা কেন দেওয়া হয় না? তারাও তো আয় করে, নিয়ম মেনে ট্যাক্সও দেয়। শিল্পাঙ্গনে অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা অনেক মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বিখ্যাত এবং গুরুত্বপূর্ণও। পুরো পৃথিবীতে যারা শিল্প–সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত, তাদের সবার সামনে রাখা হয় অথচ আমাদের এখানে কর্নার করে রাখে। কোনো অনুষ্ঠান হলে শুধু বাজাতে হবে।
সরকারের কাছে চাইব, প্রাথমিক স্কুল থেকে সংগীতকে তারা যেন যুক্ত করে। বাচ্চারা সংগীতের সঙ্গে বেড়ে উঠলে, এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত তাদের জীবন এভাবে শেষ করলে বড় ধরনের মানসিক বিকাশ ঘটবে। এতে সেই বাচ্চা ও তাদের বাবা-মা জানতে পারবে—সংগীতের একটা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আছে।
সারা বাংলাদেশে আমরা যারা অনুষ্ঠান করে থাকি, এর সঙ্গে শুধু শিল্পীরাই না, অনেক ধরনের মানুষের রুটিরুজি জড়িত। সারা দেশে শিল্পীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে অনুষ্ঠান করতে পারে, সরকারকে এটা নিশ্চিত করতে হবে।
সংগীতকে একটা ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ দিতে হবে। আমাদের দেশে সংগীত নিয়ে যা হয়, তাকে মোটেও ইন্ডাস্ট্রি বলা যায় না। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির উদাহরণ টানতে হলে ভারতের দিকে তাকাতে হবে। তাই সংগীতকে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা করণীয়, সেসব উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের ডাকা হলে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেব।