ইব্রাহিম আহমেদ কমল। শিল্পীর ফেসবুক থেকে
ইব্রাহিম আহমেদ কমল। শিল্পীর ফেসবুক থেকে

বাবার মৃত্যু, ডিপ্রেশন আর গিটারে ফেরা, কমলের জীবনের কঠিন সময়

ইব্রাহিম আহমেদ কমল—বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতে এক সমীহজাগানিয়া নাম। এই গিটারিস্ট ও ওয়ারফেজের সদস্য গতকাল বুধবার ফেসবুকে বলেছেন সংগীতে সাফল্য পাওয়ার গল্প। যেখানে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার কথাই জানিয়েছেন তিনি।

নিজের ফেসবুক পোস্টে কমল লিখেছেন, ‘১৯৮৪ থেকে ২০২৬ পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো। ’৮৩ সালের নভেম্বরে গিটার কিনে, ১৯৮৪ থেকে গিটার শেখা শুরু করে, ১৯৮৬–তে প্রথম শো করে, ১৯৮৬ ডিসেম্বরে প্রাইভেট শো করে টাকা উপার্জন করি। ১৯৮৭ সালে ব্যান্ডে জয়েন করে নিয়মিত শো করা, স্টুডিওতে রেকর্ডিং করা, বিটিভিতে বাজানো, বিভিন্ন ব্যান্ড এবং আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজ করা, সংগীতে ইম্প্রুভ করা এবং অনেক পারফরম্যান্স করা।’

এরপর ওয়ারফেজের সঙ্গে শুরু হয় কমলের যাত্রা। সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮৮ সালের ওয়ারফেজের সফল যাত্রা। রেকর্ডিং স্টুডিও কনসার্ট নিয়ে জীবন চলতে থাকা। ১৯৯১–তে ওয়ারফেজের অ্যালবাম হিট হওয়া। এটা আমার একটি বিশাল প্রাপ্তি। এগুলো সবকিছু সম্ভব হয়েছে, কারণ আমার পিতা-মাতা আমার জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমাকে কোনো চাকরি করতে হয়নি। কিন্তু পড়াশোনা, পরিবার, ব্যবসা, দৌড়াদৌড়ি, মিউজিক—সবকিছু একসঙ্গে করতে হয়েছে। ২০২৪–এ বাবা মারা যাওয়ার পরে পরে আমি প্রচণ্ড ডিপ্রেশনে থাকি। এখন একটু গুছিয়ে আমি আবার মিউজিক করতে ফেরত এসেছি। হয়তো আগের মতো পারা সম্ভব না। বেশ কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে। পরিমিত ও পরিণতভাবে ধীরে সুস্থ, আমি মিউজিক এখন করছি।’

১৯৮৯ সালে বন্ধুদের সঙ্গে কমল। শিল্পীর ফেসবুক থেকে

নিজের পোস্টে কমল আরও লিখেছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় ইনস্যুরেন্স আমাকে চাকরি করতে হয় না এবং আমি আমার যে অল্পস্বল্প আছে, তা দিয়ে আমি সারা জীবন চলে যেতে পারব। চাকরি এবং মিউজিক যদি একসঙ্গে হতো, তাহলে আমি করতামই তো। এটা সত্য যে আমি সারা জীবন আমি আমার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পার্টি করছি। ওই বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আমি ব্যান্ড করছি। ওই বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আমি দেশে–বিদেশে ঘুরছি। চাকরি করার কথা জাস্ট চিন্তা করি নাই। ওই আমার ৩০০ জন বেস্ট ফ্রেন্ড। সে আমি সত্তর দশক থেকে। তো ৪০ বছর ৫০ বছর ধরে ওদের নিয়েই আছি। এগুলোর সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট হচ্ছে আমাদের মিউজিক।’

নিজের ফেসবুক পোস্টের শেষে কমল আরও লিখেছেন ভিসা জটিলতা কাটলে ব্যান্ডের সঙ্গে আবার বিদেশ ট্যুর শুরু করবেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এটা প্রথমে বাংলাদেশের মানুষ আপনারা ফার্স্ট হ্যান্ড পাচ্ছেন। যদি ভিসার সমস্যাটা কাটে তাহলে হয়তো ইন্টারন্যাশনাল ট্যুর করতাম। দেখি, আগামী আরও কয়েকটা বছর ওয়ারফেজ নিয়ে আপনাদের কত দূর দেওয়া যায়।’

ওয়ারফেজের সদস্যদের সঙ্গে কমল। শিল্পীর ফেসবুক থেকে