
আলোচিত বাংলা গান ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’ এবার জায়গা করে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল পেজে। ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার কাসেমিরোর ছবি দিয়ে ‘ফিরে আসার গান’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে’। মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময়) বেলা ৩টা ৫২ মিনিটে প্রকাশিত ওই পোস্টটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গানের গীতিকার আসিফ ইকবাল।
মূলত ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে ফিফা তাদের পোস্টে বাংলা ভাষাতেই ব্যবহার করেছে গানটির বহুল পরিচিত এই লাইন। কোনো অনুবাদ ছাড়াই প্রকাশিত পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। এতে ৪৬ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় ২ হাজার মন্তব্য এবং ৭৮০টির বেশি শেয়ার হয়েছে।
এ ঘটনার পর স্মৃতিচারণা করে আসিফ ইকবাল জানান, ২০০৪ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ সংগীত প্রতিযোগিতার জন্য তিনি গানটি লিখেছিলেন। গানটি সুর করেন নকীব খান। গানটিতে কণ্ঠ দেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, দিনাত জাহান মুন্নীসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। তাঁর ধারণা ছিল, গানটি হয়তো কিছু মানুষ শুনবে, গুনগুন করবে, কিংবা কঠিন সময়ে কাউকে সাহস জোগাবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গানটি শিল্পীদের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মানুষের অনুপ্রেরণার গান।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আসিফ লিখেছেন, পরে এই গানের লাইন দেশের মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সংসদেও এটি উদ্ধৃত হয়েছে। খেলার মাঠে, সভামঞ্চে, সংকটের সময়ে কিংবা বিজয়ের মুহূর্তে মানুষ গানটি গেয়েছে।
আসিফ আরও জানান, পরে এই লাইন থেকেই তিনি তাঁর বইয়ের নাম রাখেন ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’। তাঁর ভাষ্য, গানে যা লিখেছেন, জীবনেও সেটিই বিশ্বাস করেছেন। বইটিও পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বেস্ট সেলার হয়ে একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
তবে ফিফার অফিশিয়াল পেজে গানটির ব্যবহার তাঁর কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আল্লাহর পরিকল্পনা আমার কল্পনার চেয়ে অনেক বড়। আজ সেই একই লাইন ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল পেজে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় কাসেমিরোর ছবিসহ ব্রাজিলের ফিরে আসার গান হিসেবে। বাংলায়। কোনো অনুবাদ ছাড়া। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে।’
স্ট্যাটাসে আসিফ ইকবাল আরও লেখেন, ‘একটা লাইন। গান থেকে সংসদে। সংসদ থেকে বইয়ের নামে। বই থেকে ফিফার পেজে। প্রতিটা ধাপে আমি শুধু দিয়ে গেছি। কোনো দিন ভাবিনি, কোথায় কী পৌঁছাবে।’
নিজের এই অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখতে নারাজ এই গীতিকার। তাঁর ভাষ্যে, ‘এই অর্জন আমার না। এ অর্জন বাংলাদেশের। বাংলা ভাষার। চট্টগ্রামের একটা ছেলে একদিন একটা লাইন লিখেছিল। সে লাইন আজ বিশ্বমঞ্চে। কারণ ছোট দেশের ছোট মানুষের কথাও একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছায়। শুধু লক্ষ্য থাকতে হয় অটুট।’