সৈয়দ আব্দুল হাদী
সৈয়দ আব্দুল হাদী

কী নির্দয়, কী ভয়াবহ, কী নিষ্ঠুর—আলো প্রদর্শনী দেখে সৈয়দ আব্দুল হাদী

খুব বেশি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া এখন আর বাসা থেকে বের হন না সৈয়দ আব্দুল হাদী। ঘরে থেকে রেওয়াজ করেন, গান শোনেন, বই পড়েন, সিনেমা দেখে পার করে দেন সময়। এখন নতুন গানও খুব একটা গাইছেন না। কিন্তু আজ শনিবার সকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে এসেছিলেন তিনি। চারতলা ভবনের পুরোটাজুড়ে যে প্রদর্শনী তা ঘুরে ঘুরে দেখেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। কখনো পোড়া বইয়ের সামনে এসে থমকে যান, বলে ওঠেন—কী নির্দয়, কী ভয়াবহ, কী নিষ্ঠুর!

সৈয়দ আব্দুল হাদী

সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার প্রথম আলোর ভবন নিয়ে আয়োজিত শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী দেখতে এর আগে এসেছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। প্রদর্শনী দেখতে আজ শনিবার সকালে এসে সৈয়দ আব্দুল হাদী আবেগতাড়িত হয়েছেন, হতবাক হয়েছেন।

সৈয়দ আব্দুল হাদী

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা শেষে আব্দুল হাদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধ্বংসযজ্ঞ যে হলো তার একটা প্রতীকী নান্দনিক উপস্থাপন। আমার মনে হয়, যে বা যাঁরা এই প্রদর্শনী দেখছেন তাঁদের প্রত্যেকের মনে এই উপলব্ধিটি হবে, কোনোভাবেই এ ধরনের সহিংসতা, এই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ কাম্য নয়। সংবাদমাধ্যমকে কোনোভাবে চাপিয়ে রাখা যায় না, পুড়িয়ে দিলে শেষ হয়ে যায় না, বরং উল্টোটা হয়। সাধারণ মানুষের ভেতরে উল্টো প্রতিক্রিয়া হয়, ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড়াবার সাহস পায়, শক্তি পায়—এখানে এসে তেমনটাই মনে হয়েছে।’

শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই প্রদর্শনী চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত।