তাহসানের বিচ্ছেদ, ক্যারিয়ার নিয়ে যে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না

দেশের গুটিকয় তারকার ফেসবুকে অনুসারী কোটির মতো। এর মধ্যে একজন ছিলেন তাহসান খান। তিনি কাজের বাইরে ফেসবুক পেজ কখনোই ব্যবহার করতেন না। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেন। এটা নিয়ে ভক্তদের নানা মত। অনেকেই বলছেন, তাহসান বিচ্ছেদের কারণেই ফেসবুক থেকে দূরে সরে যান। এটা নিয়ে অবশ্য তাহসান কখনোই কোনো বক্তব্য দেননি।

কেন ফেসবুক ছেড়েছিলেন

তাহসান খান দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে দোটানায় ছিলেন। তাঁকে গত দুই বছরে খুব একটা সরব দেখা যায়নি। কখনো মাসে দু–একটি করে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। দিয়েছেন কাজের খবর। অবশেষে গত বছর তিনি একেবারেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে যান। এ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন তো ফেসবুক ব্যবহার করলাম। এটা এমন কিছু না ব্যবহার করতেই হবে। এখন মনে হচ্ছে, এটা হয়তো আমার জন্য ভালো কিছু না। আমি হয়তো দু–একটি কারণে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারতাম। বিভিন্ন সময় ফেসবুকে আমাদের নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়, মিথ্যা ঘটনা ছড়ায়। এর আগে এক হাসপাতালে গেলাম একজন অভিনন্দন জানাচ্ছেন, আমি নাকি বাবা হয়েছি। মিথ্যা, ভুয়া এগুলো নিয়ে হয়তো আমি ফেসবুকে লিখতে পারতাম, ঘটনা সত্য না, এটা আমি না। কিন্তু এটা তো আমার কাজ নয়। অনেক সময় এটা একধরনের মেন্টাল ট্রমার মধ্যে আমাদের নিয়ে যায়।’

যে প্রশ্ন থেকেই যায়
তাহসান সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি অস্ট্রেলিয়া ট্যুরের আগে থেকেই বিচ্ছেদপ্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। মূলত সেই সময়েই তিনি ফেসবুক ছেড়ে দেন। ফেসবুক ছাড়ার আরও একটি কারণ প্রসঙ্গে তিনি সেই সময় জানিয়েছিলেন, ‘প্রতিটা মানুষের জীবনের সময়গুলো, যদি আলাদা করে ভাগ করা যায় সেখানে প্রথম অধ্যায়ে একজন মানুষের কাছে মনে হবে সে কিছু জানে না। জীবনের প্রথম অধ্যায়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। দ্বিতীয় অধ্যায় মনে হতে পারে অনেক জেনে ফেলেছি আর কিছু জানার নেই। আমি সেই অধ্যায়ের মধ্যেই ছিলাম। সম্প্রতি আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি জীবনজগৎ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না। আমাকে অনেক জানতে হবে। আমাকে পড়াশোনা করতে হবে।’

এদিকে ভক্তদের প্রশ্ন, তাহলে কি তাহসান বিচ্ছেদের সময় থেকেই জীবন নিয়ে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন? হয়তো জীবনসংসার নিয়ে তিনি যা ভেবেছিলেন, সেটা তাঁর মতো করে হয়নি। সেই থেকে তিনি এখন বই পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ‘এখন সময় কাটছে ঘুরে আর বই পড়ে।’ যে কারণে প্রশ্নটা থেকেই যায়, তাহলে কি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থেকেই নিজেকে মানসিক ভাবে বদলাচ্ছেন তাহসান?

জাপান সফরের সময়ের একটি ছবিতে তাহসান খান। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট
গত বছর ছিল তাহসান খানের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাঁর ক্যারিয়ার ২৫ বছরে পা দেয়। সংগীতজীবনের বিশেষ মুহূর্ত উদ্‌যাপন করতে অস্ট্রেলিয়া ট্যুর দেন। এ খবর তিনি ফেসবুকে জানান। এটাই ছিল তাঁর শেষ ফেসবুক পোস্ট। এর সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পরে কোনো অভিযোগ, অভিমান ছিল কি না, কেন গান ছেড়েছিলেন, সেটা অবশ্য তাহসান কখনোই প্রকাশ করেননি। গত বছর সেপ্টেম্বরে দেশটির পাঁচটি শহরে কনসার্ট করে ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য ব্যান্ড’। এর মধ্যেই সেপ্টেম্বরে তিনি একটি কনসার্টে গিয়ে হঠাৎ করে ভক্তদের মধ্যে ঘোষণা দেন এই ট্যুরই হবে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের শেষ স্মৃতি। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গান গাওয়ার ফাঁকে তাহসান বলেন, ‘অনেক জায়গায় লেখা হচ্ছে, এটা আমার শেষ কনসার্ট। শেষ কনসার্ট না, শেষ ট্যুর। আস্তে আস্তে সংগীতজীবনের হয়তো ইতি টানব। এটা ন্যাচারাল।’

তাহসান ও রোজা। কোলাজ

গান ছাড়া সিদ্ধান্ত কি হঠাৎ
গান ছাড়ার ঘোষণার আট মাস আগের কথা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর। সে সময়ে আলোচনায় আসে তাহসানের নতুন গান ‘ভুলে যাব’। প্রথমবারের মতো হলিউডে গানের শুটিং করেছিলেন এই গায়ক ও অভিনেতা। পাশাপাশি ১২টি নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বাংলা গান নিয়ে আশার কথা জানিয়ে তাহসান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলা নিয়ে একটা গণ্ডির মধ্যেই রয়ে গেছি। আমরা বিশাল গানের দর্শক ধরতে পারছি না। লাতিন আমেরিকা, কোরিয়াসহ অনেক দেশ তাদের গানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। শিল্পী হিসেবে আমরাও চাইলে বাংলা গানকে ছড়িয়ে দিতে পারি। সেই দায়বদ্ধতা নিয়েই এখন কাজ করছি।’ বাংলা গান নিয়ে যখন এগিয়ে যাওয়া কথা, তার মধ্যেই হঠাৎ গান ছেড়ে দেওয়া নিয়েও সেই সময় প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় ভক্তরা এমন মন্তব্যও করেন, ‘কোনো অভিমানেই তাহসান গান থেকে দূরে রয়েছেন।’ ভক্তরা এমনটাও প্রত্যাশা করেছিলেন, ‘হয়তো তিনি অভিমান ভুলে আবার গানে ফিরবেন।’

তাহসান খান