মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়লেন থাইল্যান্ডের রকশিল্পী নেনে রয়্যাল। ‘আমেরিকাস গট ট্যালেন্ট’-এর ২১তম মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম থাই বিজয়ী।
নেনে রয়্যালের আসল নাম রাট্টিকান আমলোয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে তিনি পরিবেশন করেন মার্কিন রক ব্যান্ড দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের জনপ্রিয় গান ‘সেভেন নেশন আর্মি’। তাঁর রক ও মেটাল পরিবেশনা পেছনে ফেলেছে ৯ প্রতিযোগীকে।
প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দর্শকদের অন্যতম প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন নেনে। অডিশনে দ্য ক্র্যানবেরিজের ‘জম্বি’ গানটি ভারী রক ধাঁচে পরিবেশন করে বিচারকদের চমকে দেন তিনি। সেই পরিবেশনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি এখন পর্যন্ত দুই কোটির বেশিবার দেখা হয়েছে।
ফাইনালের ফল ঘোষণার আগে আরও একটি বড় মঞ্চে ওঠার সুযোগ পান নেনে। জনপ্রিয় মার্কিন ব্যান্ড লিনকিন পার্কের সঙ্গে মঞ্চে তিনি পরিবেশন করেন ২০২৪ সালের গান ‘দ্য এম্পটিনেস মেশিন’।
ফল ঘোষণার মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেনে। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর মঞ্চে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে দেখা যায় তাঁকে। এই জয়ের সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকা) পুরস্কার। বিজয়ী হওয়ার পর নেনে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি খুব আনন্দিত এবং আবেগাপ্লুত।’ যাঁরা তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নেনের এই জয় থাইল্যান্ডেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। দেশটির অনেক দর্শক সরাসরি অনুষ্ঠান দেখতে না পারায় ইউটিউবের সরাসরি সম্প্রচারের ওপর নির্ভর করেছিলেন। ফল ঘোষণার সময় সেই সম্প্রচার হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে দর্শকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। পরে নেনের জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
একজন দর্শক ফেসবুকে লেখেন, ‘ইতিহাস তৈরি হলো!’ আরেকজন লেখেন, ‘বিশ্বকে লিখে রাখতে দিন, এই থাই মেয়েটি অসাধারণ প্রতিভাবান।’
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলও নেনে রয়্যালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নেনের এই জয় থাইল্যান্ডের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। দেশটির সরকারি জনসংযোগ বিভাগও নেনের সাফল্যকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, বিশ্বের অন্যতম বড় মঞ্চে নিজের থাই পরিচয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন নেনে।
ফুকেটের এক কিশোরীর গিটার হাতে বড় স্বপ্ন দেখার গল্পটি দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিভা, পরিশ্রম ও দৃঢ়তা যেকোনো জায়গা থেকেই আসতে পারে।
ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রতি নেনের ঝোঁক। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি গিটার বাজানো শেখা শুরু করেন। ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ঘুরে ঘুরে সংগীত পরিবেশন করার স্বপ্ন ছিল তাঁর।
থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী ফুকেটে বেড়ে ওঠা নেনে স্থানীয় নাকা উইকেন্ড মার্কেটে নিয়মিত পথসংগীত পরিবেশন করতেন। ফলে শহরটির অনেকের কাছেই তিনি আগে থেকেই পরিচিত মুখ।
ফুকেটের ৪৩ বছর বয়সী ট্যুর গাইড পিয়ারাত না সংখলা বিবিসিকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই নেনেকে গান করতে দেখেছেন তিনি। নেনের সাফল্যে তাঁর ভীষণ আনন্দ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নেনের বিজয়ের পর নাকা মার্কেট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম বড় মঞ্চে নেনেকে আলো ছড়াতে দেখে তারা গর্বিত। তাঁর প্রতিভা, সাহস ও স্বপ্নের প্রতি নিষ্ঠা অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
ফুকেটের কাজনকিয়েট আন্তর্জাতিক স্কুলেও নেনের জয় উদ্যাপন করা হয়েছে। স্কুলটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা একসঙ্গে বসে তাঁর ফাইনাল পারফরম্যান্স দেখেছেন। নেনের নাম ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার সেই মুহূর্তের ভিডিওও প্রকাশ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি অবলম্বনে