একসময় বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই হাসতে হাসতে প্রশ্ন করতেন, ‘কী জন্য করব?’ কখনো আবার বলেছিলেন, ‘বিয়ে নিয়ে জাস্ট ভাবছি না।’ সেই মিমি চক্রবর্তীকে নিয়েই এখন টালিউডে বিয়ের গুঞ্জন। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে পাহাড়ের কোলে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন অভিনেত্রী। সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে উঠে এসেছে নৌবাহিনীর কর্মকতার নাম। তবে মিমি এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানাননি।
‘বিয়ের জন্য আলাদা করে সময় কোথায়?’
২০১৮ সালে আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিমিকে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ২৮ বছর। সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই মিমি মজা করে বলেছিলেন, ‘আমার তো মোটে ২৮ বছর বয়স! এখনই কেন বিয়ে করে নিতে হবে?’ এরপর আরও রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আমার বিয়ে দেওয়ার এত ইচ্ছা যখন, আপনাদের কাগজে একটা পাত্র–পাত্রীর বিজ্ঞাপন দিন না বরং!’
সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেত্রী। বলেছিলেন, ‘বিশ্বাস করুন, বিয়ে নিয়ে জাস্ট ভাবছি না।’ অর্থাৎ সে সময় সংসার পাতার চেয়ে নিজের কাজ ও জীবনযাপন নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বিয়ের জন্য পরিবার বা সমাজের চাপকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে নিজের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
প্রেমের গল্পে রাজ চক্রবর্তী
মিমির প্রেমজীবনের প্রসঙ্গ উঠলে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নাম অবধারিতভাবেই আসে। তাঁদের সম্পর্ক কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি; কিন্তু টালিউডে একসময় এই সম্পর্ক ছিল বহুল আলোচিত। রাজের সঙ্গে মিমির ঘনিষ্ঠতা, পরে তাঁদের বিচ্ছেদ—সবই সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছিল।
২০১৮ সালের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ চক্রবর্তী ও মিমি চক্রবর্তীর সম্পর্ক একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় প্রকাশ্য গুঞ্জনে পরিণত হয়েছিল। তাঁরা সম্পর্কের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও একসঙ্গে তাঁদের দেখা যেত। পরে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। রাজের পক্ষ থেকে মিমির এক তুর্কি বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। মিমি অবশ্য সেটি অস্বীকার করে বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি বলে জানিয়েছিলেন।
এ সম্পর্কের পর মিমির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কবে বিয়ে করবেন, কাকে বিয়ে করবেন—এমন প্রশ্ন তাঁকে নিয়মিত শুনতে হয়েছে; কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালেই রেখেছেন অভিনেত্রী।
‘আমি এখন কারও সঙ্গে প্রেমও করি না’
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে টিভি নাইন বাংলার এক ভিডিও প্রতিবেদনে মিমির বিয়ে নিয়ে বক্তব্য আবারও আলোচনায় আসে। সেখানে আগামী বছর বিয়ে করবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘এখন বিয়েটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’ এরপর আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ‘আমি এখন কারও সঙ্গে প্রেমও করি না, ফলে বিয়ে কী করে করব?’
নিজের মতো করে বাঁচার অভ্যাস
মিমি চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘প্রলয়’, ‘বুনো হাঁস’, ‘গানের ওপারে’সহ নানা কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতেও যুক্ত হন।
অভিনয় ও রাজনীতির ব্যস্ততার মধ্যেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি তিনি। প্রেম বা বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কখনো রসিকতা করেছেন, কখনো সরাসরি নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এ কারণেই নতুন বিয়ের গুঞ্জন তাঁর ভক্তদের কাছে এতটা আগ্রহের। মিমি কি সত্যিই নিজের পুরোনো অবস্থান বদলেছেন? নাকি এটিও আরেকটি গুঞ্জন, যার উত্তর সময়ই দেবে?
পাহাড়ে বিয়ের গুঞ্জন
১২ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শেষে মিমি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন। কালিম্পংয়ে বিয়ের আয়োজন হতে পারে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনেও কালিম্পংয়ে বিয়ের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পাত্র হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার কথা বলা হয়েছে।
তবে পাত্রের নাম, তাঁদের সম্পর্কের শুরু কিংবা বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ—কোনোটিই মিমি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।