কলকাতার অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে আগামীকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় কলকাতার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করা হয়েছে। সায়নী ঘোষ শুধু অভিনেত্রীই নন, তিনি এখন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতিও।
ইডি স্কুলশিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতর অভিযোগ পেয়ে গত জানুয়ারি মাসে যুব তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুন্তল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে। কুন্তল ঘোষের বাড়ি হুগলিতে। অভিযোগ উঠেছে তিনি স্কুলশিক্ষক নিয়োগে ৩০০ প্রার্থীর কাছ থেকে অন্তত ২০ কোটি রুপি ঘুষ নেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইডি গ্রেপ্তার করে কুন্তল ঘোষকে। ইডির জেরায় উঠে আসে সায়নী ঘোষের নাম। অভিযোগ কুন্তলের জমিজমা ক্রয় ও বিক্রয়সহ অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন সায়নী ঘোষ। এমনকি তৃণমূলের বিভিন্ন সভায় কুন্তলের সঙ্গে সায়নী ঘোষকেও দেখা যায়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে সায়নী ঘোষকে জেরা করার জন্য ইডি নোটিশ পাঠায়। তাতে বলা হয়, কাল শুক্রবার বেলা ১১টায় ইডির কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সের সদর দপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হতে হবে।
একই সঙ্গে ইডি জানিয়ে দেয়, তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে বিগত ১০ বছরের আয়করসংক্রান্ত নথি, তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি। যদিও ইডি ইতিমধ্যে ঘুষের টাকা জমা দেওয়া ব্যাংকের তথ্য পেয়েছে।
গতকাল সকালে কলকাতার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সায়নী ঘোষের দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড়ের বাসভবনে গেলে সেখানে খোঁজ মেলেনি সায়নী ঘোষের। শুধু তাঁর বাবা বারান্দায় এসে জানিয়ে যান সকাল থেকে সায়নী বাড়িতে নেই। কোথায় গেছেন, জানি না।
সায়নী এর আগে ২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে হেরে যান বিজেপির নারী প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে।
সায়নী ঘোষ কলকাতার একজন চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেত্রী। ২০২১ সালে মার্চে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনকালীন যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। সায়নী ইডির নোটিশ পাওয়ার পর ইডির দপ্তরে যাবেন কি না, জানাননি। তবে এটুকু জানা গেছে, তিনি রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচার নিয়ে ব্যস্ত আছেন। যদিও গতকালকের বেলেঘাটার একটি সভায় যোগদানের কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।