একটি নাটকের শুটিংয়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে চড় মারার অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেত্রী সামিয়া অথই। সামিয়া অথই অভিযোগ করেন, গতকাল মানিকগঞ্জে নাটকটির শুটিং চলাকালে তাঁকে চড় মেরেছেন তানজিন তিশা। তানজিন তিশার দাবি, চরিত্রের প্রয়োজনে চড় মেরেছেন তিনি।
গতকাল সন্ধ্যায় এক ফেসবুক লাইভে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন সামিয়া অথই। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড়। এর মধ্যে আজ সকালে বিবৃতি দিয়েছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ।
সামিয়া অথই ও তানজিন তিশার মধ্যকার ঘটনাটিকে ইঙ্গিত করে সংগঠনটি লিখেছে, ‘কোনো সদস্যের সাথে কোনো প্রকার জটিলতা বা মতভেদ সৃষ্টি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে অবহিত না করে উপরন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের আচরণবিধির পরিপন্থী।’
অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের ভাষ্য, এহেন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক আলোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া উচিত বলে আমরা বিশ্বাস করি। কেননা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা একতরফাভাবে উপস্থাপিত হলে তা একদিকে যেমন সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে পারে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে কোনো সদস্যের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। কেননা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করে, দোষী যে-ই হোন না কেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রায়াল’ বা জনমতের আদালত তৈরি না করে বা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার না করে বরং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’
ফেসবুক লাইভে সামিয়া অথই বলেন, ‘একটি দৃশ্যে সহশিল্পী তানজিন তিশাকে আমার চড় মারার দৃশ্য ছিল। গল্পে তিশার চরিত্রটি পাগলের। পরিচালক আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন চড় মারার দৃশ্যটি। আমি একদমই আলতোভাবে তাঁকে চড় মারি; কিন্তু ঘটনার পরেই তিশা আপুর মতো সিনিয়র শিল্পী আমাকে পাল্টা চড় মেরেছেন। শুধু তা-ই নয়, শুটিংয়ে সবার সমানে একের পর এক মেরেছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে তানজিন তিশা বলেন, ‘যে ব্যাপারটা ঘটেছে, আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটা প্লে করছি; এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে তার চরিত্রের প্রয়োজনে কাউকে মারতে পারে মানুষকে কামড় দিতে পারে পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলতে পারে। কাজটি মুক্তি পেলেই আপনারা দেখতে পারবেন কোন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।’
নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাটকের একটি দৃশ্যে চড় ছিল। চরিত্রের প্রয়োজনে দৃশ্যটি রাখা হয়। দুজন দুজনকে আস্তে করে চড় দিতে গিয়েই হয়তো কেউ বলেছে, জোরে লেগেছে। দুজন দুজনকে চড় দিতে গিয়েই ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে।’
নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা চৌধুরী, মীর রাব্বীসহ অনেকে।