কক্সবাজারে ‘মৎস্যকন্যা’ নাটকের শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন সাফা কবির। ফিরেই শুরু হয়েছে নতুন কাজের ব্যস্ততা। পাশাপাশি ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী। কাজের ফাঁকে কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে বিয়ে—যে প্রশ্নটি তাঁকে প্রায়ই শুনতে হয়।
তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূর, মেহজাবীন চৌধুরী ও সাফা কবির—সমসাময়িক সময়ের চার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীর মধ্যে তিনজনই ইতিমধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং সংসার সামলে সমানতালে কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সাফা কবিরের দিকেও ঘুরেফিরে আসে একই প্রশ্ন—কবে বিয়ে করছেন তিনি? তবে এ বিষয়ে কোনো পারিবারিক চাপ নেই বলে জানালেন সাফা।
ব্যবসায়ী বাবা ও গৃহিণী মায়ের একমাত্র সন্তান সাফা কবির। ২০১৩ সালে ‘অল টাইম দৌড়ের ওপর’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে পথচলা শুরু। এক যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয়কে ভালোবেসে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। শুরুতে এই পেশা নিয়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নানা কথা শুনতে হলেও, মা–বাবার পূর্ণ সমর্থনই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
বিয়ে প্রসঙ্গে সাফা কবির বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে কোনো তাড়াহুড়া নেই। আব্বু–আম্মু সব সময় আমাকে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাঁরা চাইলে অনেক কিছু প্রত্যাশা করতে পারতেন—চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়া। কিন্তু তাঁদের কথা ছিল, যেটা মন চায় সেটাই করো, ভালো থাকো। আমি যখন অভিনয়ে আসি, তখন আশপাশের মানুষের কাছ থেকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। আব্বু–আম্মুকেও শুনতে হয়েছে। কিন্তু তাঁরা সব সময় বলেছেন, সাফা যেটা চাইবে সেটাই হবে।’
এক যুগের পথচলায় সেই সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে বলে মনে করেন সাফা। তিনি বলেন, ‘যাঁরা একসময় কটু কথা বলতেন, এখন গর্ব করে বলেন—সাফা তো আমাদের মেয়ে। আব্বু–আম্মুকে বলে, আপনার মেয়ের অভিনয় আমরা দেখি, ভালো করেন। এসব শুনতে এখন ভালো লাগে। মনে হয়, তাঁরা তাঁদের মেয়েকে নিয়ে খুশি। আর তাঁরা আমার বিয়ে নিয়েও কোনো চাপ দেন না।’
বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সাফা কবির বলেন, ‘আমি এই কারণে বিয়ে করতে চাই না যে আমার বয়স হয়ে গেছে বা সবাই বিয়ে করে ফেলেছে। আমি এমন একটা সময়ে বিয়ে করতে চাই, যখন আমার জীবনে এমন একজন মানুষ আসবে, যার সঙ্গে সারা জীবন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই থাকা যাবে। মানুষ বলবে বলে বিয়ে নয়। হুটহাট বিয়ে করে কিছুদিন পর ভেঙে যাওয়ার চেয়ে, আস্থার সঙ্গে বিয়ে করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সে রকম কাউকে কি খুঁজে পেয়েছেন? প্রশ্নে সাফার উত্তর, ‘এখনো হয়নি। আমি অনেক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। সামনে হয়তো হবে। দোয়া করি, আল্লাহ একজন ভালো মানুষ দেবেন। আমার বিশ্বাস আছে।’ ভালো মানুষ বলতে কী বোঝেন—এ প্রশ্নে সাফা কবিরের উত্তর বেশ সহজ ও বাস্তব। তিনি বলেন, ‘দেখতে খুব সুদর্শন বা অসাধারণ হতে হবে—এমন কিছু না। ভালো মানুষ মানে, যে মন থেকে ভালো, সৎ, স্বচ্ছ, যত্নশীল, বোঝাপড়াসম্পন্ন ও সহযোগিতাপরায়ণ। যার সঙ্গে জীবনটা আরাম করে কাটানো যাবে।’
নিজের জীবনযাপন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়জগতের ঝলমলে উপস্থিতির বাইরে তাঁর জীবন যে বেশ সাদামাটা, সেটাও জানালেন। ‘আমি কাজ না থাকলে বাসায় থাকতে ভালোবাসি। বাসার খাবার খাই, নিজে রান্না করি। ভাত–মাছ আমার সবচেয়ে প্রিয়, বিশেষ করে ইলিশ,’—হেসে বলেন সাফা।
এক যুগের অভিনয়জীবন, আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত আর জীবন নিয়ে পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি—সব মিলিয়ে সাফা কবির যেন নিজের সময়টুকু নিজের মতো করেই কাটাতে চান। বিয়ে হোক বা ক্যারিয়ার—তাড়াহুড়া নয়, বরং আস্থা, ভালোবাসা আর মানসিক শান্তিকেই সবচেয়ে বড় শর্ত হিসেবে দেখছেন এই জনপ্রিয় তারকা।