
অভিনয়শিল্পী হাসান মাসুদের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বেশ কিছু গ্রুপে ঘুরছে। সেই ছবিটি কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, সেটা জানেন না এই অভিনেতা। ছবিটি প্রসঙ্গে হাসান মাসুদ বলেন, ‘এমন ছবির সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই, আমি বিব্রত।’
ছবিটিতে দেখা যায়, একটি পোস্টার ধরে রয়েছেন হাসান মাসুদ। সেখানে লেখা, ‘যদি ফ্যাসিস্ট দিয়ে ভালো কিছু হয়, তবে ফ্যাসিস্টই ভালো।’
ছবিটি দেখে মনে হতে পারে এটা কোনো বিজ্ঞাপন বা কোনো একটি প্রচারণার অংশ। ছবিটি নিয়ে আজ সোমবার কথা হয় এই অভিনেতা সঙ্গে। শুরুতেই তিনি ছবি দেখে বলেন, ‘এই ধরনের কাণ্ড কারা করছে, তা আমি জানি না। এটা কোনোভাবেই আমার না। এই ছবি সম্ভবত এআই দিয়ে তৈরি করা। কেউ আমাকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছেন।’
পরে জানা যায়, এআই দিয়ে তৈরি করা এই ছবি। হাসান মাসুদ বলেন, ‘এগুলো খুবই বিব্রতকর। এমন কোনো কিছুর সঙ্গে আমি কোনোভাবে যুক্ত নই। হয়তো আমাকে পছন্দ করেন না, এমন মানুষেরা এটা তৈরি করেছেন। এমন ঘটনায় আমাদের বিব্রত হতে হয়। এখন সময় ভালো না। ছবিটাকে অনেকেই বিশ্বাস করবেন। মনে করবেন, আমি এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সত্য এটাই, এটি ভুল ছবি।’
এ দিকে গত বছর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসান মাসুদ। তখন দীর্ঘ সময় তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয়। তিনি জানালেন, বর্তমানে বেশির ভাগ সময় বাসাতেই থাকেন। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। ‘আমাকে এখন শরীরের প্রতি খুবই যত্ন নিতে হয়। এখনো নিয়মিত শুটিং করতে পারছি না। কারণ, শুটিং শেষ হয় রাত ১০টা পর, কিন্তু ৮টার মধ্যেই আমাকে ওষুধ খেতে হয়। যে কারণে আপাতত শুটিং থেকে দূরে রয়েছি’, বলেন হাসান মাসুদ।
হাসান মাসুদ জানান, ইতিমধ্যে সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। সেগুলোতে নাম লেখাননি। ‘একটি রাজনৈতিক গল্পের সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। আমি করিনি। আমি নিজেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। যে কারণে কারও পক্ষে–বিপক্ষে যায়, এমন কোনো কাজ করতে চাই না। বিজ্ঞাপনের কিছু কাজ আছে, সেগুলো করছি।’
অভিনেতা হাসান মাসুদের ছবিটি প্রথম আলো যাচাই করে একাধিক অসংগতি শনাক্ত করে। ছবিতে হাসান মাসুদের উচ্চতা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। তাঁর হাতে ধরা পোস্টারটির লেখা অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার ও ছাপার মতো নিখুঁত, যা বাস্তব কাগজের ভাঁজ ও আলোছায়ার স্বাভাবিক তারতম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুখমণ্ডল ও ত্বকও অতিরিক্ত মসৃণ এবং আলোছায়ার ব্যবহার বাস্তব ছবির তুলনায় কৃত্রিম মনে হয়।
এ ছাড়া পুরো অফিস পরিবেশটি বাস্তবসম্মত হলেও অতিরিক্ত পরিপাটি ও স্টক ইমেজের মতো সাজানো। ছবির ডান দিকে নিচে থাকা ছোট ডায়মন্ড আকৃতির চিহ্নটি গুগলের এআই মডেল জেমিনির জলছাপের ইঙ্গিত দেয়।
দৃশ্যত চিহ্নটি নিয়ে আমরা জানতে পারি, এটি মূলত গুগলের এআই মডেল জেমিনির জলছাপ। সম্প্রতি গুগল ডিপমাইন্ড ‘ন্যানো ব্যানানা’ নামে একটি উন্নত ইমেজ এডিটিং মডেল চালু করেছে, যা জেমিনির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ছবি সৃজনশীলভাবে সম্পাদনার সুযোগ দেয়।
হাইভ মডারেশন শনাক্তকরণ টুলেও ছবিটি এআইয়ে তৈরি হিসেবে শনাক্ত হয়।