ইসরাত অতিথি
ইসরাত অতিথি

‘ফারহানা’ হয়েই বদলে গেল সব

‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকে ‘ফারহানা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন ইসরাত অতিথি। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায়ও সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী। তাঁর পড়াশোনা করে অভিনয় সামলানোর গল্প শুনেছেন নাজমুল হক

একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ইসরাত অতিথির মেজ বোন। তবে তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে চাননি। অতিথির অভিনয়ের প্রতি প্রবল উৎসাহ দেখে নির্মাতাদের জানান, তাঁর ছোট বোন অভিনয় করতে আগ্রহী, তাঁর জন্য কোনো সুযোগ হবে কি না।

অডিশনে ডাক পড়ে। অডিশনের প্রায় মাসখানেক পর অতিথিকে চূড়ান্ত করেন নির্মাতারা।

ইসরাত অতিথি

ক্যামেরার সামনে প্রথম দিন
বিজ্ঞাপনচিত্রটি পরিচালনা করেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। সহশিল্পী ছিলেন জয়া আহসান। শুটিংয়ের প্রথম দিনের স্মৃতি নিয়ে অতিথি বলেন, ‘শুটিংয়ে গিয়ে সবকিছু দেখছিলাম। অনেক ভালো লাগছিল। আমার খুব বেশি ভয় লাগেনি, বরং খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। সেদিন জয়া আপু আমাকে দেখে বলেছিলেন, “তোমার নাম কী?” নাম বলার পর বললেন, “ওয়াও, তোমার নামটা তো অনেক সুন্দর।” অনেক রোদ ছিল সেদিন, আপু আমাকে বারবার বেশি করে পানি খেতে বলছিলেন।’

ইসরাত অতিথি

বিজ্ঞাপন থেকে নাটক
সেই বিজ্ঞাপনে শুটিংয়ের পরদিনই নাটকে কাজ করার সুযোগ পান অতিথি। হানিফ পালোয়ান পরিচালিত নাটকে জাহিদ হাসানের সঙ্গে অভিনয় করেন অতিথি। এর পর থেকেই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ে ডাক আসতে থাকে। এরপর শিহাব শাহীনের আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘১৪ই আগস্ট’ এ কাজ করেন অতিথি। এরপর ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্রোকার’ এ তাঁকে মোশাররফ করিমের সঙ্গে দেখা গেছে। প্রশংসিত হয়েছে শিহাব শাহীনের ‘ভাঙা পুতুল’। নাটকে অতিথির সহশিল্পী ছিলেন আফরান নিশো ও তাসনিয়া ফারিণ। এ ছাড়া ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘তিথির অসুখ’ এও অভিনয় করেছেন অতিথি।

শিশুশিল্পী হিসেবে মডেলিং, বিজ্ঞাপন, নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে একের পর এক কাজ করে ধীরে ধীরে নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়িয়েছেন অতিথি। সেই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ এর ‘ফারহানা’র মতো আলোচিত চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ করে দেয়।

মোস্তফা কামাল রাজের সঙ্গে ইসরাত অতিথি

‘ফারহানা’ হয়ে দেশজুড়ে খ্যাতি
একদিন হুট করেই ‘সিনেমাওয়ালা’ টিম থেকে ফোন করে বলা হয়, মোস্তফা কামাল রাজ তাঁর নতুন কাজের একটি চরিত্রের জন্য অতিথির কথা ভাবছেন। অফিসে গিয়ে রাজের সঙ্গে দেখা করেন অতিথি। রাজ সেদিন বলেছিলেন, ‘এটি এমন একটি চরিত্র, যেটা করলে সবাই তোমাকে আজীবন মনে রাখবে।’ ছোটবেলায় রাজের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ফ্যামিলি ক্রাইসিস-এর একনিষ্ঠ দর্শক ছিলেন অতিথি। কখনো কল্পনাও করেননি যে একদিন এই নির্মাতার নাটকেই একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন।
ইসরাত অতিথির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাঁক মোস্তফা কামাল রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’। ধারাবাহিকটিতে তাঁর অভিনীত ‘ফারহানা’ ধীরে ধীরে দর্শকদের অন্যতম প্রিয় হয়ে ওঠে।

বাবা-মায়ের সঙ্গে কোথাও বের হলে অনেকেই এখন তাঁকে চিনতে পারেন। এ প্রসঙ্গে একটি মজার অভিজ্ঞতাও শোনালেন অতিথি। ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীতে গিয়েছিলেন, ‘ঈদের রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়েছি। দেখলাম সবাই আমাকে চিনে ফেলছে। সবাই বলছিল—তুমি ফারহানা না? ওই দিনই প্রথম ফিল করলাম যে আমি কিছুটা হলেও ফেমাস হয়েছি।’

পর্দার ফারহানার সঙ্গে বাস্তবের অতিথির মিল কতটুকু? এমন প্রশ্নে স্মিত হেসে অতিথি বলেন, ‘ফারহানা আমার চেয়ে অনেক বেশি চালাক। বাস্তবে আমি অতটা চালাক নই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফারহানার লজিক বা চিন্তাভাবনা আমার সঙ্গে মিলে যায়।’

দীপা খন্দকারের সঙ্গে ইসরাত অতিথি

আগামীর স্বপ্ন
অভিনয়ে অতিথির পথচলায় পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুটিং থেকে বিভিন্ন আয়োজনে—সব সময়ই সঙ্গে থাকেন মা। আর বাবা তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক। কোন দৃশ্যে কী করা উচিত ছিল, কোনটা বেশি হয়ে গেছে, কোন অভিব্যাক্তি ঠিক হয়নি, এসব বিষয়ে পরামর্শ দেন। আর বিশেষ করে বড় দুই বোন তাঁর কাজের নানা দিক তদারকি করেন। চিত্রনাট্য নির্বাচন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা—সব তাঁরাই করেন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের নিয়মিত দর্শক অতিথি। পাকিস্তানি, থাই বা ইন্দোনেশিয়ান—বিভিন্ন দেশের নাটক ও সিনেমা দেখেন। আগে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির ছিল তাঁর প্রিয় অভিনেত্রী। এখন দুরেফিশান সালিম। সবশেষ এ অভিনেত্রীর ‘ডর-ই-নিজাত’ সিরিজটি দেখেছেন।

অতিথির পোষা বিড়ালও আছে। তার সঙ্গে ঝগড়া আর খেলাধুলা করেই কাটে অবসর। অতিথি বলেন, ‘বিড়ালের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রায়ই আমাকে হাসপাতালে গিয়ে ইনজেকশন নিতে হয়।’ (হাসি)

বাবার সঙ্গে অতিথি

কেসি মডার্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক শেষ করেছেন অতিথি, এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—কলেজজীবন। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও পড়াশোনাকে প্রথম অগ্রাধিকার দিতে চান অতিথি।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অতিথি বলেন, ‘আমি আসলে ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। যেমন আনিসুল হকের রচনা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় নির্মিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘৬৯ (সিক্সটি নাইন)’ এ শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি আন্টির করা দীপা চরিত্রটি আমার ভীষণ প্রিয়। ও রকম প্রাণবন্ত ও একটু অ্যাটিটিউড সম্পন্ন একটি চরিত্রে অভিনয় করার খুব ইচ্ছে আমার আছে।’