মায়ের সঙ্গে জোভান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
মায়ের সঙ্গে জোভান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

‘মা আমার চোখ দেখে সবই বুঝতে পারতেন’

অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভানকে আজকের অবস্থানে আসতে পেরোতে হয়েছে নানা বাধাবিপত্তি। এই পুরো সময় পাশে ছিলেন মা সোহেলী আহমেদ। মা দিবসে মা-ছেলের সেই গল্পগুলোই শোনাচ্ছেন মনজুরুল আলম

ক্যারিয়ারের শুরু দিকের কথা। নানা কারণে তখন সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। সেসব দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ফারহান আহমেদ জোভান বলেন, ‘মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই মায়ের কাছে শেয়ার করতাম না। কখনোই তাঁকে কিছু বুঝতে দিইনি। চাইনি আমার কষ্টের কথা ভেবে মা চিন্তা করুক, কষ্ট পাক। কিন্তু মা আমার চোখ, চেহারা দেখে সবই বুঝতে পারতেন। কী কারণে আপসেট, সেটা হয়তো মা জানতেন না। কিন্তু মা আমাকে সুন্দর করে বোঝাতেন কী করতে হবে, ধৈর্য ধরতে বলতেন। আগের মতোই এখনো আমার মন খারাপ থাকলে মা সবার আগে বুঝতে পারেন, ছায়া হয়ে পাশে থাকেন।’

মায়ের অনুপ্রেরণা
জোভান অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল ‘ইউনিভার্সিটি’। সপ্তাহে দুদিন প্রচার হতো। সেই দুই দিন অনেক আগে থেকেই টেলিভিশনের সামনে জোভানের পরিবারের সবাই বসে থাকতেন। ‘বিশেষ করে লক্ষ করতাম আমার অংশের সময় খুবই আনন্দ নিয়ে ছেলের অভিনয় দেখছেন মা। যতক্ষণ আমার উপস্থিতি থাকত, ততক্ষণ মায়ের অনুভূতির প্রকাশ থাকত অন্য রকম। এমন ছোট ছোট ঘটনার মধ্যে দিয়ে মা আমাকে অনুপ্রাণিত করতেন। আমাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস, শক্তি, সমর্থন জুগিয়েছেন,’ বলেন জোভান।

মায়ের সঙ্গে প্রিয় স্মৃতি
শৈশবে শুক্রবার দিনটার জন্য অপেক্ষা করতেন জোভান। দিনটা এলেই ছেলের হাত ধরে বাপের বাড়ি ছুটতেন মা। ঢাকাতেই ছিল জোভানের নানাবাড়ি। ‘নানা, নানি, মামা, মামাতো ভাই–বোনেরা থাকতেন। কোনো শুক্রবারই বাদ যেত না। নানাবাড়ি গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতাম, ক্রিকেট খেলতাম। আবার মায়ের সঙ্গে হাত ধরে ফিরতাম। সেই দিনগুলো এখনো স্মরণীয় স্মৃতি। তবে শুটিংয়ের কারণে এখন অনেক সময় মায়ের আবদার সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয় না। কখনো কখনো এটা মন খারাপ করে। কিন্তু মা অভিমান করলেও শুটিংয়ে যেতে বারণ করেননি। আমার ভালোটাই দেখেছেন মা,’ বলেন জোভান।

পাশে ছিলেন মা
প্রথম যখন অভিনয় করবেন ঠিক করলেন, মাকে জানালেন জোভান। ভেবেছিলেন হয়তো মা বাধা দেবেন। কিন্তু মা তাঁকে পুরো সমর্থন করেন। এ জন্য মাকে নানা কথাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু ছেলের পছন্দে কখনো বাধা দেননি। জোভান বলেন, ‘নীরবে নিভৃতে একমাত্র মা আমাকে অভিনয়ে সমর্থন করেছেন। অন্যরা করেনি। জানান দিয়ে কিছু বলতেন না আম্মা। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন অভিনয়ে আপত্তি নেই। এভাবে সহযোগিতা করতেন। যেমন রাতে না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন, গেট খুলে দিতেন, খাবার রেখে দিতেন, খাবার গরম করে রাখতেন। অভিনয়ের কথা শুনতে চাইতেন। বুঝতাম মা চান আমি অভিনয় করি।’

মায়ের চোখে জোভান
ছোটবেলায় জোভান খুবই শান্ত ছিল। সব সময় মায়ের কথা শুনত। একদমই লক্ষ্মী বাচ্চা ছিল—এমনটাই বললেন জোভানের মা সোহেলী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখনো আমিসহ পরিবারের সবার প্রতি অনেক কেয়ারিং ও (জোভান), অনেক গোছানো, এই গুণগুলো মা হিসেবে আমাকে গর্বিত করে।’ অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চান জানতে পেরে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন মা। তিনি বলেন, ‘আমার মনে সুপ্তবাসনা ছিল ছেলে অভিনয় করুক। পরে প্রথম যেদিন ছেলেকে টিভি পর্দায় দেখলাম, সেদিন আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। সবাইকে ফোন করে বলেছি, আজ জোভানের নাটক আসছে, মিস যেন না করে। ছেলেকে পর্দায় দেখলে ভীষণ ভালো লাগত।’
কিন্তু ছেলে আজকের অবস্থানে আসবে, সেটা কখনোই ভাবেননি। তবে অভিনয় নিয়ে ছেলে ভালো থাকবে, সেটা বুঝেছিলেন। এই মা বলেন, ‘আমার ছেলেটা পরিশ্রমী। যত ব্যস্তই থাকুক পরিবারে সেই ছোট্ট ছেলের মতোই রয়ে গেছে। অনেক সময় মা হিসেবে চাওয়া থাকে, আমাদের সঙ্গে সময় কাটাক, একটু বিশ্রাম নিক। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ছেলে সেই সময় পায় না। এটা কখনো কখনো মন খারাপ করে। এটাও বুঝি ওর কমিটমেন্টের কথা। সব সময়ই মা হিসেবে ওর পাশে থেকেছি। এখনো তার মন খারাপ দেখলে একটা কথাই বলি, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো।’
ছোটবেলায় জোভান খুবই শান্ত ছিল। সব সময় মায়ের কথা শুনত। একদমই লক্ষ্মী বাচ্চা ছিল—এমনটাই বললেন জোভানের মা সোহেলী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখনো আমিসহ পরিবারের সবার প্রতি অনেক কেয়ারিং ও (জোভান), অনেক গোছানো, এই গুণগুলো মা হিসেবে আমাকে গর্বিত করে।’ অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চান জানতে পেরে ভীষণ খুশি হয়েছিলেন মা। তিনি বলেন, ‘আমার মনে সুপ্তবাসনা ছিল ছেলে অভিনয় করুক। পরে প্রথম যেদিন ছেলেকে টিভি পর্দায় দেখলাম, সেদিন আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। সবাইকে ফোন করে বলেছি, আজ জোভানের নাটক আসছে, মিস যেন না করে। ছেলেকে পর্দায় দেখলে ভীষণ ভালো লাগত।’

কিন্তু ছেলে আজকের অবস্থানে আসবে, সেটা কখনোই ভাবেননি। তবে অভিনয় নিয়ে ছেলে ভালো থাকবে, সেটা বুঝেছিলেন। এই মা বলেন, ‘আমার ছেলেটা পরিশ্রমী। যত ব্যস্তই থাকুক পরিবারে সেই ছোট্ট ছেলের মতোই রয়ে গেছে। অনেক সময় মা হিসেবে চাওয়া থাকে, আমাদের সঙ্গে সময় কাটাক, একটু বিশ্রাম নিক। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ছেলে সেই সময় পায় না। এটা কখনো কখনো মন খারাপ করে। এটাও বুঝি ওর কমিটমেন্টের কথা। সব সময়ই মা হিসেবে ওর পাশে থেকেছি। এখনো তার মন খারাপ দেখলে একটা কথাই বলি, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো।’