পরিচালক কিংবা অভিনেতার কোনোটিই তিনি হতে চাননি

সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: ফেসবুক থেকে
সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: ফেসবুক থেকে

তিনি ১৯৭৭ সালে থিয়েটার–চর্চা শুরু করেন। তখন ভাবতেন, নাটকের মাধ্যমে সামাজিক অসংগতি তুলে ধরবেন, মানুষকে সচেতন করবেন। এর মধ্যেই ১৯৮১ সালে হঠাৎ করেই টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। আর ১৯৯৬ থেকে নাটক পরিচালনায় নাম লেখান। কিন্তু পরিচালক কিংবা অভিনেতার কোনোটিই তিনি হতে চাইনি। তখন ভবিষ্যতে কী করবেন, সেটাও ভাবেননি। তিনিই এখন ভক্তদের কাছে পরিচিত মুখ সালাহউদ্দিন লাভলু। বহু জনপ্রিয় নাটকের যেমন নির্মাতা, তেমনি অভিনেতা হিসেবেও তিনি আলোচিত। এই শিল্পীর আজ জন্মদিন। ১৯৬০ সালের ২৪ জানুয়ারি তাঁর জন্ম।

সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: সংগৃহীত

তিনি একই সঙ্গে বহু নাটকে অভিনয় ও পরিচালনা করেছেন। কখনো কোনো নাটকে দেখা যায় শুধু পরিচালনা করতে। আবার পেশা হিসেবেও তাঁকে নিয়মিত অন্য পরিচালকের পরিচালনায় অভিনয় করতে দেখা যায়। তাঁর আসল জায়গা কোনটা? এমন প্রশ্নে এর আগে লাভলু প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘পরিচালনাই আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি। কিন্তু এখন পরিচালনা করতে ভালো লাগে না। যাঁদের জনপ্রিয়তা, ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে টেলিভিশন নাটক দিয়ে, তাঁরা এখন টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করতে চান না। অনেকেই সময়মতো সেটে আসেন না।’

সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: সংগৃহীত

সেই সময় তিনি অভিমান করে আরও বলেছিলেন, ‘দেখা যায়, ১০ দিনের শুটিংয়ে চার দিনই বসে থাকতে হয়। অথচ “রঙের মানুষ”, “ভবের হাট”, “ঘরকুটুম” নাটকগুলোর শত শত পর্ব এসব শিল্পীকে নিয়ে করেছি। এখন তাঁদের নিয়েই কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে যাঁরা তারকা, তাঁদের নিয়ে ধারাবাহিক নাটক বানানো অসম্ভব। এতে তাঁদের হয়তো দোষ নাই, কারণ, তাঁরা এখন ওটিটিসহ নানা মাধ্যমে কাজ করছেন।’

দর্শকদের সচেতনতার বার্তা দিতেই তিনি একসময় শিল্পমাধ্যমে কাজ করতে এসেছিলেন। তিনি মনে করেন সচেতনভাবে বিভিন্ন গল্প দিয়ে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আগের সেই দিনগুলোকে খুব মিস করেন। এমনকি সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা তাঁকে কষ্ট দেয়।

সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: সংগৃহীত

এই পরিচালক ও অভিনেতা বলেন, ‘আমরা ডেডিকেশন, আন্তরিকতা নিয়ে নাটকের চর্চা শুরু করেছিলাম। এখন আর তা নেই। এটাই কষ্ট দেয়। দ্বিতীয়ত, আমার এত বছরের ক্যারিয়ার, এখন অনেকেই দেখছি হুট করে বড় কিছু হয়ে গেছে, আবার হারিয়েও গেছে। একজন শিল্পী যে মৃত্যুর আগপর্যন্ত শিল্পী, এই বিশ্বাস তাদের মধ্যে নেই। শিল্পীদের আত্মসম্মানবোধ থাকতে হবে, সবাইকে গুরুত্বও দিতে হবে। কিন্তু অনেকেই শিল্পী হয়েও আন্তরিক নয়। এ কারণে অনেকে জনপ্রিয়তা পেয়েও হারিয়ে গেছে। তারা থাকলে এই অঙ্গনটা আরও বেশি সমৃদ্ধ হতো।’

সালাহউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘ভবের হাট’, ‘রঙের মানুষ’, ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘ঘরকুটুম, ‘আলতা সুন্দরী’, ‘হাড়কিপটে’সহ বহু নাটক। বর্তমানে তিনি ‘ফুলগাঁও’সহ ঈদের বেশ কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত। জানালেন, সর্বশেষ শুটিং করেছেন ‘সত্য সংকট’ নামের একটি নাটকের। পরিচালনার পাশাপাশি তিনি অভিনয়ও করেছেন। তাঁর সহশিল্পী ছিলেন জাকিয়া বারী মম। এটি লিখেছেন আসাদ সরকার।

সালাহউদ্দিন লাভলু ও মম। ছবি: লাভলুর সৌজন্যে