
হঠাৎই চীনের বক্স অফিসে ধীরগতি। যদিও হলিউড সিনেমাকে হটিয়ে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে বক্স অফিসের শীর্ষে জায়গা করেছে নিয়েছে স্থানীয় একটি সিনেমা ‘ইটস ওকে’। পারিবারিক গল্পের সিনেমাটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। কারণ, বেশির ভাগ অ্যানিমেশন ও অ্যাকশন সিনেমাগুলোই শীর্ষস্থান দখল করে। তবে সামগ্রিকভাবে গত এক বছরের তুলনায় চীনের সিনেমার আয় ৫০ ভাগ কমেছে। দেখে নিতে পারেন সর্বশেষ চীনের বক্স অফিসের সেরা ৫ সিনেমার তালিকা।
আর্টিজান গেটওয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ‘ইটস ওকে’ ছবিটি আয় করেছে ৩১ মিলিয়ন ইউয়ান বা ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। চায়না ফিল্ম প্রযোজিত এবং ইয়াঙ লিনা পরিচালিত ছবিটির মোট আয় এখন দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। কেন সিনেমাটি দর্শক দেখছেন? গল্পটি শু কে নামের এক তরুণীকে ঘিরে। যার জীবনে মায়ের আকস্মিক আগমন ঘটে। তাঁর মা এখন অসুস্থ। চিকিৎসার সংকট ঘিরে মা-মেয়ের সম্পর্ক বদলে যায়। পুরোনো পারিবারিক দ্বন্দ্বকে সামনে নিয়ে আসে মা-মেয়ের সম্পর্ক।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হলিউড সিনেমা। ইউনিভার্সালের ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ সিনেমাটি। গত সপ্তাহে সিনেমাটির আয় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। হলিউড বক্স অফিসে এগিয়ে থাকা সিনেমাটির চীনের বাজার থেকে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে হলিউডের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ তৃতীয় সপ্তাহের মতো চলছে চীনে। সিনেমার আয় গড়পড়তা। চীনের বক্স অফিসে এটি ৩ নম্বরে রয়েছে। সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করেছে ৩ মিলিয়ন ডলার আর মোট আয় বেড়ে হয়েছে ৩৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
নতুন মুক্তি পাওয়া হরর-থ্রিলার সিনেমা ‘দ্য কেইজড বাটারফ্লাই’ এই আয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে সিনেমাটির আয় কম। প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। হাও হান পরিচালিত ছবিটি একটি রহস্যময় ভিলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। যে গল্পে রয়েছে অদ্ভুত ঘটনা ও জীবন-মৃত্যুর খেলা।
এদিকে রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার সিনেমা ‘নাউ আই মিট হার’ এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সিনেমাটি ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮ মিলিয়ন ডলার।
বক্স অফিস সূত্রে জানা যায়, সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তে মোট আয় হয়েছে ২১ মিলিয়ন ডলার, যা চলতি বছরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত চীনের মোট বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ দশমিক ১ শতাংশ কম। এই তথ্য চীনের সিনেমা বাজারের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সূত্র: ভ্যারাইটি