মুক্তির আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ‘হোপ’ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। আগামীকাল বুধবার সিনেমাটির মুক্তির কথা রয়েছে।
এর মধ্যে অগ্রিম টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন দর্শকেরা। সিনেমাটি মুক্তির দুই দিন আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে শীর্ষে উঠে আসে। কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিল বলছে, গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত বিক্রি হওয়া আগাম টিকিটের ৬২ দশমিক ১ শতাংশই ছিল এই সিনেমার। এ সময় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টিকিট বুকিং হয়। চলতি বছরে কোনো সিনেমাই এত দ্রুত অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে শীর্ষে উঠতে পারেনি।
অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তবে সেটি মুক্তি পাবে ২৯ জুলাই। তাই প্রথম দুই সপ্তাহ বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পাচ্ছে না ‘হোপ’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন না হং–জিন। গত দুই দশকে তিনি মাত্র তিনটি সিনেমা বানিয়েছেন। এগুলো হলো ‘দ্য চেজার’, ‘দ্য ইয়েলো সি’ ও ‘দ্য ওয়েইলিং’। তিনটিই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। ১০ বছর পর নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরলেন এই নির্মাতা।
২০২৪ সালের মার্চে শেষ হয় ‘হোপ’–এর শুটিং। পরিকল্পনা ছিল ২০২৫ সালেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। কিন্তু দীর্ঘ পোস্ট–প্রোডাকশনের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে চলতি বছরের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে এর প্রিমিয়ার হয়।
তবে ‘হোপ’–এর সাফল্য শুধু বক্স অফিসের হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান প্লাস এম এন্টারটেইনমেন্টের ভবিষ্যৎও। গত মাসে প্লাস এম এন্টারটেইনমেন্ট, মাল্টিপ্লেক্স চেইন মেগাবক্স ও তাদের মূল প্রতিষ্ঠান জুংআং গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদালতের কাছে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করে। এতে কোরিয়ার চলচ্চিত্র ব্যবসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘হোপ’ ভালো ব্যবসা করলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
সরকারও দর্শক বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। ৮ জুলাই থেকে ২০ লাখ ৫০ হাজার সিনেমার টিকিটে ছয় হাজার ওন করে ছাড়ের কুপন দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাবে ‘হোপ’। এর আগে মে মাসে একই কর্মসূচি চালুর পর এক সপ্তাহে দেশটির বক্স অফিসের আয় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছিল।
গত সপ্তাহে সিউলে সংবাদমাধ্যমের জন্য বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে সিনেমাটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা। কান উৎসবে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছিল, মুক্তির আগে সেগুলো আরও উন্নত করা হয়েছে।
করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমার বাজার। কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বক্স অফিসের আয় মহামারির আগের সময়ের ৭৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২০ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ। প্রথমার্ধে দেশীয় সিনেমার আয়ও বেড়েছে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ বছর সবচেয়ে বেশি দর্শক টেনেছে ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’। সিনেমাটি বিক্রি করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টিকিট। এবার সবার নজর ‘হোপ’–এর দিকে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমাটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার।
কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে