২৩ সেপ্টেম্বর গেল সিঙ্গেল দিবস।
ফেসবুকে সিঙ্গেলদের হাহাকার ছিল চোখে পড়ার মতো। পত্রিকা-টেলিভিশনওয়ালারাও ফেসবুকে কার্ড করে প্রচার করছিল দিনটির কথা। পোস্টের কমেন্টে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল সিঙ্গেলরা। মিঙ্গেলরা অবশ্য সাড়াশব্দ দিচ্ছিল না। তাদের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি।
বড় ভাই আবুল বাশার অবশ্য একটা পোস্ট করেছিলেন, ‘সিঙ্গেল জীবনই ভালো, কী বলেন সবাই?’
ভাবি কমেন্টে লিখেছিলেন, ‘বাড়ি আসো, তোমার হচ্ছে।’
বন্ধু অয়নও একটা পোস্ট শেয়ার করেছিল, ‘সিঙ্গেল আছি, শান্তিতে আছি। ভালোবাসা একটা মায়া। কাউকে ভালোবাসবেন না, তাহলে আপনার সুন্দর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।’ শেষের বাক্যটা পড়ে খটকা লাগল। এটা ওর কথা না, চিত্রনায়ক বাপ্পারাজের জনপ্রিয় ডায়ালগ।
অয়নকে কল করলাম।
‘মামা, চায়ের দোকানে আয়। এমবিএর প্রস্তুতি পরে নিস।’
খিস্তি দিয়ে বলল, ‘আসতেছি।’
চায়ের দোকানে গিয়ে দেখি, অয়ন বসে আছে। মুখটা শুকনা। মনে হচ্ছিল, সিঙ্গেল দিবস না, শোক দিবস। বললাম, ‘কী রে, প্যাটিসের মতো মুখটা শুকনা করে রাখছিস কেন?’
: মজা নিতেছিস? জানিস না, আমার জীবনে এই দিনটার কত গুরুত্ব!
: না, বলেছিস কখনো? জিগাইলেই তো প্রসঙ্গ বদলাইয়া ফেলাস।
চায়ে চুমুক দিতে দিতে ধরা গলায় অয়ন বলল, ‘আমি প্রেমে বাপ্পারাজ।’
: মানে কী?
: যাকে ভালোবাসি, সে অন্য কাউকে ভালোবাসে।
: তারপর?
: বিয়ে হয়ে যায়।
‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার দৃশ্যটি ভেসে উঠল চোখে। বকুল (বাপ্পারাজ) হেনার (শাবনাজ) বাবার কাছে জিজ্ঞাসা করছে, ‘চাচা, বাড়িঘর এত সাজানো কেন? আর হেনা কোথায়? চাচা, কথা বলছেন না যে। চুপ করে আছেন কেন?’ ‘হেনাকে তুমি ভুলে যাও। হেনার বিয়ে হয়ে গেছে।’ কথাটা শোনামাত্র বকুলের কণ্ঠ ধরে আসে। ধরা গলায় সে বলে, ‘না, না, হেনার বিয়ে হতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি না, আমি বিশ্বাস করি না।’ পরক্ষণেই নদীর কূল ধরে ‘প্রেমের সমাধি ভেঙে, মনের শিকল ছিঁড়ে, পাখি যায় উড়ে যায়’ গানটি গাইতে গাইতে বকুল ছুটতে থাকে।
অয়নকে ওই দৃশ্যে কল্পনা করতেই মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল। হাসি লুকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, ‘তুই প্রেম করিস, না বিয়েতে ডেকোরেটরের ব্যবসা করিস?’
খিস্তি দিয়ে বলল, ‘তুই প্রেমে সফল?’
গর্বের সঙ্গে বললাম, ‘অবশ্যই।’
: কতবার?
: সংখ্যা দিয়ে ভালোবাসা মাপা যায় না, বন্ধু। আমি প্রেম করেছি, প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি। তবে চুমু খাইনি কিন্তু। আর জানিস, প্রেমিকা তো আমাকে এখন ভাই ডাকে।
‘কস কী, মামা?’ বলে চমকে উঠল অয়ন। তারপর বলল, ‘তুই তো জসিম মামা।’
: মানে কী, ভেঙে ক, বেটা। মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।
: কথা তো শুনবি না। কত করে বলি, বাংলা সিনেমা দেখ। সিনেমায় নায়ক জসিমের ভাগ্যের সঙ্গে তোর ভাগ্যের মিল আছে রে পাগলা। এক সিনেমায় তিনি নায়িকার প্রেমিক, আবার অন্য সিনেমায় একই নায়িকার ভাই! তোরও হয়েছে সেই দশা। তুই হলি বাস্তবের আধুনিক জসিম। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করলাম। অয়ন বলল, ‘লজ্জা পাচ্ছিস কেন? তোর প্রেমের শেষ পরিণতি আত্মীয়তা। সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। এমন ভাগ্য কজনের হয়!’
প্রেমে বাপ্পারাজ হওয়া ভালো, জসিম হওয়া ভালো, নাকি সিঙ্গেল থাকা ভালো, জানি না। তবে শুনেছি, ‘সিঙ্গেল জীবনই ভালো, কী বলেন সবাই?’ লিখে পোস্ট করায় বাশার ভাইকে ভাবি সেদিন দুই ঘণ্টা দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। ও আর একটা কথা, সেদিন আমাদের খিচুড়ির মাংসটাও বেশ ভালো ছিল।