রেসক্লেইমার

বেরেক কাম করে না!

ইদানীং প্রায়ই মনে হয়, জীবনটা কেমন একঘেয়ে হয়ে গেছে। প্রতিদিন একই রুটিন। চাকরিতে যাও, বাসায় ফেরো, ঘুমাও। পরদিন আবার চাকরিতে যাও। কেমন থ্রিলশূন্য ডেইলি লাইফ!

জীবনের এই একঘেয়েমি দূর করতে আমি এখন সুযোগ পেলেই টেসলায় উঠি। আর এই টেসলায় উঠতে উঠতেই একটা ব্যাপার আবিষ্কার করলাম। এই বাহনগুলোর বেশির ভাগেরই ‘বেরেক’ থাকে না। মানে থাকে ঠিকই, কিন্তু সময়মতো কাজ করে না। থ্রিল আর কাকে বলে!

দুটো ঘটনা বলি।

একবার এক টেসলায় উঠে দেখি, জিনিসটা আসলে চলছে না, রীতিমতো উড়ছে। আর চালক মামা মুখে টিট টিট করেই যাচ্ছে।

আমি আতঙ্কিত গলায় বললাম, ‘মামা, কাহিনি কী!’ 

চালক বললেন, ‘সাউন না করলে হইব? আজকা রাস্তায় গাড়ি বেশি!’

‘বেল কই আপনার! বেল দেন।’

‘বেল লুজ, বাজে না।’

‘তাহলে এত জোরে যাওয়া লাগবে না। ব্রেক ধরেন ঠিকঠাক!’

চালক উদাস গলায় বললেন, ‘একটু আগে একটা একসিডেন করছি মামা, ব্রেকও লুজ। আপনারে নামায়াই ঠিক করুম, আল্লাহ্‌ ভরসা!’

কী আর করার! আমি জীবন হাতে নিয়ে উড়ে উড়ে বাড়ি গেলাম!

ইলন মাস্কের টেসলা এই সেদিন মাত্র উড়ল। আর আমাদের টেসলা? বেশ কয়েক বছর ধরেই উড়ছে!

আরেকবার, এক মুরব্বির টেসলায় উঠেছি। তো ৫ মিনিটের মধ্যেই অন্তত ১৫টা টেসলার পেছনে ধুপধাপ লাগিয়ে দিল চাচায়। জিজ্ঞেস করলাম, ‘মুরব্বি, ঘটনা কী?’

চাচা বললেন, ‘বেরেক কাম করে না!’

‘ওমা, ওঠার আগে বলবেন না!’

চাচা উদাস গলায় বললেন, ‘উঠছেন যখন, বয়েন। সহিসালামতে যাইতে পারলে ১০ টাকা কম দিয়েন!’

এবারও আমি উড়তে উড়তে ফিরলাম। চাচা কথা রেখেছেন, আমার কাছ থেকে ১০ টাকা কমই রেখেছেন।

সেদিন দেখলাম, ইলন মাস্ক তাঁর উড়ন্ত টেসলা গাড়ির প্রদর্শন করলেন। গাড়ি দেখে হতভম্ব। সায়েন্স ফিকশন মুভিতে যা দেখেছি এত দিন, সেটাই এখন বাস্তব! সবাই ইলন মাস্ককে ধন্য ধন্য করছে।

তবে একটা কথা। ইলন মাস্কের টেসলা এই সেদিন মাত্র উড়ল। আর আমাদের টেসলা? বেশ কয়েক বছর ধরেই উড়ছে!

ইলন মাস্ক সাহেব হয়তো জানেন না, তিনি আজ যা ভাবেন, আমরা বাঙালিরা তা বহু আগেই ভেবে ফেলি!

—বি.স.