কুশল সংবাদ

অ্যালার্জির ভয় যখন

অ্যালার্জি প্রতিরোধে ত্বক আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজার আছে এমন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ছবি: অধুনা
অ্যালার্জি প্রতিরোধে ত্বক আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজার আছে এমন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ছবি: অধুনা

এই তো ফুলকলিদের জেগে ওঠার পালা। বসন্তে ফোটে ফুল—মৃদুমন্দ হাওয়াটাও বেশ লাগে। শীতের আমেজ শেষ। কাঁপুনি থেকে পরিত্রাণ। প্রকৃতিতে প্রশান্তি। তবে এমন দিনেও সমস্যায় পড়ে কেউ কেউ। এই মানুষগুলো সবার থেকে একটু আলাদা। তাদের বলা হয় অ্যাটোপিক বা হাইপারসেনসিটিভ। নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর সংস্পর্শে এলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। বাতাসে ভেসে আসা ধুলাবালু, ঘরে জমে থাকা ধুলা বা ফুলের রেণুরাই হয়তো তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এই মৌসুমে অ্যালার্জিজনিত সমস্যাগুলো বেশি হয়। তাই যাদের এমন সমস্যা আছে, তাদের একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
অ্যালার্জির যত লক্ষণ
মো. মুজিবুর রহমান জানালেন যে জিনিসে অ্যালার্জি হয়, সেটির সংস্পর্শে এলেই নাকে অস্বস্তি হতে থাকে। নাক থেকে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁচির মতো সমস্যা তো হতেই পারে। সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করলে কাশি হতে পারে। যাদের অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ আছে, তাদের শ্বাসকষ্টও শুরু হয়ে যেতে পারে। ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান জাকির হোসাইন বলেন, অ্যালার্জির কারণে ত্বক লাল হয়ে গিয়ে চুলকাতে পারে। তবে এ ধরনের চুলকানি হলে ত্বকে শুষ্কভাব থাকে, অন্য কোনো কারণে চুলকানি হলে সাধারণত এমন শুষ্কভাব থাকে না।

চিকিৎসা
এ ধরনের সমস্যায় অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। নাক বন্ধ হলে নাকের ড্রপ বা অ্যান্টিহিস্টামিন স্প্রে নাকে ব্যবহার করতে পারেন। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এভাবে কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শ্বাসকষ্ট হলে ইনহেলার ব্যবহার করতে হতে পারে। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলে রোগীকে হাসপাতালেও নিতে হতে পারে।
ত্বকের সমস্যায় ইমোলিয়েন্টস (ত্বক আর্দ্রকারী পদার্থ) ব্যবহার করুন। ভ্যাসলিন, বেবি অয়েল, অলিভ অয়েল, ময়েশ্চারাইজিং লোশন হচ্ছে ইমোলিয়েন্টস। এ ছাড়া ওষুধের দোকানে বিভিন্ন ওষুধমিশ্রিত ইমোলিয়েন্টস (মেডিকেটেড ইমোলিয়েন্টস) পাওয়া যায়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করুন, গরম পানিতে গোসল করলে ত্বক আর্দ্রতা হারাবে।

প্রতিরোধ
যার যে জিনিসে অ্যালার্জি আছে, তাকে সেই জিনিসটির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। রাস্তায় বের হলে সার্জিক্যাল মাস্ক কিংবা হাতে তৈরি নরম কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। পুরো শরীর ঢেকে বাইরে গেলে ত্বকও বাঁচবে এসব পদার্থ থেকে। ফুলের রেণুতে অ্যালার্জি থাকলে দূরেই থাক ফুল।
গ্রন্থনা: রাফিয়া আলম