
যেকোনো একটি বই পড়ে শেষ করলেই পুরস্কার হিসেবে পাওয়া যাবে আরেকটি বই। তাও যদি হয় এমন যে বইটিও আপনি পেয়ে যাবেন একেবারে ঘরে বসে বিনা পয়সায়। তবে যেন একেবারে সোনায় সোহাগা। আরও বেশি পরিমাণ পাঠকদের বিনা মূল্যে এবং আরও সহজে বই পড়া কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবার শুরু করেছে অনলাইনভিত্তিক বই পড়া কার্যক্রম ‘আলোর পাঠশালা’। বেসরকারি মোবাইল ফোন সেবাদাতা কোম্পানি গ্রামীণফোন এ কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে। এ আলোর পাঠশালায় রয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইসমূহের বিশাল সম্ভার এবং যেকোনো পাঠক চাইলেই সেখান থেকে যেকোনো বই ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন। আলোর পাঠশালার ওয়েব ঠিকানা হলো: alorpathshala.org
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ বইগুলো নিয়মিত পড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের চেতনাজগৎকে বড় করে তোলার উদ্দেশ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের যেকোনো বয়সের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে খুব সহজেই বই পড়ার সুযোগ করে দিতেই এ কর্মসূচির সূচনা। বর্তমানে বই কেবল আর কাগজে ছাপানোর মধ্যে নেই। হাল আমলের পাঠকদের কাছে কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক বুক বা ই-বুক এবং বই পড়ার অন্যান্য ডিজিটাল ভার্সন সারা বিশ্বে অধিক জনপ্রিয়। আমাদের দেশেও সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার অনেক বাড়ার ফলে অনলাইনে বই পড়ার পাঠকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোর পাঠশালায় যে কেউ বিনা মূল্যে বই পড়তে পারবেন। ইন্টারনেট-সুবিধাসংবলিত যেকোনো ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার, ই-বুক রিডার, স্মার্টফোনে আগ্রহী যে কেউ আলোর পাঠশালার ওয়েবসাইটে ঢুকে বিনা মূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে সদস্য হতে পারবেন। এর জন্য পাঠককে নিজের জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সাম্প্রতিক সময়ে তোলা পাঠকের একটি ছবি আপলোড করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফরম যথাযথভাবে পূরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠকের মেইল ঠিকানায় সদস্য নিশ্চিতকরণ মেইল যাবে। সদস্য হওয়ার পর পাঠক বিনা মূল্যে সব বই নামিয়ে নিতে পারবেন। বর্তমানে মোট ৭২টি বইয়ের ঝকঝকে ডিজিটাল ভার্সন দেওয়া আছে সাইটটিতে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধ ই-লাইব্রেরি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
একজন পাঠক প্রতি চারটি বই পড়লে একটি করে বই পুরস্কার হিসেবে পাবেন। পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য
পাঠককে একটি মূল্যায়ন পর্বে অংশ নিতে হবে। নির্বাচিত বইয়ের ওপর প্রতি মাসের নির্ধারিত দিনে অনলাইনে মূল্যায়ন পর্বের আয়োজন করা হবে। একজন সদস্য যে বইগুলো পড়া শেষ করবেন, শুধু সে বইগুলোর ওপর মূল্যায়নে অংশ নিতে পারবেন। একটি বইয়ের জন্য একবার মূল্যায়ন পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। মূল্যায়নের ফলাফল পাঠককে অবহিত করা হবে। পুরস্কারের বই ডাকযোগে সদস্যের বর্তমান ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর এই পুরস্কার প্রেরণ করা হবে। যেকোনো প্রবাসী পাঠকও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন । তবে পুরস্কার পাওয়ার জন্য তাঁকে একটি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচির সদস্য বর্তমানে জাপানে উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী এহসান খালেদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস আমার। বিদেশে পড়তে আসার পর অনেক বাংলা বই-ই পড়ার সুযোগ হতো না। এই সাইটটি খোলার ফলে আমাদের মতো অনেক প্রবাসী পাঠক উপকৃত হবে।’
সাইটটি তৈরি করেছেন কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচির সদস্য নাসির খান, তারেক হাসান ও মো. ফারহান ইসলাম। সাইটটি বর্তমানে পরিচালনা করেন কেন্দ্রের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, গত ১৯ মার্চ সাইটটি উদ্বোধনের পর বর্তমানে নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। পাঠকদের মধ্যে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে এরই মধ্যে। এ ছাড়া এই সাইটে কেন্দ্রের প্রকাশিত বইয়ের তালিকা, বিভিন্ন তথ্য এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির অবস্থান জানা যাবে।