ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ

মুনিয়ার যত পথ

মুনিয়া ইসলাম মজুমদার
মুনিয়া ইসলাম মজুমদার

সদা হাস্যোজ্জ্বল আর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার মেয়েটিকে ক্যাম্পাসে সবাই চেনে এক নামে। চিনবেন-ই না কেন, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন—সবখানেই যে তাঁর সরব উপস্থিতি। তাঁর নাম মুনিয়া ইসলাম মজুমদার। পড়ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক অঙ্গনের প্রিয় মুখ মুনিয়া সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (জেইউডিএস)।
কীভাবে বিতর্কের সঙ্গে এ বন্ধন জানান মুনিয়া, ‘বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে স্কুলজীবন থেকেই বাবা আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। আর বিতর্ক করার রসদ জোগাতে সব সময়ই বই আর পত্রিকা পড়তে উৎসাহ দিতেন মা। তখন থেকেই বিতর্কের প্রতি আমার ভালোলাগার শুরু।’ স্কুল থেকে বিতর্কে পাওয়া সাফল্য অব্যাহত থাকে কলেজেও। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ২০০৮ সালে ভিকারুনিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিতর্ক দলের হয়ে তাঁর দল হয় চ্যাম্পিয়ন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে জেইউডিএসের হয়ে সাফল্যের সঙ্গে অংশ নেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। ২০১৩ সালে নিজে সেরা বিতার্কিক হয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্য সেন বিতর্কধারার আয়োজনে। এ ছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ২০১৩ সালে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাদের দলের রয়েছে রানার আপের খেতাব।
মুনিয়া বিতর্কে সেরা স্বীকৃতি পেয়েছেন নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। ২০১২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র আয়োজিত প্রতিযোগিতায় মুনিয়া নির্বাচিত হন ‘সেরা বিতার্কিক’। একই বছর ঢাকা মেডিকেল আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘সেরা বক্তা’ নির্বাচিত হন।
বিতর্কের বাইরে মুনিয়ার মূল আগ্রহ ভ্রমণ। মুনিয়া জানান, ‘আমি পৃথিবীটাকে নিজের মতো করে দেখতে চাই। বন্ধু, আড্ডা, বিতর্ক—এ নিয়েই আমার পথচলা।’ অনেক গুণের গুণী মুনিয়া মজুমদার এরই মধ্যে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসিবে নেপালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল পিস কনফারেন্সে অংশ নেন। ২০১৩ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতিবিনিময় কার্যক্রমের আওতায় ‘যুব দূত’ হিসেবে ঘুরে এসেছেন জাপান। একই বছর চতুর্থ সার্ক ইয়ুথ ক্যাম্পে অংশ নেন ভারতে।
পেশাজীবনে মুনিয়ার ইচ্ছা ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করা। মুনিয়া জানান তাঁর স্বপ্নের কথা, ‘সম্প্রতি আমি “টিচ ফর বাংলাদেশ”-এর ফেলোশিপ-২০১৫ পেয়েছি। অধিকারবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার প্রসারে কাজ কাজ করে যেতে চাই। আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের সব শিশু একদিন শিক্ষার সুযোগ পাবে।’