শরীর চর্চা

মেদ কমানোর মন্ত্র

মেদ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ছবি: অধুনা
মেদ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ছবি: অধুনা

দীর্ঘ সময় বসে থাকলে ভুঁড়ি বাড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পেটের মেদ বেড়ে গেলে শারীরিক সৌন্দর্য তো বাধাগ্রস্ত হয়, রোগও শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে সুস্থ থাকতে আর মেদ ঝরাতে এখন থেকে চেষ্টা করতে হবে।
শঙ্কা বাড়ে রোগের
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বাড়তি ওজন শরীরে বাড়তি রোগ ডেকে আনে।’ ওজন বৃদ্ধির কারণে যেসব রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
 অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ।
 বাড়তি ওজনের জন্য হৃদ্রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। হাঁটুর সন্ধিস্থল, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
 পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় অতিরিক্ত চর্বির জন্য।
 শ্বাসকষ্ট হওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। রোগী স্লিপ অ্যাপনিয়ায়ও ভুগতে পারে।
 ডায়াবেটিস টাইপ টু দেখা দিতে পারে মেদ বৃদ্ধির জন্য।
 যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এ ছাড়া পুরুষের শুক্রাণু কমে যেতে পারে এবং নারীদের ঋতুস্রাবও অনিয়মিত দেখা দিতে পারে।
প্রতিদিন ব্যায়াম
নিয়ম করে ব্যায়াম করতে হবে প্রতিদিন। তাতে শরীরের গঠনও সুন্দর হবে, সঙ্গে ওজনও কমবে। ফিটনেস ওয়ার্ল্ড হেলথ ক্লাবের স্বত্বাধিকারী ও প্রশিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান মেদ-ভুঁড়ি কমানোর কিছু ব্যায়াম করার পরামর্শ দিলেন।
ব্যায়ামের শুরুতেই হালকা জগিং করুন কিংবা হাঁটুন। ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে রক্তে চলমান ফ্যাট শেষ হয়ে যায় এবং সঞ্চিত ফ্যাট ভাঙতে থাকে। দড়ি লাফানো খুব ভালো ব্যায়াম, করতে পারবেন বাড়িতেই। দ্রুত ওজন কমাতে বেঞ্চ বেলি দিন। অর্থাৎ বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে দুই হাত মাথার ওপর দিয়ে নামিয়ে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল স্পর্শ করুন। এভাবে ১৫ বার করে তিনবার করুন। একইভাবে বিছানায় শুয়ে দুই হাত মাথার পেছনে রেখে শুধু পা আস্তে আস্তে ওপরে তুলুন। আবার নামিয়ে নিন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত দুদিকে প্রসারিত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের আঙুল এবং বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের আঙুল স্পর্শ করুন। এটিও ১৫ বার করে তিনবার করতে হবে।

সুষম খাদ্যাভাস
শুধু ব্যায়াম করলেই কিন্তু হবে না। করতে হবে ব্যালান্স ডায়েট।
 একবারে বেশি না খেয়ে ফেলে অল্প করে বেশিবার খেতে হবে।
 ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার খাওয়া যাবে না।
 ক্যালরি মেপে খাবার খেতে হবে। কম ক্যালরিযুক্ত খাবার দিয়ে পেট ভরাতে হবে।
 আঁশ-জাতীয় খাবার, সবজি, সালাদ, টক-জাতীয় ফল খেতে হবে বেশি বেশি।
 শরীরের বিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখতে পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে।
 ভাত, আলু, আটা, ময়দায় তৈরি খাবার, নুড্লস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থাৎ পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।
গ্রন্থনা: সিদ্ধার্থ মজুমদার