দূর থেকে দেখলে হয়তো লম্বা পিঁপড়ার সারি বলেই মনে হতো। কিন্তু দৃশ্যটি খুব কাছ থেকে দেখা। তাই মানুষ বলে চেনা যাচ্ছে মানুষগুলোকে। বহুদূর থেকে তারা আসছে পায়ে পায়ে। ক্লান্ত, অবসন্ন। তবু চলার বিরাম নেই। স্রোতের মতো চলমান মানুষের পেছনে উদ্যত মৃত্যু। সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। চোখে আতঙ্ক-উদ্বেগ, মুখে শোকের ছায়া। চলছে তারা যশোর রোড ধরে। শিশু-যুবক-মধ্য বয়সী, বৃদ্ধ নর-নারী।১৯৭১ সালে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া এই জনস্রোতকে ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন ভারতের স্টেটসম্যান পত্রিকার যে তরুণ আলোকচিত্রী, তিনিই আজ স্বনামখ্যাত রঘু রাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর ঢাকায় প্রথমবার রঘু রাইয়ের তোলা সেই আলোকচিত্রগুলোর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে বিজয়ের মাসে। বেঙ্গল গ্যালারিতে। বেঙ্গল গ্যালারি ও ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যৌথভাবে আয়োজন করেছে এ প্রদর্শনী। প্রদর্শনী উপলক্ষেই তাঁর ঢাকায় আসা। ব্যস্ততা ছিল খুব। তার ফাঁকে খানিকটা সময় দিয়েছিলেন প্রথম আলোকে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী দিন গত শুক্রবার সকালে ঢাকা ক্লাবের লনে বসে শুরু হয়েছিল আলাপচারিতা। বেশ চমকিতই হলেন শুনে যে যেখানে বসে আছেন, তার উল্টো দিকেই পথের ওপারে সেই ঐতিহাসিক স্থানটি, যেখানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্রথম আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিও ক্যামেরায় ধরে রেখেছিলেন তিনি। প্রদর্শনীতে সেই ছবিটিও আছে। ‘ঢাকা এখন অনেক বদলে গেছে। সেই মাঠটি এমন উদ্যান হয়ে উঠেছে, ভাবতে পারিনি। জায়গাটি দেখতে যাওয়া যায় না?’‘যাবে না কেন, অবশ্যই যাবে।’‘কথা শেষ হলে তবে একটু দেখতে যাব।’রঘু রাই ’৭১-এর এ ছবির নেগেটিভগুলো হারিয়ে ফেলেছিলেন। মনে তাঁর বড় খেদ ছিল এ নিয়ে। কেমন করে সেই নেগেটিভ উদ্ধার হলো, তা জানার কৌতূহলই ছিল প্রধান।তিনি জানালেন, ১৯৭৬ সালে স্টেটসম্যান ছাড়ার পর অনেকবার কর্মস্থল বদল করেছেন। দিল্লিতে বাসা বদলও করতে হয়েছে তিন দফায়। এসব পাল্টাপাল্টি করতে গিয়ে অনেক নেগেটিভের মধ্যে একাত্তরের নেগেটিভগুলো যে কোথায় ছিল, তা আর হদিস করতে পারেননি। এ চাকরি বদল, বাসা বদল করতে গিয়ে অনেক নেগেটিভই হারিয়ে গেছে। সম্প্রতি তিনি তাঁর পুরোনো নেগেটিভগুলোকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরের কাজ শুরু করেছেন। সেটি করতে গিয়েই গত বছর তাঁর সহকারী একটি প্যাকেট খুঁজে পান। সেটির গায়ে লেখা ‘বাংলাদেশ’। প্যাকেটটি পেয়ে তিনি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। শক্ত করে বাঁধা ছিল। খুলে দেখলেন নেগেটিভগুলোর একটুও ক্ষতি হয়নি। এ নেগেটিভগুলো পাওয়াকে তিনি বলেছেন ‘একটা অন্য রকম অনুভূতি। একটা দারুণ ব্যাপার’। বাংলাদেশে দৃক গ্যালারির ড. শহিদুল আলমকে সংবাদটি জানিয়েছিলেন ফোনে। প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল আলমও বলেছিলেন, ফোনে যখন রঘু রাই নেগেটিভগুলো পাওয়ার কথা তাঁকে বললেন তখন আবেগে রীতিমতো কাঁপছিল তাঁর কণ্ঠ। এ ছবিগুলোর জন্যই তিনি ভারত সরকারের পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত হন।রঘু রাই যখন এ ছবিগুলো তোলেন, তখন তাঁর ২৮ বছর বয়স। তবে সেসব দিনের স্মৃতি এখনো এতই সজীব-সতেজ যে চোখ বুজলেই সেই নিঃস্ব, উদ্বাস্তু, স্বজন হারানো, সম্ভ্রম হারানো মানুষের যন্ত্রণাকাতর মুখগুলো মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। মানুষের সেই সুতীব্র যন্ত্রণা, গভীর শোক ও বেদনাকেই তিনি ধরতে চেয়েছিলেন সাদাকালো ছবিতে। বললেন, অকপটে কবুল করলেন, ‘সে সময় ছবির কারিগরি জ্ঞানও আমার তেমন ছিল না, অভিজ্ঞতাও ছিল কম। আমি ছবির কারিগরি দিকের চেয়ে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলাম লাঞ্ছিত মানবতার চিত্র তুলে ধরতে। ঝুপঝুপ করে বৃষ্টি হচ্ছে। কর্দমাক্ত যশোর রোড দিয়ে স্রোতের মতো রাত-দিন মানুষ আসছে। মাথায় একটি পুঁটলি। ছোট শিশুটিকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন বাবা। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শরীরে সামর্থ্য নেই। কিন্তু তাঁরাও হাঁটছেন ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে কাঁদছিল ক্ষুধায়। খাবারের জন্য, দুধের জন্য। তারা যেন কিছুই দেখছিল না। শুধুই এগিয়ে চলছিল পায়ে পায়ে। তাদের চোখে-মুখে এমন এক গভীর বেদনার ছাপ, যা আমাকে খুবই বিচলিত করে তুলেছিল। আমি তাদের ছবি তুলেছি। স্টেটসম্যান-এ ছাপা হয়েছে সেই ছবিগুলো। পরে আশ্রয়শিবিরে আরও বিপর্যয়কর হয়ে উঠেছিল তাদের জীবনযাত্রা। সেই ছবিগুলো আপনারা প্রদর্শনীতে দেখতে পাবেন। মানুষগুলোর সামনে গেলে তারা কথা বলত কমই। কিন্তু এমন করে তাকাত, সেই দৃষ্টিই বলে দিত তাদের না বলা দুঃখ-কষ্টের কথা। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কোনো কৃত্রিম অভিব্যক্তি প্রকাশ বা চাহনি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না তাদের। মানুষের বেদনাকে, তাদের আতঙ্ক, যন্ত্রণা, ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তার উৎকণ্ঠাকে তুলে ধরাই ছিল আমার লক্ষ্য।’অনেক বিচিত্র বিষয়েই কাজ করছেন রঘু রাই তাঁর দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দীর কর্মজীবনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে ভূপালে গ্যাস ইউনিয়ন কার্বাইড কোম্পানির গ্যাস দুর্ঘটনা। তিনটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে সে ছবিগুলো নিয়ে। এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি পত্রিকার হয়ে কাজ করেছেন ভারতের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে। এ কাজের জন্য পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। এ ছাড়া ইন্দিরা গান্ধী ও মাদার তেরেসাকে নিয়ে তাঁর অ্যালবাম রয়েছে। আছে তাজমহল ও স্বর্ণমন্দির নিয়ে কাজ। তবে সবকিছুর মধ্যে এগিয়ে রাখলেন একাত্তর সালের কাজগুলোকেই।আপনার শ্রেষ্ঠ কাজ কোনগুলো বলে মনে হয়?একাত্তরের কাজগুলোই মনে করি আমার সেরা কাজ। এটা একটা সারাজীবনের অভিজ্ঞতা। এ ধরনের একটা ঘটনা অনেকের জীবনেই আসে না। সেদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান, গর্বিতও।সেই দিনগুলোর কোনো বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতি কি আলাদা করে মনে পড়ে?সে রকম স্মৃতি অনেকই তো রয়েছে। দুটো ঘটনা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে। আমার জন্মস্থান পাঞ্জাবে। একদিন কাজ করতে গেছি। আশ্রয়শিবিরে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা হিন্দিও ভালো বুঝতেন না, ইংরেজিও না। আমি প্রয়োজন হলে সেখানে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নিয়ে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলতাম। একদিন এক ক্যাম্পে কথাবার্তা বলার সময় তাঁরা জানতে চাইলেন, আমি কোন দেশের লোক। আমার জন্ম পাঞ্জাবে। যেই তাদের বলেছি পাঞ্জাবে, অমনি সবাই এমন ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন যে আমাকে প্রায় আক্রমণ করে বসেন। পাঞ্জাবি মানেই তখন তাঁদের কাছে ছিল অত্যাচারীর প্রতীক। পরে অবশ্য তাঁদের বুঝিয়ে বলা হলো, সব পাঞ্জাবিই বাঙালিদের ওপর হামলাকারী নয়। এরপর তাঁরা শান্ত হলেন। তবে ওই ঘটনার পর শরণার্থী শিবিরে গিয়ে আমি আর নিজেকে পাঞ্জাবি বলার ঝুঁকি নিইনি।অন্য ঘটনাটি খুব করুণ। ১৫ থেকে ১৬ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল শরণার্থী শিবিরে। পড়ে ছিল খোলা আকাশের নিচে। পথের ধারে। হয়তো অনাহারে ছিল। আমরা চেষ্টা করলাম তার নামধাম জানতে, তার সঙ্গে কে এসেছে এসব জানতে। কিন্তু কিছুই বলছিল না সে। হয়তো কথা বলার শক্তি কিংবা ইচ্ছা কোনোটাই ছিল না তার। কী এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল আমাদের দিকে। ধর্ষিত হয়েছিল মেয়েটি। জানি না, পরে তার কী হয়েছে। তবে মেয়েটির সেই দৃষ্টি এখনো ভুলতে পারি না।রঘু রাইয়ের জন্ম পাঞ্জাবে ১৯৪২ সালে। ভারত ভাগের পর পাঞ্জাবের ওই অংশটি পড়ে পাকিস্তানে। ১৯৪৭ সালে তাঁরা চলে আসেন দিল্লিতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পুরকৌশলে। কিন্তু তা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। আলোকচিত্রী হলেন কেন প্রকৌশলী না হয়ে?আসলে প্রকৌশলী হওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না। বাবা খুব করে চেয়েছিলেন। তাঁর আগ্রহেই পুরকৌশলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। তবে বরাবরই ক্যামেরা আমাকে খুব টানত। সেটি অবশ্য আমার বড় ভাইকে দেখে। তিনিই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। কারিগরি দিকগুলো শিখিয়েছেন। ওঁর নাম এস পল। লন্ডন টাইমস-এ আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর প্রচেষ্টাতেই আমার প্রথম ছবিটিও ছাপা হয়েছিল লন্ডন টাইমস-এ, ১৯৬৬ সালে। সেটি ছিল দিল্লির রাজপথে এক গাধার ছবি। ছবিটি ছাপার পর সিদ্ধান্ত পাকাপাকি, আলোকচিত্রী হব।রঘু রাইয়ের তিন মেয়ে, এক ছেলে। ছেলেও আলোকচিত্রী। নিতিন রাই। এখন কাজ করছেন কলকাতার বিখ্যাত সাময়িকী সানডেতে। নিজে এখন যুক্ত ম্যাগনাম ফটো এজেন্সিতে। কাজ করছেন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে। এ প্রসঙ্গেও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি এল। বলছিলেন, এটা খুব দুঃখজনক যে একাত্তর সালে এদেশেরই কিছু মানুষ নিজের দেশের মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়েছে, হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে। আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগে, নিজের দেশের, নিজের ধর্মের মানুষের ওপর অমন পাশবিক নির্যাতন করা কি করে সম্ভব?কথা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিও এল। তিনি বলেন, অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক চমৎকার ঘরবাড়ি হয়েছে, বড় বড় মার্কেট হয়েছে। আপনাদের সংসদ ভবনটি তো এককথায় অসাধারণ। মানুষের জীবনযাত্রার মানও দেখছি অনেক উন্নত হয়েছে। তবে সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা এসব যে সমস্যা, ভারত বা দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, বাংলাদেশকেও তা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এখানে একটা বড় পরীক্ষা রয়ে গেছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে।রঘু রাই সাদাকালো ও রঙিন উভয় মাধ্যমের আলোকচিত্রেই সমান নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। বললেন, শিল্প ও অভিজ্ঞতার ভাষা অভিন্ন বলে আমার মনে হয়। সাদাকালো বা রঙিন কোন মাধ্যমটি ভালো হবে, তা অনেকটা নির্ভর করে বিষয়ের ওপর। তবে এখন ফিল্মের ব্যবহার উঠে যাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমের সুবিধা হলো, এতে যেমন দ্রুত কাজ করা যায়, তেমনি সাদাকালো বা রঙিন যেভাবে আলোকচিত্রী চান, কাজ করতে পারেন। নতুন প্রযুক্তি আলোকচিত্রকলাকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে।এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের তরুণ আলোকচিত্রীদের কাজের প্রশংসা করলেন। বিশেষত পাঠশালার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলোকচিত্রশিক্ষার ক্ষেত্রে এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন।রঘু রাইকে অনেকেই মনে করেন ক্যামেরার কবি হিসেবে। ১৯৭১ সালে যে ছবিগুলো তিনি তুলেছিলেন, সংবাদচিত্র হিসেবে তা বিষয়বস্তুর তথ্য-উপাত্তগত সীমা অতিক্রম করে এমন এক মানবিক মহিমার সীমা স্পর্শ করেছিল, যা রূপায়িত হয়েছিল মহৎ শিল্পকর্মেও। পরে নানা বিষয় নিয়ে কাজ করলেও এ বিশেষ গুণটি সব সময়ই বজায় থেকেছে এবং বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। আলোকচিত্রকে শিল্প হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যাঁরা অনন্য ভূমিকা রেখেছেন, রঘু রাই তাঁদের মধ্যে অন্যতম।কথা শেষ হলো একটা সময়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যা তখন ছিল রেসকোর্স ময়দান, সেদিকেই যাত্রা শুরু করা গেল। সম্ভবত তিনি মেলাতে পারছিলেন না ৪১ বছর আগের স্মৃতিকে বর্তমানের অর্ধসমাপ্ত নির্মাণ আর জঞ্জালে ভরা উদ্যান নামের এ স্থানটির সঙ্গে। আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষরের স্থানটি দেখতে আগ্রহী ছিলেন। সেখানে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ। ঘুরেফিরে এলেন শিখা চিরন্তনের সামনে। নীরবে দাঁড়ালেন কিছুক্ষণ বিনম্র শ্রদ্ধায়।এক নজরে রঘু রাইরঘু রাইয়ের জন্ম ১৯৪২ সালে। পুরকৌশলে পড়াশোনা করার পর ১৯৬৫ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত স্টেটসম্যান পত্রিকায় চিফ ফটোগ্রাফার এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত কলকাতার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সানডেতে পিকচার এডিটর হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে প্যারিসের গ্যালারি ডেলপিয়েরেতে অনুষ্ঠিত রঘু রাইয়ের প্রদর্শনীর আলোকচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী হেনরি কার্টার ব্রেসন তাঁকে আলোকচিত্রীদের নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ম্যাগনাম ফটোসের জন্য নির্বাচিত করেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ ম্যাগাজিন ইন্ডিয়া টুডেতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের ওপর কাজ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, উদ্বাস্তু, পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ ইত্যাদি নিয়ে কাজের জন্য ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭২ সালে। ১৯৯২ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে প্রকাশিত ‘হিউম্যান ম্যানেজমেন্ট অব ওয়াইল্ড লাইফ ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও লাভ করেন।