
স্কোর বোর্ড বলছিল, জিততে হলে শেষ ওভারে ‘লাল জার্সি’ দলের দরকার চার রান। মাঠের বাইরে টান টান উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন সমর্থকেরা। এদিকে পশ্চিম আকাশে শেষ বেলার সূর্যও প্রায় ডুবুডুবু। নীল জার্সি পরা বোলারের শেষ ওভারের প্রথম বলেই সজোরে ব্যাট চালালেন লাল জার্সি পরনে ব্যাটার। দুর্দান্ত শট! মুহূর্তেই বল পৌঁছে গেল সীমানার ওপারে। ব্যাস, মাঠে শুরু হয়ে গেল লাল জার্সি পরুয়াদের উল্লাস। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তছাত্রী হল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো রোকেয়া হল। ২৩ মার্চ ফাইনাল ম্যাচে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ক্রিকেট দলের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে এল এই বিজয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করল। রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন হলো টানা দ্বিতীয়বারের মতো। টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল ১৩ মার্চ। পাঁচটি ছাত্রী হলের মোট পাঁচটি দল খেলায় অংশ নেয়। পাঁচটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। গ্রুপ ‘এ’-তে ছিল রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হল। আর গ্রুপ ‘বি’-তে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, কবি সুফিয়া কামাল হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল। প্রথম পর্বে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ক্রিকেট দল বাদ পড়ে। বাকি চারটি হলের মধ্যে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে নীল জার্সির বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাসুমা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ১২ ওভারের খেলায় তাঁরা ৬১ রান করেন। রোকেয়া হল ক্রিকেট দল ৬২ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নামে। ট্রফির লড়াইয়ে দুই দলের কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। তবে শেষমেশ ফজিলাতুন্নেসা হল পেরে ওঠেনি রোকেয়া হলের সঙ্গে। তিন উইকেট আর ১৪ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ক্রিকেট দলের অধিনায়ক অলরাউন্ডার মাসুমা।
‘ক্রিকেটে নারী, নারীর ক্রিকেট’ স্লোগান নিয়ে ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। ‘নারীরা যেন কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে না থাকে। ছেলেদের ক্রিকেটের সঙ্গে মেয়েদের ক্রিকেটও যেন সমানতালে এগিয়ে যায়—এই উদ্দেশ্য নিয়েই টুর্নামেন্টের পথচলা শুরু।’ বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট কমিটির সভাপতি এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক সুব্রত কুমার আদিত্য। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন রোকেয়া হল ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আসমা আফিয়া বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জন্য অপেক্ষা করেছি। আজ আমি ক্যাপ্টেন থাকাকালীন দ্বিতীয়বারের মতো রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন হলো। এটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি।’ তাঁর আশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়েও খেলবেন।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ফল খুব একটা ভালো হয়নি। শূন্য হাতেই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে জাতীয় দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমকে একটা অভয়–বার্তা নিশ্চয়ই পৌঁছে দিলেন আসমা আফিয়ারা—জাহানারা তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে!’