জীবনধারা

লোশন নাকি তেল?

.

রুক্ষতা আর শুষ্কতা যেন শীতকালের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের ত্বকে এই শুষ্কতার প্রভাব পড়ে। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে থাকে ত্বকের আর্দ্রতা। এ সময়ে ত্বকের সুরক্ষার জন্য চাই একটু বাড়তি সেবা-যত্ন।
তবে তৈলাক্ত কিছু একটা ত্বকে মেখে নিলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বলছিলেন বারডেম হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম মনিরুজ্জামান খান। শীতে তেল নাকি লোশন, কোনটা ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ভালো—সেই প্রশ্ন অনেকের।
কেন তেল বা লোশন?
ত্বকের লিপিড স্তরই সাধারণত ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে লিপিড স্তরের কার্যকারিতা কমতে থাকে। তাই ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে আমরা কৃত্রিম উপায়ে আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করি।
ডা. মনিরুজ্জামান জানালেন, লোশনের চেয়ে তেল ব্যবহারের সুবিধা বেশি। বাজারে বিভিন্ন ধরনের লোশন পাওয়া যায়। জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশিই বটে, কিন্তু তার পরও সাধারণভাবে লোশন থেকে তেল ব্যবহারের সুবিধা বেশি। কারণ লোশনের কার্যকারিতা খুব দ্রুত শেষ হয়। তাই এটি বারবার ব্যবহার করার একটি ঝামেলা থেকেই যায়। সে ক্ষেত্রে ত্বকে দিনে দুবার তেল মাখলেই যথেষ্ট।

কিন্তু অনেক ধরনের তেলের মধ্যে কোনটা ভালো, সেই প্রশ্নও আসে। বাঙালিদের মধ্যে শীতকালে সরষের তেল ত্বকে ব্যবহারের ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। তারপর এল অলিভ অয়েল। এটি সরষের তেলের চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি কার্যকর। তবে দামও অনেক বেশি। ত্বকে নারকেল তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ত্বকে ময়েশ্চারাইজার কখন বেশি দরকার?

ডা. এম মনিরুজ্জামান খান বলেন, তিনটি বিষয়ের ওপর লক্ষ রেখে ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার বাড়াতে হয়।

. বয়স: সাধারণত শিশুদের ত্বকে লিপিড স্তর ভালোভাবে তৈরি হয় না বলে ওদের ত্বক অনেক শুষ্ক থাকে। তাই শীতে শিশুদের ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে অনেক বেশি। আবার ৪০ বছর অতিক্রম করলে ত্বক ক্রমেই শুষ্ক হতে শুরু করে। তখন বেশি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়।

. রোগ-ব্যাধি: কিছু কিছু রোগ-ব্যাধির প্রভাবে ত্বক তার আর্দ্রতা হারাতে থাকে। যেমন ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের তেলগ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই তাদের ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রায় বাধ্যতামূলক।

৩. আবহাওয়া: ত্বকে সারা বছরই কম-বেশি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়, বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক। তবে, শীতকালে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের প্রতি অনেক বেশি যত্নবান হতে হয়।

পুষ্টিকর খাবারও চাই

ত্বক ভালো রাখার জন্য সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ডিম, পাকা কলা ইত্যাদি খাবার উপকারী। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ত্বকের শুষ্কতা দূর করতেও গাজর বেশ উপকারী। এ ছাড়া প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি তো পান করতেই হবে। পাকা কলা শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি ত্বককে সতেজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকে যারা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন না, তাঁদের জন্য কাঠবাদাম বেশ উপকারী। ওমেগা হলো একধরনের স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়, ত্বকের জন্যও উপকারী। ওমেগাসমৃদ্ধ কিছু খাবারের মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ডিম ইত্যাদি।

দেশি-বিদেশি প্রসাধনের তফাত কী?

বিদেশি যেকোনো পণ্যই ভালো আর দেশি পণ্যেই যত সমস্যা—এমন ধারণা একেবারেই ভুল। যাচাই-বাছাই করে ভালো ব্র্যান্ডের দেশীয় পণ্য ব্যবহার করেই দেখুন, বিদেশি পণ্যের সঙ্গে কোনো তফাত আছে কি না।   

বিকল্প সমাধানও আছে

যেকোনো ময়েশ্চারাইজারের মূল উপাদান হচ্ছে লিকুইড প্যারাফিন। আর সেটি সরাসরি লাগাতে পারেন আপনার ত্বকে। বাংলাদেশের যেকোনো ওষুধের দোকানে কিনতে পাওয়া যায় এই লিকুইড প্যারাফিন, দামও সবার নাগালে। আরও সাশ্রয় চাইলে কিনে আনুন গ্লিসারিন। পানির সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন নিয়মিত।

রাজধানীর উত্তরার একটি ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্লিসারিন সাধারণত দামে সস্তা। তাই এটির চাহিদা বেশি, শীতকালে বহুগুণ বেড়ে যায়। লিকুইড প্যারাফিনের চেয়ে গ্লিসারিন একটু ঘন, তাই পানিতে মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে হয়। সেদিক থেকেও এটি বেশ সাশ্রয়ী।